Monday, June 16, 2014

ভুতুড়ে সেই মহাকাশযান ফিরছে পৃথিবীর পথে ১৯৯৭ সালে এর মিশন সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল নাসা

ভুতুড়ে সেই মহাকাশযান ফিরছে পৃথিবীর পথে
১৯৯৭ সালে এর মিশন সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল নাসা
১৭ বছর ধরে বস্তুটি একাকী মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছিল। ডিসকো যুগ নামে পরিচিত ১৯৭০-এর দশকে একে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে নাসা এর মিশনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছিল। যারা এক সময় মহাকাশযানটি ধ্বংস করে দিয়েছিল এখন তাদের কাছে এটি আবার ফিরে আসার সংকেত দিয়েছে।
ধারণা করা হয়েছিল, মহাকাশযানটির হয়ত মহাশূন্যে ভেসে থেকে তেমন একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবে না। কেবল চাঁদকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে সৌর জগতের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নজরদারির মধ্যেই এর কর্মকা- সীমাবদ্ধ ছিল। মহাশূন্যের গহ্বর থেকে সেই মহাকাশযান ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন কয়েকজন উৎসাহী বেসামরিক গবেষক। ভূতুড়ে সেই মহাকাশযানটি এখন পৃথিবীর পথে। ৩৬ বছর মহাকাশে থাকার পরও ইন্টারন্যাশনাল সান-আর্থ এক্সপ্লোরার-৩ (আইএসইই-৩) এর অবস্থা তুলনামূলক বিচারে ভাল আছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, মহাকাশযানটি কৌশলগতভাবে চালু আছে তবে এর পরিচালনার ম্যানুয়েল কারও কাছে নেই। এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি ঠিকমতো সমম্বিত হচ্ছে না। গবেষকদের কাছে এখন মহাকাশযানটির কমান্ড ফর্মুলা বের করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। নাসা এক সময় মহাশূন্যে থাকা অবস্থায় যে মহাকাশযানটির মিশন বন্ধ করে দিয়েছিল সেটি এখন পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দিয়েছে স্কাইকর্প নামে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ডেনিস উইঙ্গো বলেছেন, ‘আমরা টেকনো- আর্কিউলজিস্ট বলে নিজেদের পরিচয় দেই।’ পেশায় প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা উইঙ্গো হারিয়ে যাওয়া মহাকাশযানের অনেক ক্লু আবিষ্কার করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসের মফেট ফিল্ডে ম্যাকডোনাল্ডেসর একটি পরিত্যক্ত ভবনকে গবেষণাগার বানিয়ে তারা রাতদিন কাজ করে চলেছেন। ভবনটি এক সময় মার্কিন নৌবাহিনীও ব্যবহার করেছিল। নাসা এখন তাদের গবেষণা ক্যাম্পাস ছোটখাট বেসরকারী উদ্যোক্তরা কাছে ছেড়ে দিচ্ছে। এ সব প্রতিষ্ঠানে অনেক উদ্যোমী মানুষ কাজ করে। উইঙ্গো বলছেন তারা বেশ আনন্দের সঙ্গে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। তিনি মনে করেন অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রকল্পের কাজ নিতে রাজি হতো না। এ বছর এপ্রিলে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। মে মাসের শেষের দিকে পুয়ের্তো রিকোতে অবস্থিত আরেকিবো অবজারভেটরি রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশযানটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এখন পর্যন্ত স্কাইকর্পই হলো প্রথম বেসামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান যারা পৃথিবীতে বসে কোন মহাকাশে পাঠানো কোন যান নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাচ্ছে। নাসা ১৯৭৮ সালে আইএসইই-৩ মহাকাশে পাঠিয়েছিল। জিমি কার্টার তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
পৃথিবী ও চাঁদের গতি প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়া ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর সৌর জগতের মধ্য দিয়ে জিয়াকোবিনি জিনার ধূমকেতুর পুচ্ছ পর্যবেক্ষণ করা মহাকাশযানটির অন্যতম মিশন ছিল। মহাকাশযানটির প্রথম ফ্লাইট ডিরেক্টটর রবার্ট ফার্কুহার এখনও বেঁচে রয়েছেন। তার বয়স এখন ৮১ বছর। তিনি একে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পের খরচ বাবদ ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি দান সংগ্রহ করা হয়েছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।

No comments:

Post a Comment