Monday, June 16, 2014

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ধরা পড়ল- ॥ অসংখ্য ভুল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ০ এক হাজার ৬৬২ জনের ফল পরিবর্তন ০ নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯০ জন ০ ৪২৬ জন ফেল থেকে পাস

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ধরা পড়ল- ॥ অসংখ্য ভুল
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
০ এক হাজার ৬৬২ জনের ফল পরিবর্তন
০ নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯০ জন
০ ৪২৬ জন ফেল থেকে পাস
বিভাষ বাড়ৈ ॥ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে সকল বোর্ডেই এবার ফলাফলে অসংখ্য ভুল ধরা পড়েছে। অনলাইন ভর্তিতে রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে পরীক্ষার্থীদের ফল। সাধারণ আটসহ দেশের ১০ শিক্ষা বোর্ডে খাতা পুনর্নিরীক্ষণে এক হাজার ৬৬২ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেরই ফল আগের তুলনায় ভাল হয়েছে। কেবল তাই নয়, ১০ বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯০ পরীক্ষার্থী। ৪২৬ শিক্ষার্থী ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে। ফল পরিবর্তন ও জিপিএ-৫ এ দুটি ক্ষেত্রেই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এখানে খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ভুল ধরা পড়ায় ফল পরিবর্তন হয়েছে ৫৯৪ জনের, আর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৪ পরীক্ষার্থী। এখানে ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে ৩৬ জন। ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির জন্য এবার রেকর্ডসংখ্যক ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১টি আবেদন জমা পড়েছে। গত বছর আবেদন পড়েছিল আট লাখ ২৬ হাজার ৪৭৮টি।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর গত দুদিন ধরেই বিভিন্নভাবে শিক্ষা বোর্ডগুলো নিজেদের ফল জানাচ্ছেন। যেখানে ফলাফলের ব্যাপক পরিবর্তনের চিত্রই ধরা পড়েছে। সোমবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে আলাদা আলাদাভাবে টেলিফোনে যোগাযোগ করে ফল পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও স্ব স্ব বোর্ডে গিয়ে ফল জানতে পারছেন। কিন্তু কেন ফলে এত পরিবর্তন? এ প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্ট সবাই বলছেন, দ্রুত ফল প্রকাশই এই অবস্থার মূল কারণ। মূলত তিন ধরনের ভুল ধরা পড়েছে। এক. কিছু খাতায় নম্বরের যোগফল ঠিক ছিল না। দুই. কিছু উত্তরের নম্বর যোগ করা হয়নি। তিন. ওএমআর ফরমে বৃত্ত ভরাটেও কিছু ভুল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা। এর আগে প্রক্রিয়া সহজ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এবার ব্যাপক সাড়া পড়েছিল খাতা পুনর্নিরীক্ষণে। জমা পড়েছিল রেকর্ডসংখ্যক আবেদন। গত ১৭ মে প্রকাশিত হয় দশ বোর্ডের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল। ফলাফলে সব সূচকেই ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। আগের সব ভাল ফলকে ম্লান করে ফলাফলের প্রতিটি সূচকেই শিক্ষার্থীদের সাফল্য চলে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ক্রমেই শতভাগ পাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত বছর রেকর্ড সৃষ্টি করে ৮৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ পাস করলেও এবার পাসের হার ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আটটি সাধারণ, একটি কারিগরি ও একটি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ তিন হাজার ৩৩১ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানেই ৫১ হাজার ৫০ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জনে। এবার শতভাগ পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। তবে গণ পাস করলেও ইতোমধ্যেই শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। নীতিমালা অনুসারে ফল প্রকাশের একদিনের ব্যবধানেই ১৮ মে থেকে সকল শিক্ষা বোর্ডে শুরু হয় টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণ কার্যক্রম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সকল বোর্ডের ওয়েবসাইট, পরীক্ষা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থান থেকে টেলিটকে আবেদন করার প্রক্রিয়া জানতে পারে পরীক্ষার্থীরা। জানিয়ে দেয়া হয়, খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করতে কাউকেই বোর্ডে আসতে হবে না। প্রতিটি বিষয়ের জন্য বোর্ড ফি (প্রতি বিষয় ১২৫ টাকা) জমা দিতেও বোর্ডে আসতে হয় না। টেলিটকে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর, বিষয় কোডসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য লিখে এসএমএস পাঠালেই হয়। মূলত প্রক্রিয়া সহজ করার পরই এর সুবিধা গ্রহণ করে সকলে। আশানুরূপ ফল না হওয়ায় সকল বোর্ডেই অসংখ্য শিক্ষার্থী আবেদন করে। এর পর গত দুুদিন ধরে ফল প্রকাশ হয়।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণ শেষে ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পরিবর্তন হয়েছে ৫৯৪ পরীক্ষার্থীর ফল। যাদের মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৪ জন। আগে ফেল করলেও তাদের মধ্যে ৩৬ জন এবার পাস করেছে। রাজশাহীতে পরিবর্তন ১২০ জনের ফল, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন, নতুন করে পাস করেছে ২০ জন। কুমিল্লায় পরিবর্তন হয়েছে ১৬৪ জনের ফল, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। যশোরে পরিবর্তন হয়েছে ৯৪ জনের ফল, জিপিএ-৫ পেয়েছ ১৭ জন। চট্টগ্রামে পরিবর্তন হয়েছে ১১৩ জনের ফল, জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২১ জন। সিলেটে পরিবর্তন ৫৪ জনের, জিপিএ-৫ পয়েছে ৯ জন। বরিশালে পরিবর্তন ৬০ জনের, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন, ফেল থেকে পাস ২০ জন। দিনাজপুরে পরিবর্তন ৮০ জনের, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন। মাদ্রাসায় পরিবর্তন হয়েছে ১৯৯ জনের ফল, নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় পরিবর্তন হয়ে ফল আগের তুলনায় ভাল হয়েছে ১৮৪ জনের। নতুন করে জিপিএ পেয়েছে ৩ জন পরীক্ষার্থী, এখানে আগে ফেল করলেও নতুন করে পাস করেছে ১৬৭ জন। ভুল সম্পর্কে প্রায় একই তথ্য দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা। তাঁরা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি ভুল পাওয়া গেছে বৃত্ত ভরাটে। যেমন দেখা গেছে, একজন ৮৫ পেয়েছে সেখানে উল্টো ৫৮ বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে। আবার দেখা গেছে, ১৩টি প্রশ্নের উত্তর দিল কেউ। একটির উত্তরের নম্বর হয়ত মোট নম্বরের সঙ্গে যোগই করা হয়নি। কোন কারণে হয়ত যোগ করার সময় ১২টি প্রশ্নের উত্তরের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করা হয়েছে। এখন ঠিকভাবে যোগ করার সময় পরীক্ষার্থীর মোট নম্বরও বেড়ে গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাড়াহুড়ো করে ফল প্রকাশের কারণে খাতা মূল্যায়নে ব্যাপক ভুল হচ্ছে। যার মূল্য দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। শেষ হয়েছে নিয়মিত অনলাইন ভর্তির আবেদন। কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির জন্য এবার রেকর্ডসংখ্যক ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১টি আবেদন জমা পড়েছে। গত বছর আবেদন পড়েছিল আট লাখ ২৬ হাজার ৪৭৮টি। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১০ শিক্ষা বোর্ডে এবার ৭৬২টি নির্বাচিত কলেজে টেলিটকে এসএমএস পাঠিয়ে ভর্তির আবেদন করতে পেরেছে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্র্থীরা। জানা গেছে, অনলাইনের জন্য ঢাকা বোর্ডের নির্বাচিত ২৩২ কলেজের বিপরীতে আবেদন পড়েছে চার লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৩টি। বরিশালে ৪৭ হাজার ৩৭টি, চট্টগ্রামে এক লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৩টি, কুমিল্লায় এক লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪টি, দিনাজপুরে ৯০ হাজার ৭৮১টি, যশোরে ৫৭ হাজার ৭১৩টি, রাজশাহীতে ৯৫ হাজার ১৯৯টি এবং সিলেটের অনলাইনের জন্য নির্বাচিত কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৪৯ হাজার ১৮১টি।
ভর্তির জন্য নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২২ জুন। এবারের ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগীয় সদরের কলেজসমূহের ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৯০ ভাগ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ বিভাগীয় সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা সন্তানের সন্তানের (নাতি) জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা প্রশাসন ও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা গবর্নিং বডির সদস্যের সন্তানের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বিজ্ঞান শাখা হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোন একটি, মানবিক শাখা হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোন একটি এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার যেকোন একটিতে ভর্তি হতে পারবে।
এ নীতিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএপ্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজী, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment