Monday, June 16, 2014

বিদ্রোহীদের ইরাক হামলা দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ

বিদ্রোহীদের ইরাক হামলা দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ
গত সপ্তাহে ইসলামী জঙ্গীরা ইরাকের মসুল শহরে সহিংস তাণ্ডব চালায়। তারা ব্যাংকগুলো থেকে কোটি কোটি ডলার লুট করে কারাগার ভেঙ্গে দিয়ে বন্দীদের ছেড়ে দেয় এবং সামরিক যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। শহরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ জঙ্গীদের মুক্তিদাতার মতো স্বাগত জানায় এবং পলায়নপর ইরাকী সৈন্যদের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে।
ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এ্যান্ড সিরিয়ার (আইসিস) যোদ্ধারা যে ইসলামী আইনের অধীনে দেশ শাসন করবে, তার কঠোর বিধিবিধান নির্দেশ করে। তারা সংক্ষিপ্ত বিচারের পর কিছুসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারী কর্মীর মৃত্যুদ- কার্যকর করে। এসব কাজ করতে জঙ্গীদের মাত্র দুই দিন সময় লেগেছিল। মাত্র কয়েক হাজার যোদ্ধা নিয়ে দলটি ত্বরিতগতিতে মসুল দখল করে আরও দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলে অনেক ইরাকী ও আমেরিকান কর্মকর্তা বিস্মিত হন। কিন্তু দলটি এসব সাফল্য বাস্তবে রাষ্ট্রগঠনের কয়েক বছরের কৌশল বাস্তবায়নেরই পরিণতি। দলটি প্রকাশ্যেই এক সুন্নী রাষ্ট্র গঠনের ধারণা প্রচার করে এসেছিল। লিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশনে কর্মরত সন্ত্রাসদমন বিষয়ক গবেষক ব্রায়ান ফ্রিশম্যান বলেন, আমরা আজ ইরাকে যা দেখছি তা ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক (আইসি) ২০০৬ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে যে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করে আসছে, অনেক দিক দিয়ে সেটিরই চূড়ান্ত রূপ। আইসি আইসিসের পূর্বসূরি। সুন্নী চরমপন্থী এ দলটি এর হিসাত্মক তৎপরতার জন্য কুখ্যাত হলে উঠলেও এটি খলিফা-শাসিত এক ইসলামী ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠন ও শাসন করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করেছে। ইরাক ও সিরিয়ার সুন্নী প্রধান ভূখ-গুলোকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে ওই রাষ্ট্র গঠন করা হবে। আবু বকর আল-বাগদাদীর নেতৃত্বে দলটি এর ধর্মীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্মমতার ও কঠোরতার পরিচয় দেয়। কিন্তু এটি জোট গঠন ভূখণ্ডে অর্জন ও সমর্পণের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা মাথায় বাস্তব মনোভাব গ্রহণ করে। ২০০৬ সালে ইরাকে সাম্প্রদায়িক লড়াই শুরু হলে সুন্নী জিহাদীরা তাদের নৃশংসতা এবং ইসলামী আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে জনসাধারণকে শত্রুভাবাপন্ন করে তোলেন। জঙ্গীরা আমেরিকার সন্ত্রাসদমন অভিযানে যোগদানকারী উপজাতীয় যোদ্ধাদের হাতে পরাজিত হয়ে পশ্চিম ইরাক থেকে মসুলের আশপাশের এলাকায় পশ্চাদপসারণ করতে বাধ্য হয়।
কিন্তু তিন বছর আগে সিরীয় সীমান্ত বরাবর গৃহযুদ্ধ বেধে গেলে দলটি এর শক্তিবৃদ্ধির নতুন নতুন সুযোগ দেখতে পায়। ফিশম্যান বলেন, আইসিস সিরিয়া থেকে মসুল আক্রমণ করার অনেক আগেই মসুল থেকে সিরিয়া আক্রমণ করে। দলটি দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করে সিরিয়ায় নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে। দলটি অস্ত্র ভাণ্ডার, তেলকূপ ও শস্যাগারের মতো সম্পদ দখলের জন্য কৌশলগত আক্রমণ শুরু করে, অথচ সরকারী বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই এড়িয়ে চলে। এরূপ লড়াইয়ে সিরিয়ার অন্য বিদ্রোহীরা কাবু হয়ে পড়ে। ইরাকে আইসিসের আক্রমণে অনেক এলাকায় সরকারী বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।

No comments:

Post a Comment