Sunday, June 1, 2014

সোনা রঙের ফুল, দেখতে দারুণ- হাওয়ায় মিষ্টি ঘ্রাণ
গ্রীষ্মে ফুটেছে স্বর্ণচাঁপা
মোরসালিন মিজান ॥ স্বর্ণের মতো রং। নাম তাই স্বর্ণচাঁপা। দারুণ দেখতে! ঘ্রাণটাও মিষ্টি। ভীষণ মিষ্টি। গ্রীষ্মে শুরু হয় ফুল ফোটা। যথারীতি ফোটেছে; ফুটছে। শহর গ্রাম নেই- সর্বত্র দেখা যায়। প্রিয় ফুলের ঘ্রাণে ইতোমধ্যে ভরে উঠেছে চারপাশ।
স্বর্ণচাঁপা মূলত পাহাড়ী প্রজাতি। সমতলেও এর বৃদ্ধি যথেষ্ট স্বাভাবিক। তাই কম বেশি সারাদেশেই হয়। এমনকি বিবর্ণ শহর ঢাকায়ও আছে। বলধাগার্ডেন, রমনা পার্ক, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে দেখা মেলে স্বর্ণচাঁপার। জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে ও জাদুঘরের পেছনের অংশে বড় বড় কিছু গাছ আছে। লম্বায় ৫ থেকে ১০ মিটারের মতো। আর সব গাছের সঙ্গে এগুলো মিলেমিশে আছে। ফলে হুট করে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। স্বর্ণচাঁপা গাছ চেনার আরও একটি সমস্যা হচ্ছে- এর প্রচুর পাতা এবং খুব ঘন। এত ঘন যে, এর আড়ালে ফুল অনেকটা লুকিয়ে থাকে। একটি বা দুটি পাতার কক্ষে ফুল ফোটে। ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্য- এর তীব্র ঘ্রাণ। লুকিয়ে রাখার সাধ্য নেই কারও। ঘ্রাণ অনুসরণ করে একে খুঁজে নেয়া যায়।
দুরন্ত পথশিশুরা কাজটি মহাআনন্দের সঙ্গে করে থাকে। মগডাল বেয়ে প্রতিদিনই ফুল সংগ্রহ করছে তারা। কয়েকটি ফুল সুতোয় বেঁধে ছোট্ট তোড়া তৈরি করছে। দাম মাত্র ১০ টাকা। শাহবাগ মোড়ে বসে বা গাড়ির পেছনে ছুটে বিক্রি করছে। স্বর্ণচাঁপা হাতে ওদের ছোটাছুটি পুরো এলাকায় কী যে মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে! ফুলপ্রেমীরা কিনছে। রূপে ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে কিনছে সাধারণ পথচারীরাও। ফুলটি খোঁপায় গোঁজা যায়। ড্রইং রুমের ফুলদানিতে রাখার পক্ষে খুব উপযুক্ত। তবে ফুলের উৎস জানাজানি হয়ে গেলে বিক্রেতাদের ক্ষতি। এ কারণেই সহজে উৎস জানাতে চায় না তারা!
উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মা জানান, স্বর্ণচাঁপা ভারতীয় উপমহাদেশীয় ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম মাইকেলিয়া চম্পকা। এটি ম্যাগনোলিয়া গুত্রের। স্বর্ণচাঁপার কলি লম্বা ধরনের হয়। দেখতে অনেকটা মেয়েদের আঙ্গুলের মতো। সুন্দর আঙ্গুলের অধিকারী নারীকে তাই চম্পাকলিও বলা হয়। এর ছয় বা ততধিক পাপড়ি। দ্বিজেন শর্মা জানান, ফুলটি প্রথমে দেখতে সাদা হয়। ক্রমশ সোনালী রং ধারণ করে। মূলত এ কারণে ফুলটিকে স্বর্ণচাঁপা বলা হয়। স্বর্ণচাঁপা গাছে গোলাকার ফল হয়। ডালের মাথায় থোকা হয়ে ঝুলে থাকে। পাকা ফল পাখিদের প্রিয় খাদ্য।
উদ্ভিদবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ ও কলমের মাধ্যমে কাঁঠালচাঁপার বংশবিস্তার হয়। চিরসবুজ বৃক্ষ বেশি পানি সহ্য করতে পারে না। এটুকু নিশ্চিত করা গেলে অতিরিক্ত যত্ন ছাড়াও বেড়ে ওঠে। ফুল দেয়; ফল দেয়। স্বর্ণচাঁপার আছে ভেষজ গুণও। বাত, চক্ষুরোগ ও পায়ের ক্ষত নিরাময় করে। তবে ফুলটির প্রতি যত প্রেম, তা এর সৌন্দর্যের কারণে। অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণের কারণে। এই ঘ্রাণ, অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার এখন উপযুক্ত সময়। শরত পর্যন্ত থাকবে এ সুযোগ।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2014-06-02&ni=174722

No comments:

Post a Comment