Monday, June 16, 2014

সুবহানসহ পাকবাহিনী গুলি চালালে আমার ভাই মারা যায় যুদ্ধাপরাধী বিচার সাক্ষী আব্দুল মতিনের জবানবন্দী

সুবহানসহ পাকবাহিনী গুলি চালালে আমার ভাই মারা যায়
যুদ্ধাপরাধী বিচার
সাক্ষী আব্দুল মতিনের জবানবন্দী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মোঃ আব্দুল মতিন জবানবন্দীতে বলেছেন, আব্দুস সুবহানসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৮-৯টি গাড়ি আমাদের গ্রামের বাড়ি কুলনিয়ায় আসতে দেখি। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী প্রতিবেশী হাসিনা এবং আমার ভাই-ভাবির ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে হাসিনা ও আমার ভাই ঘটনাস্থলে মারা যান এবং ভাবি রাহাতুন্নেছা আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন। আমাদের গ্রামে এই হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর সুবহান এবং পাকসেনারা দো-গাছির দিকে চলে যায়। জবানবন্দী শেষ হওয়ার পর সাক্ষীকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সংক্ষিপ্ত জেরা করেন। আজ অসমাপ্ত জেরা করার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাগেরহাটের বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ তালুকদারকে সেফহোমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনপক্ষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী আম্বিয়া খাতুন ও ২৪তম সাক্ষী আনোয়ারা বেগমের জেরা শেষ হয়েছে। আজ ২৫তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম।

আব্দুস সুবহান
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মোঃ আব্দুল মতিন জবানবন্দী প্রদান করেছেন। আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা করার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী মোঃ আব্দুল মতিন জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ আব্দুল মতিন, পিতা-মৃত নাসির উদ্দিন প্রামাণিক, মাতা-মৃত আনোয়ারা বেগম। ঠিকানা- গ্রাম-কুলনিয়া, থানা-পাবনা সদর, জেলা-পাবনা। আমার বর্তমান বয়স ৭৬ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ৩২ বছর। আমি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। ঐ সময় আমি কাপড়ের ব্যবসা করতাম। আমি বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছি। তাঁর জবানবন্দী গ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন। এ সময় প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা বেগম চমন উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দীতে সাক্ষী আবদুল মতিন বলেন, ‘৭১ সালের ১১ মে বেলা ১১টায় আবদুস সুবহানসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৮-৯টি গাড়ি আমাদের গ্রামের বাড়ি কুলনিয়ায় প্রবেশ করে। এর পর পাকিস্তানী বাহিনী চারদিকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে এবং গ্রাম ঘিরে ফেলে। এ সময় আমি, আমার ভাই সবুজউদ্দিন প্রামাণিক, ভাবি রাহাতুন্নেছা এবং বাড়ির অন্যান্য লোকজন মিলে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে আত্মগোপন করি। আমি আমার ভাই-ভাবি ও প্রতিবেশী হাসিনার কাছ থেকে একটু দূরে আত্মগোপন করেছিলাম। এ সময় দেখতে পাই, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হাসিনা এবং আমার ভাই-ভাবির ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে হাসিনা এবং আমার ভাই ঘটনাস্থলে মারা যান এবং ভাবি রাহাতুন্নেছা আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন।’
আহত অবস্থায় ভাবিকে স্থানীয় বামনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮-১০ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ভাবি মারা যান। সাক্ষী বলেন, ‘আমাদের গ্রাম আক্রমণ করার পর মিলিটারিরা খোদাবকশের বাড়িতে যায় এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া ওয়াজুদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে। দোগাছি বাজারে হরিপদ এবং বেণুকে হত্যা করে। এছাড়াও মাওলানা সোবহান এবং পাকসেনারা চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ৪-৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সাক্ষী আবদুল মতিনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান কবীর। আংশিক জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

সৈয়দ মোঃ কায়সার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী আম্বিয়া খাতুন ও ২৪তম সাক্ষী আনোয়ারা বেগমের জেরা শেষ হয়েছে। সোমবার আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম এ জেরা করেন। আজ ২৫তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেন।
প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী আম্বিয়া খাতুন ও ২৪তম সাক্ষী আনোয়ারা বেগমের জেরা করেন আব্দুস সুবহান তরফদার। এ সময় প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১১ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৮টি অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ১৬টি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম কায়সারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ১৫ মে বুধবার কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২১ মে বিকেলে কায়সারকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আব্দুল লতিফ তালুকদার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাগেরহাটের বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ তালুকদারকে সেফহোমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ সোমবার ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছে।
সোমবার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রেজিস্ট্রার অফিসে এই আবেদন করেন। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনকণ্ঠকে বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে আসামি আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি ট্রাইব্যুনাল যদি এই আবেদন মঞ্জুর করে তা হলে আসামির কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। কারণ এই মামলার আরও দু’জন আসামিকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
১০ জুন ট্রাইব্যুনালের কাছে আব্দুল লফিত তালুকদারের গ্রেফতারি পরোয়ানা জরির আবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। ওই দিন শুনানির পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা জারির পর ১১ জুন বুধবার ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা। পরে তাকে কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা এবং ২০০ জনকে ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ তালুকদারে বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলাটি দায়ের করেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment