Sunday, June 1, 2014

তেজ রোকেয়া খাতুন রুবী

তেজ
রোকেয়া খাতুন রুবী
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

মা-ছেলের কানাকানিটা চোখে পড়ে আমিরুন বিবির। বুঝতে পারে কিছু একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু দু’জনের কেউই তাকে বলবে না। নিজের মেয়ে হলে কি হবে, ইচ্ছা না থাকলে কিছুতেই মুখ খুলবে না ছমিরুন। মেয়েটা হয়েছে তার বিষণীমুখী। মুখে হাসি নেই। সারা বেলা ভ্রু কুঁচকানো। অবশ্য একদিক দিয়ে স্বভাবটাকে মনে মনে মান্য করে আমিরুন। তা-না হলে মেয়ে তার টিকে থাকতে পারত না। হারামিগুলো খুবলে খাওয়ার জন্য নখ বাড়িয়ে দিত। ছমিরুনের স্বভাবের জন্যই তার গায়ে আঁচড়টিও লাগেনি। মেয়েটা তার মতোই ভাঙা কপালী। সেও যেমন কম বয়সে স্বামী খুইয়েছে, মেয়েরও তা-ই হল। বিধবা হওয়ার পর কতজন এগিয়ে এসেছিল, নিকে করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজি হয়নি ছমিরুন। একমাত্র ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ঢাকার বস্তিতে মাকে নিয়ে দিব্বি সংসার পেতেছে। গ্রামের লতাপাতার আÍীয়রাই এ সুযোগ করে দিয়েছিল। এ বাড়ি ও বাড়ি সারা দিন খাটে ছমিরুন। আশপাশের দোকানে, হোটেলে, গামলা ভরে ভরে মসলা বেটে দেয়। ঘর-ভাড়া দিয়ে মা-ছেলের একেকটা দিন এভাবেই পার হয়ে যায়। ছেলেকে স্কুলে দিয়েছিল, পড়েনি। এ নিয়ে আমিরুনের দুঃখ থাকলেও ছমিরুনের কোনো আক্ষেপ নেই। মেয়ে তার বিষণীমুখী। বিষাক্ত গলায় বলে, গরিবের ছেলে গরিব হলেই মানায়। বিদ্বান হওয়ার দরকার নেই। ছেলে তাই সারা দিন পথে, হাটে, মাঠে ঘুরে, পাতা কুড়ায়। কাগজ কুড়ায়। মা’র হাতে দিন শেষে টাকাও গুঁজে দেয়।
আগে মেয়ের সঙ্গে কাজকর্মে যেত আমিরুন। এখন আর পারে না। শরীর বুলায় না। মেয়েও সঙ্গে নেয় না। ভাত কাপড়ে সুখেই আছে আমিরুন। শুধু মেয়ের ঢলো ঢলো যৌবন দেখে বুক ঠেলে কান্না আসে তার। বড় কম বয়সে মেয়েটা তার বিধবা হয়েছে। সেও এমন বয়সে একা হয়েছিল। আর তখন টের পেয়েছিল পুরুষ মানুষের শরীরের স্বাদ হারানোর যন্ত্রণা। তবু সয়ে নিয়েছিল। সে যে কি কঠিন কষ্ট! কী কঠিন পরীক্ষা। মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। কখনো যে ভেতরটা উথাল-পাতাল করেনি সে তো নয়। একা একাই জলহীন মাছের মতো ছটফট করে শীতল হয়ে গেছে। একই কষ্ট মেয়ের কপালেও জুটল। ভাগ্য বিড়ম্বনার এই দিকটা বুকে খুব বাজে তার। সন্তান সন্তান করে সে তো জীবন পার করল, মেয়েটা কেমন করে লম্বা পথ পাড়ি দেবে? মেয়ের দিকে তাকিয়ে গোপন নিঃশ্বাস ফেলে আমিরুন বিবি। মেয়ে খুব নির্বিকার মুখে মাসে মাসে কালো পুরনো ট্রাংকে টাকা জমায়। কত টাকা জমেছে? কী স্বপ্ন দেখে মেয়ে? আমিরুন বিবির খুব জানতে ইচ্ছা করে। কিন্তু মেয়েকে কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না। সাপের মতো ফোঁস করে উঠবে। তবু আমিরুন যক্ষের ধনের মতো মেয়ের কালো ট্রাংকটাকে দিন-রাত পাহারা দেয়। মনে মনে নাতিটাকেও বিশ্বাস হয় না তার। মার মতোই হাসিহীন বিষণ্নতা ভরা মুখ। আজকাল সকাল-বিকাল আয়না দেখে মাথা আঁচড়ায়। রং চংয়ের শার্ট পরে। আমিরুনের ভাত দিতে দেরি হলে চেঁচামেচিও করে। মাঝে একদিন কি সব ব্যবসাপাতির কথা ছিটকে কানে এসেছিল আমিরুনের। কিন্তু মা-ছেলের কেউই তাকে এসব কথা বলবে না। কেন বলবে না তার জবাব আমিরুনের কাছে নেই। এই মেয়ে মানুষ করতে জীবনে কি কম কষ্ট করতে হয়নি তাকে? শরীরে শক্তি ছিল। আচরণে তেজ ছিল। মেয়েও সমীহ করত। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের কাছেও তার মূল্য কমে আসছে, এমন কষ্টে আমিরুন হাতের হামান দিস্তায় ঘন ঘন বাড়ি দিয়ে পান ছেঁচতে থাকে। মেয়ে হয়তো বুঝতে পারে। মাঝে-মধ্যে পান খাওয়ার অছিলায় মার পাশে বসে। টুক টাক কথা বলে। কিন্তু মেরাজ, তার নাতি, কিছুতেই কাছে বসবে না। তবে নানীর পান-সুপারির জোগান দেয়ার বেলায় কোনো কার্পণ্য করে না। এটাই আমিরুনের সুখ কিংবা স্বস্তি। পান ছাড়া তো তার জান টিকবে না। মেয়েটা কৃপণ কিংবা হিসাবি হলেও এ ব্যাপারে মাকে কষ্ট দেয় না। আমিরুন মাঝে মাঝে নিজের খরখরে হাত, আঙ্গুলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। কী সুন্দর মোলায়েম হাত ছিল তার। স্বামী সে হাত দু’টো ধরে থাকত সুযোগ পেলেই। একটা গভীর নিঃশ্বাস বুক থেকে গলায় এসে আটকে যায়। আমিরুন পানের রসের ভেতর সে বেদনাকে দ্রবীভূত করে ফেলে। মেয়ে আর নিজের জীবনের জন্য খাটতে খাটতে সে কোমল হাত দু’টো যে কখন এমন কর্কশ, কুশ্রী হয়ে গেল আমিরুনের তাকিয়ে দেখারও সময় ছিল না। মেয়ে অবশ্য সস্তা দামের হলেও সারা বছরের জন্য ক্রিম, পাউডার আর মাথায় মাখার তেল কিনে আনে। আমিরুন তার বয়সী শরীর থেকে সে ক্রিম পাউডারের ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয় বিছানা-বালিশে।
কত হল বয়স? হিসাবটা মেলে না। এখন প্রায় কুঁজোর দিকে যাওয়া শরীরটা একদিন বেতের মতো মজবুত ছিল। পিঠ সোজা করে যখন হাঁটত পুরুষ মানুষরাও থমকে যেত। মেয়েদের অনেকেই ঈর্ষা করত। কিন্তু আজ? আমিরুন নিজের মনেই হাসে। দুখী গলায় গ্রাম্য গীত গায়। আপন মনে। দিন ফুরনোর গান। দিন কী সত্যিই ফুরিয়ে যাচ্ছে? এ জীবনে সুখের নাগাল পেল না। একটু স্বস্তি যে নেই তা তো নয়। মেয়ে যেদিন বাড়ি থাকে, সেদিন আমিরুন ঘর থেকে বেরিয়ে আশপাশের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। পান-দোকানদারকে পান ধুয়ে দেয়, চা দোকানির চায়ের কাপ। এসবেও দুই পয়সা তারও হাতে জমে বৈ কি। এ জমানো টাকার খবর মেয়ে-নাতি কেউ জানে না। হোক না অল্প। তবু মরে গেলে মেয়ের হাতেই যাবে সে টাকা। আমিরুন মনে মনে এক ধরনের খুশিতে আপ্লুত হতে থাকে। মেয়ে বেশ বড় একটা ঘর নিয়েছে। দু’টো চৌকির একটিতে মা-ছেলে আর আরেকটিতে আমিরুন একা ঘুমায়। মেরাজের বিয়ে দিলে ঘরের মাঝখানে একটা পার্টিশন দেয়া লাগবে। ছমিরুন তখন তার পাশে শোবে। কী গল্প করবে সে মেয়ের সঙ্গে? ফেলে আসা জীবনের গল্প করার জন্য আকু-পাকু করে মনটা। মেয়ের তো সময় নেই। সময় নেই, বাঁশঝাড়, ঢেঁকির পাড় কিংবা বারো রকমের শাক তোলার গল্প করার। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘুমের জন্য কাতর হয়ে থাকে ছমিরুন। ভাগের রান্নাঘরে সময় বেঁধে রান্না সারতে হয়। গল্পের সময় কোথায়? রান্নাবান্না যে আমিরুন পারে না, তা তো নয়। এখনও তার মাথাভর্তি চুল, শক্ত দাঁত, সুচে সুতা লাগানোর মতো তীক্ষè দৃষ্টিশক্তি সবই ঠিক আছে। এখনও বাইরে বেরুলে কোনো কোনো পুরুষ তার দিকেও তাকায়। এখনও আমিরুন বিবিকে এককালের তেজি শরীরের বুকের অংশটা ভালো করে ঢেকে রাখতে হয়। কিন্তু তাতে কী? ছমিরুন সংসারের সব কাজ থেকে তাকে সরিয়ে রেখেছে। নিজের মেয়েটি, যত সময় যাচ্ছে, তত দূরে সরে যাচ্ছে।
এক সময় তার তেজের সামনে ছমিরুনও দাঁড়াতে পারত না। সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ের দিকে আঙ্গুল তুললে মেয়ের তা অগ্রাহ্য করার সাহসও ছিল না। সেই মেয়েই এখন তার প্রতি নিরাসক্তি দেখায়। নাকি মেয়েটা এরকমই? কম আবেগে তৈরি? নিজের যাপিত জীবন নিয়ে এভাবেই আমিরুন তার দিনপঞ্জি মনে মনে রচনা করতে থাকে।
তাই বলে সে জানতেও পারবে না কেন এই ফিসফিসানি? একই ঘরের বাসিন্দা হয়েও পাড়া-পড়শির মতো থাকতে হবে তাকে? আÍসম্মানে বড় চোট লাগে আমিরুনের। কৌতূহল তাই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। একদিন বুকে সাহস আনে। গলায় একটু তেজও আসে। সরাসরি ধরে বসে মেয়েকে। কি গুজ গুজ করিস তোরা? আমাকে আড়ালে-আবডালে রেখে? যে কোনো কারণেই হোক মেয়ের মেজাজ শান্ত ছিল। ছমিরুন তাই মৃদু হাসে। অনেক দিন পর মায়ের গা ঘেঁষে বসে। মায়ের পান বাটা থেকে একটুখানি পান ছিঁড়ে খুব যতেœ ছবি আঁকার রং লাগানোর মতো চুন লাগায়। তারপর সুপারি দিয়ে মুড়ে মুখের ভেতর ফেলে দেয়। আমিরুনের খুব ভালো লাগে মেয়ের এই আচরণ। পান ছেঁচা বন্ধ করে মেয়ের পিঠে হাত বুলায়।
ছমিরুন প্রথমে একটু কেশে গলাটা পরিষ্কার করে নেয়। তারপর বলে, কথাটা তুলে ভালোই করেছ। গলির মুখে একটা দোকান দেব ভাবছি, কিন্তু টাকা তো কম লাগবে না। মেরাজটারও তো একটা ভবিষ্যৎ আছে। হতাশ গলায় আমিরুন মেয়েকে আস্তে করে শোধায়, টাকা কোথায় পাবি? অত টাকা কি তোর আছে? ছমিরুন ধীরে ধীরে মাথা দোলায়, বলে, ব্যবস্থা করতে হবে। তোমার সাহায্য লাগবে আমার! বিস্ময়ে গলাটা কেঁপে ওঠে আমিরুনের। মেয়ে কি তার গোপন সঞ্চয়ের কথা জেনে গেছে? কিন্তু সে তো সামান্য টাকা। ওতে দোকানের একটা দরজার দাম হবে বড়জোর।
তবে? আমিরুনের বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে ছমিরুন বলে, মেরাজ তোমাকে সব বুঝিয়ে বলবে। এখন শুয়ে পড়, বলেই মায়ের সারা শরীরের দিকে একপলক দৃষ্টি বুলিয়ে ছেলের পাশে শুয়ে পড়ে ছমিরুন। আমিরুন উদগ্রীব হয়ে থাকে মেরাজের কথা শোনার জন্য। কিন্তু মেয়ের সঙ্গে কথা বলার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলে এবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তার। এক সকালে মেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাতির বিছানায় গিয়ে বসে আমিরুন। মৃদু ধাক্কা দিয়ে মেরাজকে ডেকে তুলে। আরামের ঘুম নষ্ট হওয়াতে প্রথমে ক্ষেপে যায় মেরাজ। তারপর নানীর মুখে প্রশ্ন শোনে সরু চোখে তাকায় আমিরুনের দিকে। তারপর হাসতে হাসতে বলে, তোকে নিয়ে পথে নামব নানী। মানে? আমিরুনের বুকে কি যেন ধাক্কা লাগে। ভিক্ষে করবি নাকি?
মেরাজ হাসে। না করলে দোকান হবে না নানী। আজকাল টাকা রোজগারের এটা ভালো ফন্দি। শাহবাগের রাস্তায় দেখিসনি চুল আউলা-জাউলা করে গায়ে কোনোমতে শাড়ি পেঁচিয়ে বুকটা কষে বেঁধে কেমন করে রোগী সাজতে হয়? দাদি-নানীদের নিয়ে এটা তো একটা ভালো বিজনেসরে নানী। চমকে ওঠে আমিরুন। বলে কি ছোঁড়া। আমিরুন দেখেছে। দেখেছে বৈকি। আঁটসাঁট করে বুকে কাপড় বেঁধে সমতল ভূমির মতো বুক আর পিঠকে এক করে কিশোরের সঙ্গে অসুস্থ নারীর ভিক্ষাবৃত্তি। কী জঘন্য। কী জঘন্য। ভেতরটা তেতো হয়ে যায় আমিরুনের। এরকম একটা দৃশ্যপটে নিজেকে দাঁড় করিয়েই মুহূর্তে আবার পর্দা টেনে দেয় আমিরুন। এত নিচে নেমে গেছে তারই আÍজা? ছেলের টাকা রোজগারের এই পঙ্কিল রাস্তাটাকে সমর্থন দিচ্ছে ছমিরুন? কান্নার চেয়েও ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফুঁসে উঠে বুকের ভেতর। নাতির পাশ থেকে একলাফে মেঝেতে পা রাখে। কিন্তু দ্রুত দাঁড়াতে গিয়ে কোমরটা কেমন টন টন করে ওঠে। আস্তে আস্তে ঘরের কোনে রাখা তেল চকচকে লাঠিটা হাতে নিয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে দাঁড়ায়। মনে হয় নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার।
রাতে খেয়েদেয়ে মায়ের পাশে দাঁড়ায় ছমিরুন। তারপর কোনো ভণিতা ছাড়াই বলে, কাল সকাল সকাল উঠিস তো মা। মেরাজের সঙ্গে বেরুতে হবে। তারপর একটি পুরনো ম্লান শাড়ি আর গামছা আমিরুনের কোলের ওপর রেখে দেয়। সকালে শাড়িটা পরিস। আর গামছাটা কষে বেঁধে নিস বুকে। কথা শেষ করে মায়ের প্রতিক্রিয়া বা মনোভাব বোঝার প্রয়োজনও মনে করে না ছমিরুন। হারিকেনটা নিভিয়েই শুয়ে পড়ে।
সারা রাত ঘুম হয় না আমিরুনের। চরম অপমানে মন তার ধিকিধিকি জ্বলছে। শরীরটা ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে। নিজের সন্তানও সে সুযোগ নিচ্ছে। তাই বলে এরকম? কেয়ামত কি সত্যি তবে খুব কাছে? আমিরুনের দুই গাল বেয়ে দু’টো নোনা পানির রেখা পান খাওয়া দুই ঠোঁটের দুই কোনে আটকে থাকে। আধো ঘুম আধো জাগরণে রাত কাটে আমিরুনের। সকালে মা-বেটা একটু দেরি করেই বিছানা ছাড়ে। ছমিরুন গম্ভীর মুখে চা বানায়। টোস্ট বিস্কুট দিয়ে সকালের নাস্তা পর্ব সেরে নেয় তিনজন। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না। এক সময় নানীর সামনে এসে দাঁড়ায় মেরাজ। গম্ভীর গলায় বলে রেডিহ নানী। ভেতরটা কেঁপে ওঠে আমিরুনের। শক্ত গলায় বলে, না। ছমিরুন এগিয়ে আসে। হাতে গত রাতের পুরনো শাড়ি আর গামছা।
মায়ের গায়ের কাপড় খুলতে চেষ্টা করে ছমিরুন। একহাতে পাশে রাখা লাঠিটা আর অন্য হাতে গায়ের কাপড় শক্ত করে ধরে রাখে আমিরুন। রেগে যায় ছমিরুন। চেঁচিয়ে মেরাজকে ডাকে।
যেন মায়ের ডাকের অপেক্ষায়ই ছিল মেরাজ। নানীর হাতের মুঠো থেকে কাপড় সরানোর চেষ্টা করতেই এক ধাক্কায় মা-বেটাকে সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায় আমিরুন। কি যে হয় তার সে বুঝতে পারে না। মনে হয় কি এক অশরীরী শক্তি এসে ভর করেছে তার ওপর। মা-ছেলে দু’জনের কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে যায়। আমিরুন তার হাতের লাঠি দিয়ে মা-ছেলেকে বেদম পেটাতে শুরু করে। লাঠির আঘাত বাতাস কেটে দ্রুত থেকে দ্রুততরো হয়ে এক আশ্চর্য বৃত্ত তৈরি করে ফেলে। আর তা মা-ছেলের দু’জনকে ভয়ার্ত করে তোলে।
দু’জনের চিৎকারে আশপাশের সবাই ছুটে আসে আর এক অদ্ভূত দৃশ্যের মুখোমুখি হয় তারা। আমিরুনকে আর বয়সের দিকে ধাবমান কোনো নারী মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোনো এক অলৌকিক ম্যাজিশিয়ান যেন তার জাদুর লাঠি দিয়ে অলৌকিক ঘূর্ণি বৃত্ত সৃষ্টি করে চলেছে। সে বৃত্তের ভেতর আটকে আছে দু’টো মানব-মানবী। যাদের টেনে বের করার মতো মানসিক সাহসও এ মুহূর্তে কারোরই নেই।
 
- See more at: http://www.jugantor.com/victory-day-special-no.-2013/2013/12/16/50294#sthash.psHZ8ppi.dpuf

No comments:

Post a Comment