ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক
এমআর মাহবুব
ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে এ্যাডভোকেট আ ন ম গাজীউল হকের নামটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের সফল পরিণতি ঘটে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। এই দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। একুশের রক্তস্নাত অধ্যায়ের পথ ধরেই এসেছে আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমৃদ্ধশালী হয়েছে আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি। আমাদের রাজনীতি ও সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে একুশের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ অধ্যায়ে গাজীউল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ ক্লাসের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাক-প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টনে এক জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার মধ্যে গাজীউল হকের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উক্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর রেস্তরাঁর সামনে ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ তারিখে যে ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়, গাজীউল হক তাতে সভাপতিত্ব করেন। এ প্রসঙ্গে অলি আহাদ বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এম আর আখতার মুকুলের প্রস্তাবক্রমে যুবলীগ নেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগ প্রাঙ্গণে এক বিরাট ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ কর্তৃক ঘোষিত এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক সমর্থিত ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল কর্মসূচী সাফল্যম-িত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। উক্ত সমাবেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কতিপয় রাস্তা অতিক্রম করে (সূত্র : জাতীয় রাজনীতি : ১৯৪৫ থেকে ৭৫ : ঢাকা, ১৯৮২, পৃ- ১৪৫)।
২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ তারিখে সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা হলে উক্ত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য ছাত্ররা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। গাজীউল হক সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ লক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল কেন্দ্রিক ছাত্রদের কয়েকটি সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে গাজীউল হক ছাত্রদের সংগঠিত করেন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আন্দোলনের কর্মসূচী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা ও উত্তপ্ত বিতর্কের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজ মেনে নিতে পারেনি। উল্লেখ্য যে, ৯৪ নওয়াবপুর রোডে অবস্থিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের অফিসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা চলাকালেই ফজলুল হক হল ছাত্রসভা, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রসভা ও মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রসভায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এইসব সভায় গাজীউল হক নেতৃত্ব প্রদান করেন। সর্বশেষ ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ১১ জন ছাত্রনেতার এক গোপন বৈঠকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঢাকা হল (বর্তমানে শহীদুল্লাহ হল) ও ফজলুল হক হলের মধ্যবর্তী পুকুর পাড়ে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, পরের দিন অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন গাজীউল হক। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের এইসব ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোতে গাজীউল হক অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক আমতলার ঐতিহাসিক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক এবং সভাশেষে তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১০ জনের এক একটি গ্রুপ মিছিল সহকারে রাস্তায় নেমে আসেন। তখনই শুরু হয় গ্রেফতার, পুলিশী নির্যাতন এবং পরে ছাত্র হত্যা। এভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মধ্য দিয়েই একুশের রক্তক্ষয়ী ঘটনার জন্ম হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হল বাঙালী জাতির গৌরবদীপ্ত আত্মত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত। এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রাণপুরুষ গাজীউল হক ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন টিয়ার গ্যাস শেলের আঘাতে আহত হন এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন এমন একটি রটনাও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মারা যাবার খবরে বগুড়ায় গায়েবী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের যুগান্তকারী ঘোষণার জন্য তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। গাজীউল হকের ঘোষণা এবং নেতৃত্বের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল একুশের রক্তস্নান ইতিহাস।
যে একুশের বদৌলতে আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক সম্মান, যে একুশ আমাদের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উৎস মূল, যে একুশকে নিয়ে আমাদের এত অহংকার, এত গৌরব সেই মহান একুশের স্রষ্টা হলেন গাজীউল হক। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং কলমযোদ্ধা হিসেবে তিনি স্মরণীয় অবদান রাখেন। একজন সংস্কৃতি কর্মী, আইনজীবী এবং সুলেখক হিসেবেও তিনি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে গাজীউল হকের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। শুধু ১৯৫২ সালের বিস্ফোরণ পর্বই নয় তিনি ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বেও অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি বগুড়ায় এসএসসি পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দেশব্যাপী যে হরতাল কর্মসূচী পালিত হয়, সে সময় বগুড়াতে তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে ও পিকেটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উক্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেন।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম স্থপতি এ্যাডভোকেট গাজীউল হক ভাষা আন্দোলনের সূচনা থেকে বিস্ফোরণ পর্ব পর্যন্ত একজন একনিষ্ঠ এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
[১৭ জুন, ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হকের
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে লিখিত]
লেখক : গবেষক
mrmahbub@yahoo.com
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ অধ্যায়ে গাজীউল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ ক্লাসের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাক-প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টনে এক জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার মধ্যে গাজীউল হকের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উক্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর রেস্তরাঁর সামনে ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ তারিখে যে ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়, গাজীউল হক তাতে সভাপতিত্ব করেন। এ প্রসঙ্গে অলি আহাদ বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এম আর আখতার মুকুলের প্রস্তাবক্রমে যুবলীগ নেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগ প্রাঙ্গণে এক বিরাট ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ কর্তৃক ঘোষিত এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক সমর্থিত ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল কর্মসূচী সাফল্যম-িত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। উক্ত সমাবেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কতিপয় রাস্তা অতিক্রম করে (সূত্র : জাতীয় রাজনীতি : ১৯৪৫ থেকে ৭৫ : ঢাকা, ১৯৮২, পৃ- ১৪৫)।
২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ তারিখে সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা হলে উক্ত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য ছাত্ররা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। গাজীউল হক সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ লক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল কেন্দ্রিক ছাত্রদের কয়েকটি সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে গাজীউল হক ছাত্রদের সংগঠিত করেন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আন্দোলনের কর্মসূচী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা ও উত্তপ্ত বিতর্কের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজ মেনে নিতে পারেনি। উল্লেখ্য যে, ৯৪ নওয়াবপুর রোডে অবস্থিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের অফিসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা চলাকালেই ফজলুল হক হল ছাত্রসভা, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রসভা ও মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রসভায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এইসব সভায় গাজীউল হক নেতৃত্ব প্রদান করেন। সর্বশেষ ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ১১ জন ছাত্রনেতার এক গোপন বৈঠকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঢাকা হল (বর্তমানে শহীদুল্লাহ হল) ও ফজলুল হক হলের মধ্যবর্তী পুকুর পাড়ে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, পরের দিন অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন গাজীউল হক। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের এইসব ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোতে গাজীউল হক অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক আমতলার ঐতিহাসিক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক এবং সভাশেষে তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১০ জনের এক একটি গ্রুপ মিছিল সহকারে রাস্তায় নেমে আসেন। তখনই শুরু হয় গ্রেফতার, পুলিশী নির্যাতন এবং পরে ছাত্র হত্যা। এভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মধ্য দিয়েই একুশের রক্তক্ষয়ী ঘটনার জন্ম হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হল বাঙালী জাতির গৌরবদীপ্ত আত্মত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত। এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রাণপুরুষ গাজীউল হক ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন টিয়ার গ্যাস শেলের আঘাতে আহত হন এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন এমন একটি রটনাও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মারা যাবার খবরে বগুড়ায় গায়েবী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের যুগান্তকারী ঘোষণার জন্য তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। গাজীউল হকের ঘোষণা এবং নেতৃত্বের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল একুশের রক্তস্নান ইতিহাস।
যে একুশের বদৌলতে আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক সম্মান, যে একুশ আমাদের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উৎস মূল, যে একুশকে নিয়ে আমাদের এত অহংকার, এত গৌরব সেই মহান একুশের স্রষ্টা হলেন গাজীউল হক। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং কলমযোদ্ধা হিসেবে তিনি স্মরণীয় অবদান রাখেন। একজন সংস্কৃতি কর্মী, আইনজীবী এবং সুলেখক হিসেবেও তিনি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে গাজীউল হকের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। শুধু ১৯৫২ সালের বিস্ফোরণ পর্বই নয় তিনি ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বেও অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি বগুড়ায় এসএসসি পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দেশব্যাপী যে হরতাল কর্মসূচী পালিত হয়, সে সময় বগুড়াতে তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে ও পিকেটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উক্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেন।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম স্থপতি এ্যাডভোকেট গাজীউল হক ভাষা আন্দোলনের সূচনা থেকে বিস্ফোরণ পর্ব পর্যন্ত একজন একনিষ্ঠ এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
[১৭ জুন, ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হকের
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে লিখিত]
লেখক : গবেষক
mrmahbub@yahoo.com
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment