কচুরিপানা- কখনও সৌন্দর্যবর্ধক, আবার কখনও জঞ্জাল
ছয় পাপড়ির ফুটন্ত ফুল, খাল-বিলের শোভা বাড়ায়
শেখ আব্দুল আওয়াল ॥ শস্য-শ্যামল সবুজে ভরা বাংলাদেশে বন-জঙ্গল-জলাশয়ে নানা জাতের ফুল দেখতে পাওয়া যায়। এ সবের মধ্যে কিছু ফুল আমাদের কাছে ফেলনা মনে হলেও প্রকৃতির কাছে এটি বেশ সৌন্দর্যবর্ধক এবং দৃষ্টিনন্দন। তেমনি একটি ফুল বিভিন্ন নদীনালা, খালবিল ও জলাশয়ে ফুটে প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায়, যাকে আমরা ‘কচুরিপানার ফুল’ বলে থাকি। বাংলাদেশে কচুরিপানা ও তার ফুল খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও বিভিন্ন সময়ে মাছ, গবাদিপশুর খাদ্য ও জৈব সার হিসেবে কচুরিপানা ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে কৃষকরা বিভিন্ন সময় আলু, পটোলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কচুরিপানা থেকে জৈব সার তৈরি ব্যবহার করে আসছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এর ফুল জলাশয় থেকে উঠিয়ে খেলা করে, আবার কেউ খোঁপায় বাঁধছে।
কচুরিপানার সাতটি প্রজাতি আছে। কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান অবস্থায় বহুবৎসরজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পুরু, চকচকে এবং ডিম্বাকৃতির পাতাবিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরি পৃষ্ঠের ওপর এক মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর কা- দীর্ঘ, বহুধাবিভক্ত মূল বের হয়, যার রং বেগুনী-গোলাপী-সাদা-হলুদ। একটি পুষ্পবৃত্ত থেকে ৯ থেকে ১৫টি আকর্ষণীয় ছয় পাপড়িবিশিষ্ট ফুলের থোকা তৈরি হয়। কচুরিপানা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কচুরিপানা রাতারাতি বংশ বৃদ্ধি করে প্রায় ২ সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে যায়। কচুরিপানা দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্দের প্রাদেশিক ফুল। ভারতের তামিলনাড়ুর গবেষক সেলভারাজ এক পরীক্ষায় দেখেছেন, ভার্মিকম্পোস্টের জন্য যেখানে অন্যান্য কৃষি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করতে ৭০ দিন সময় লাগে সেখানে কচুরিপানা থেকে জৈব সার তৈরি করতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ দিন।
আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কানিজ তাহিয়া লাকী বলেন, বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে প্রচুর কচুরিপানা দেখতে পাওয়া যায়। বর্ষাকালে এই পানা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং প্লাবন ভূমিতে ব্যাপকভাবে ছড়ায়। এই ফুল ফোটে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের কচুরিপানাতে বড় বড় কুঠুরি থাকে যা পানিতে পূর্ণ, তাই যে কোন আঘাতে সহজে ভেঙ্গে যায় না বা নষ্টও হয় না। ইদানীংকালে বরিশালে কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে উপহার সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য। এগুলো বিদেশেও রফতানি হয়ে।
ধারণা করা হয়, কচুরিপানার অর্কিড-সদৃশ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে স্কনক নামের এক ব্রাজিলিয়ান পর্যটক ১৮শ’ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় নিয়ে আসে এই কচুরিপানা। এরপর থেকেই এটি এতদ্রুত বাড়তে থাকে যে, ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। ছোট নদ-নদী নৌকা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জলাভূমির ফসল, আমন ধান ও পাট চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনি পরিস্থিতিতে ঐ সময়কার সরকার কচুরিপানার দৌরাত্ম্য হ্রাসে জলাভূমি আইন, মিউনিসিপ্যালিটি আইন, স্থানীয় সরকার আইন এবং গ্রাম সরকার আইন সংশোধন করে। ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাড়ির আশপাশের কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়াকে রীতিমতো নাগরিক কর্তব্য ঘোষণা করা হয়। কচুরিপানা আক্রান্ত এলাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্টেটরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কচুরিপানা দমনে কার্যক্রম শুরু করেন। এই অবস্থায় কোথাও কোথাও এ কচুরিপানা জঞ্জালে পরিণত হয় এবং কারও কারও জীবনে অভিশাপ বলেও বিবেচিত।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাকে কচুরিপানার অভিশাপমুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক নির্বাচনে বিজয়ী লাভ করে তাঁর নির্বাচনী ওয়াদাপূরণে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কচুরিপানা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালান। অবশেষে ১৯৪৭ সালে বাংলার জলাশয়গুলো কচুরিপানার কবল থেকে ‘মুক্তিলাভ’ করলেও এখনও বাংলার জলাশয়ে বহাল তবিয়তেই আছে কচুরিপানা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার গ্রামগঞ্জে হাওড়-বিল-জলাশয় থেকে কৃষকরা কচুরিপানা উঠিয়ে জমিতে লতানো পটোল ও আলুচাষ করে।
কচুরিপানার সাতটি প্রজাতি আছে। কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান অবস্থায় বহুবৎসরজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পুরু, চকচকে এবং ডিম্বাকৃতির পাতাবিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরি পৃষ্ঠের ওপর এক মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর কা- দীর্ঘ, বহুধাবিভক্ত মূল বের হয়, যার রং বেগুনী-গোলাপী-সাদা-হলুদ। একটি পুষ্পবৃত্ত থেকে ৯ থেকে ১৫টি আকর্ষণীয় ছয় পাপড়িবিশিষ্ট ফুলের থোকা তৈরি হয়। কচুরিপানা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কচুরিপানা রাতারাতি বংশ বৃদ্ধি করে প্রায় ২ সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে যায়। কচুরিপানা দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্দের প্রাদেশিক ফুল। ভারতের তামিলনাড়ুর গবেষক সেলভারাজ এক পরীক্ষায় দেখেছেন, ভার্মিকম্পোস্টের জন্য যেখানে অন্যান্য কৃষি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করতে ৭০ দিন সময় লাগে সেখানে কচুরিপানা থেকে জৈব সার তৈরি করতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ দিন।
আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কানিজ তাহিয়া লাকী বলেন, বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে প্রচুর কচুরিপানা দেখতে পাওয়া যায়। বর্ষাকালে এই পানা দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং প্লাবন ভূমিতে ব্যাপকভাবে ছড়ায়। এই ফুল ফোটে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের কচুরিপানাতে বড় বড় কুঠুরি থাকে যা পানিতে পূর্ণ, তাই যে কোন আঘাতে সহজে ভেঙ্গে যায় না বা নষ্টও হয় না। ইদানীংকালে বরিশালে কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে উপহার সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য। এগুলো বিদেশেও রফতানি হয়ে।
ধারণা করা হয়, কচুরিপানার অর্কিড-সদৃশ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে স্কনক নামের এক ব্রাজিলিয়ান পর্যটক ১৮শ’ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় নিয়ে আসে এই কচুরিপানা। এরপর থেকেই এটি এতদ্রুত বাড়তে থাকে যে, ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। ছোট নদ-নদী নৌকা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জলাভূমির ফসল, আমন ধান ও পাট চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনি পরিস্থিতিতে ঐ সময়কার সরকার কচুরিপানার দৌরাত্ম্য হ্রাসে জলাভূমি আইন, মিউনিসিপ্যালিটি আইন, স্থানীয় সরকার আইন এবং গ্রাম সরকার আইন সংশোধন করে। ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাড়ির আশপাশের কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়াকে রীতিমতো নাগরিক কর্তব্য ঘোষণা করা হয়। কচুরিপানা আক্রান্ত এলাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্টেটরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কচুরিপানা দমনে কার্যক্রম শুরু করেন। এই অবস্থায় কোথাও কোথাও এ কচুরিপানা জঞ্জালে পরিণত হয় এবং কারও কারও জীবনে অভিশাপ বলেও বিবেচিত।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাকে কচুরিপানার অভিশাপমুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক নির্বাচনে বিজয়ী লাভ করে তাঁর নির্বাচনী ওয়াদাপূরণে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কচুরিপানা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালান। অবশেষে ১৯৪৭ সালে বাংলার জলাশয়গুলো কচুরিপানার কবল থেকে ‘মুক্তিলাভ’ করলেও এখনও বাংলার জলাশয়ে বহাল তবিয়তেই আছে কচুরিপানা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার গ্রামগঞ্জে হাওড়-বিল-জলাশয় থেকে কৃষকরা কচুরিপানা উঠিয়ে জমিতে লতানো পটোল ও আলুচাষ করে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment