দেড় বছর আগে নিখোঁজের কঙ্কাল উদ্ধার হল মাটি খুঁড়ে
বারুইপুর: খুনের হুমকির প্রতিবাদে অভিযুক্তের ঘরে ভাঙচুর করতে গিয়ে রবিবার জনতা হদিশ পেয়েছিল অস্ত্র কারখানার৷ আর সোমবার ওই অস্ত্র কারখানার পিছন থেকেই মিলল দেড় বছর আগে খুন করে মাটিতে পুঁতে ফেলা এক ব্যক্তির মাথার খুলি ও কঙ্কাল৷ হুমকির অভিযোগে ধৃত বাবুলাল যাদবকে জেরা করেই মাটিতে পুঁতে ফেলা দেহের প্রাথমিক খোঁজ পায় পুলিশ৷ সেই সূত্রের ভিত্তিতে সোনারপুরের রেনিয়ায় অরবিন্দ নগরের অস্ত্র কারখানার পিছনের জমিতে সকাল থেকেই মাটি খোঁড়া শুরু হয়৷ শেষমেশ বেলা ৩টে নাগাদ উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি হাড়ের টুকরো ও মাথার খুলি৷ তারও আগে মেলে জামা-প্যান্টের টুকরো ও জুতোও৷ বছর দেড়েক আগে স্থানীয় বাসিন্দা মদন রায় নামে এক অটোচালক ওই এলাকা থেকে রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন৷ পরে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীও৷ পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও খুলি মদনবাবুরই৷ তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ওইসব হাড় ও কঙ্কাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷
কী ভাবে মিলল দেহের হদিশ? পুলিশ সূত্রের খবর, গৌতম পাণ্ডে নামে স্থানীয় এক পূজারীকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এলাকার প্রভাবশালী দুষ্কৃতী জ্ঞানসাগর শর্মার বিরুদ্ধে৷ তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্রের কারবার-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে জ্ঞানসাগরের বিরুদ্ধে৷ ওই হুমকি দেওয়ার ঘটনা চাউর হতে রবিবার এলাকার বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে জ্ঞানসাগরের বাড়িতে ভাঙচুর চালান৷ সেখান থেকে উদ্ধার হয় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি৷ জ্ঞানসাগরের শাগরেদ বাবুলাল যাদবকেও জনতা ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়৷ তাকে জেরা করেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন ওই বাড়ির পিছনেই দেহ পোঁতা হয়ে থাকতে পারে৷ সেইমতো সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই এলাকা পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়৷ বারুইপুরের এসডিপিও দীপক সরকার এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অরুময় ভট্টাচার্যও পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে৷ প্রথমে মিস্ত্রি নামিয়ে বাড়ির পিছনের জমিতে খোঁড়াখুঁড়ি চলে৷ কিন্ত্ত ছ'-সাত ফুট খোঁড়ার পর প্যান্টের টুকরো-জুতো মিললেও মৃতদেহের হদিস মেলেনি৷ বেলা আড়াইটে নাগাদ মাটি খোঁড়ার জন্য ভারী যন্ত্র নিয়ে আসা হয়৷ একটি কংক্রিটের ভিতের নীচে ফুট চারেক খুঁড়তেই পচা গন্ধ বেরতে শুরু করে৷ সেখান থেকেই মেলে বস্তাটি৷ একটি মাথার খুলি ও হাড়ের টুকরো বেরিয়ে পড়ে বস্তা থেকে৷
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মদনবাবুর স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল জ্ঞানসাগরের৷ সেটা সম্ভবত মানতে পারেননি পেশায় অটোচালক মদনবাবু৷ তাই তাঁকে খুনের ছক কষে জ্ঞানসাগর৷ বাবুলালের বয়ান অনুযায়ী, জ্ঞানই গুলি করে খুন করে মদনবাবুকে৷ তার পর দেহ নৃশংস ভাবে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে বাবুলাল৷ এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় জ্ঞানসাগর৷ স্থানীয় সূত্রের খবর, যথেষ্ট প্রভাবশালী হওয়ায় লোকজন তার সম্পর্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান৷ গত বছর ডিসেম্বরে অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল তাকে৷ কিন্ত্ত সাক্ষীর অভাবে কিছু দিনের মধ্যেই সে ছাড়া পেয়ে যায়৷ মদনবাবুর স্ত্রী এখন কোথায় থাকেন, তারও হদিস দিতে পারেননি স্থানীয় লোকজন৷ এদিন জ্ঞানসাগরের এক শাগরেদ দেবেন্দ্র দুবেকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ দিন তিনেকে আগে সোনারপুরের এক প্রোমোটার সূর্যদেব পণ্ডার দেহ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছিল৷ সূর্যদেবের সঙ্গে জ্ঞানসাগরের দীর্ঘদিন ধরে গোলমাল চলছিল৷ ওই খুনের পিছনেও তার হাত থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান৷
http://eisamay.indiatimes.com/state/skeleton-found-of-a-person-who-lost-1-and-half-years-before/articleshow/36311354.cms
বারুইপুর: খুনের হুমকির প্রতিবাদে অভিযুক্তের ঘরে ভাঙচুর করতে গিয়ে রবিবার জনতা হদিশ পেয়েছিল অস্ত্র কারখানার৷ আর সোমবার ওই অস্ত্র কারখানার পিছন থেকেই মিলল দেড় বছর আগে খুন করে মাটিতে পুঁতে ফেলা এক ব্যক্তির মাথার খুলি ও কঙ্কাল৷ হুমকির অভিযোগে ধৃত বাবুলাল যাদবকে জেরা করেই মাটিতে পুঁতে ফেলা দেহের প্রাথমিক খোঁজ পায় পুলিশ৷ সেই সূত্রের ভিত্তিতে সোনারপুরের রেনিয়ায় অরবিন্দ নগরের অস্ত্র কারখানার পিছনের জমিতে সকাল থেকেই মাটি খোঁড়া শুরু হয়৷ শেষমেশ বেলা ৩টে নাগাদ উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি হাড়ের টুকরো ও মাথার খুলি৷ তারও আগে মেলে জামা-প্যান্টের টুকরো ও জুতোও৷ বছর দেড়েক আগে স্থানীয় বাসিন্দা মদন রায় নামে এক অটোচালক ওই এলাকা থেকে রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন৷ পরে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীও৷ পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও খুলি মদনবাবুরই৷ তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ওইসব হাড় ও কঙ্কাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷
কী ভাবে মিলল দেহের হদিশ? পুলিশ সূত্রের খবর, গৌতম পাণ্ডে নামে স্থানীয় এক পূজারীকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এলাকার প্রভাবশালী দুষ্কৃতী জ্ঞানসাগর শর্মার বিরুদ্ধে৷ তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্রের কারবার-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে জ্ঞানসাগরের বিরুদ্ধে৷ ওই হুমকি দেওয়ার ঘটনা চাউর হতে রবিবার এলাকার বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে জ্ঞানসাগরের বাড়িতে ভাঙচুর চালান৷ সেখান থেকে উদ্ধার হয় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি৷ জ্ঞানসাগরের শাগরেদ বাবুলাল যাদবকেও জনতা ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়৷ তাকে জেরা করেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন ওই বাড়ির পিছনেই দেহ পোঁতা হয়ে থাকতে পারে৷ সেইমতো সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই এলাকা পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়৷ বারুইপুরের এসডিপিও দীপক সরকার এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অরুময় ভট্টাচার্যও পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে৷ প্রথমে মিস্ত্রি নামিয়ে বাড়ির পিছনের জমিতে খোঁড়াখুঁড়ি চলে৷ কিন্ত্ত ছ'-সাত ফুট খোঁড়ার পর প্যান্টের টুকরো-জুতো মিললেও মৃতদেহের হদিস মেলেনি৷ বেলা আড়াইটে নাগাদ মাটি খোঁড়ার জন্য ভারী যন্ত্র নিয়ে আসা হয়৷ একটি কংক্রিটের ভিতের নীচে ফুট চারেক খুঁড়তেই পচা গন্ধ বেরতে শুরু করে৷ সেখান থেকেই মেলে বস্তাটি৷ একটি মাথার খুলি ও হাড়ের টুকরো বেরিয়ে পড়ে বস্তা থেকে৷
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মদনবাবুর স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল জ্ঞানসাগরের৷ সেটা সম্ভবত মানতে পারেননি পেশায় অটোচালক মদনবাবু৷ তাই তাঁকে খুনের ছক কষে জ্ঞানসাগর৷ বাবুলালের বয়ান অনুযায়ী, জ্ঞানই গুলি করে খুন করে মদনবাবুকে৷ তার পর দেহ নৃশংস ভাবে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে বাবুলাল৷ এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় জ্ঞানসাগর৷ স্থানীয় সূত্রের খবর, যথেষ্ট প্রভাবশালী হওয়ায় লোকজন তার সম্পর্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান৷ গত বছর ডিসেম্বরে অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল তাকে৷ কিন্ত্ত সাক্ষীর অভাবে কিছু দিনের মধ্যেই সে ছাড়া পেয়ে যায়৷ মদনবাবুর স্ত্রী এখন কোথায় থাকেন, তারও হদিস দিতে পারেননি স্থানীয় লোকজন৷ এদিন জ্ঞানসাগরের এক শাগরেদ দেবেন্দ্র দুবেকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ দিন তিনেকে আগে সোনারপুরের এক প্রোমোটার সূর্যদেব পণ্ডার দেহ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছিল৷ সূর্যদেবের সঙ্গে জ্ঞানসাগরের দীর্ঘদিন ধরে গোলমাল চলছিল৷ ওই খুনের পিছনেও তার হাত থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান৷
http://eisamay.indiatimes.com/state/skeleton-found-of-a-person-who-lost-1-and-half-years-before/articleshow/36311354.cms
No comments:
Post a Comment