Monday, June 9, 2014

লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির ফল ॥ ভাল স্কুল ধ্বংস ০ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে আগে প্রথম শ্রেণীতে কেউ ফেল করত না, এবার ফেল করেছে ৭৫ থেকে ৮০ জন ০ লটারির বাচ্চারা যখন স্কুল ফাইনাল দেবে তখনই বোঝা যাবে স্কুলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে ০ শিক্ষামন্ত্রীর মতামত খারাপ ছাত্ররাও ভাল স্কুলে পড়লে দোষ কি?

লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির ফল ॥ ভাল স্কুল ধ্বংস
০ ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে আগে প্রথম শ্রেণীতে কেউ ফেল করত না, এবার ফেল করেছে ৭৫ থেকে ৮০ জন
০ লটারির বাচ্চারা যখন স্কুল ফাইনাল দেবে তখনই বোঝা যাবে স্কুলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে
০ শিক্ষামন্ত্রীর মতামত খারাপ ছাত্ররাও ভাল স্কুলে পড়লে দোষ কি?
বিভাষ বাড়ৈ ॥ কোন মেধা যাচাই-বাছাই ছাড়া লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির সরকারী নিয়ম মানতে গিয়ে মানের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের স্বনামধন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মেধা বাছাই করার উপায় না থাকায় ঐতিহ্যবাহী ও নামী প্রতিষ্ঠানে চলে আসছে দুর্বল শিক্ষার্থীরা। ভর্তির পরে মেধাবীদের সঙ্গে তাদের তৈরি হচ্ছে মেধার বৈষম্য। আবার মান বাছাই করতে না পারায় লটারিতে ভর্তির পর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়। দেশের ছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে শুরু করে নামী দামী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠতে পারছে না ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী। ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে লটারি শুরুর পর প্রতিবছর প্রথম শ্রেণীর বর্ষিক পরীক্ষাতেই ফেল করছে ৭৫ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী। অথচ লটারির বিধান শুরুর আগে বাছাই পরীক্ষা নেয়ায় প্রথম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করার কোন নজির ছিল না। মূল বিপর্যয় এখনও সামনে বলে মনে করছে বেশিরভাগ মানুষ। কারণ, লটারি শুরু হওয়ার দশ বছর পরে যখন এরা স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় যাবে, তখন এদের খারাপ রেজাল্ট দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান ধ্বংস করে দেবে।
প্রতিষ্ঠানের এ সঙ্কটের আশঙ্কায় বাছাই পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি তুলেছেন দেশের নামী প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা। পরিস্থিতিকে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলছেন, লটারির পর শিশুদের ভর্তি কোচিংসহ চাপ বন্ধ হয়েছে সত্য তবে মান আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। অনেক অধ্যক্ষ আগামী বছর থেকে কমপক্ষে একটি বাছাই পরীক্ষা নিয়ে লটারি পদ্ধতিতে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর ভর্তি কোচিং, শিশুদের ভর্তি যুদ্ধের চাপ কমানো, প্রতিষ্ঠানের মাঝে সমতা আনার বিষয়ে বিভিন্ন মহলের বিশেষত বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণীতে পরীক্ষা বাদ দিয়ে লটারির বাধ্যবাধকতা নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই থেকে শুরু। গত তিন বছরের মতো এবারও প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বাধ্যবাধকতা রেখে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করে মন্ত্রণালয়। বিধান না মানলে কঠোর শাস্তির কথাও বলে দেয়া হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়, দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। আর জেএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে মোট ২০ শতাংশ কোটার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়। বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তদারকির জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। যার নেতৃত্বে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক। এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে প্রশাসকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করতে হবে। নীতিমালায় প্রথম শ্রেণীর জন্য বয়স বেধে দিয়ে বলা হয়, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রথম বছর থেকেই লটারি নিয়ে আপত্তি আছে অনেক অভিভাবকদের মাঝে। মানববন্ধন, সভা, সমাবেশ করে অভিভাবকসহ অনেক শিক্ষাবিদও বহুবার বলেছেন, কোচিং বন্ধ করতে হবে ভাল কথা। তবে কোচিং বন্ধের জন্য বাছাই পরীক্ষা বাতিল করা মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়। এবারও রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তিকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভর্তি করানোর জন্য স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীও পালন করেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের মতামত হচ্ছে- বাচ্চাদের জীবনের শুরুতেই লটারির মতো জুয়া খেলায় ফেলতে চাই না। লটারির মাধ্যমে বাচ্চাদের ভর্তি মানি না। অভিভাবকদের মতে, লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া, এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ভিকারুননিসার লটারি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনসহ অভিভাবক রাজ্জাক হাওলাদার বলছিলেন, প্রতিযোগিতা ব্যতীত কখনও মেধার যাচাই সম্ভব নয়। কিন্তু লটারির মাধ্যমে অযোগ্য, স্বল্প মেধার ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে। প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা লটারি পদ্ধতি বাতিলের জন্য দাবি জানিয়েছি। কেবল অভিভাবকরাই নয়, গত চার বছরের লটারির অভিজ্ঞতা এখন উদ্বেগজনক নামী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগীদের চাপ নেই দেশের এমন স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন না কেউ। তবে নামী দামী প্রতিষ্ঠানগুলো লটারির কারণে সঙ্কটের মুখে পড়েছে। লটারিপরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল নামী প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কথা। দেশের ছাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ। এখানে কেবল প্রথম শ্রেণীতেই ভর্তি করা হয় প্রতিবছর। এর পর এই শিক্ষার্থীরাই যথারীতি ভাল ফল করে পরবর্তী ক্লাসে প্রবেশ করে। প্রতিবছর সব শাখা মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রীকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়।
লটারির পদ্ধতি চালুর পর দেখা গেছে, প্রতিবছর ভর্তির পর প্রথম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ৭০ জনেরও বেশি ফেল করেছে। যারা লটারিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তারা অনেকের মেধা এতই সাধারণমানের যে তারা স্কুলের পরীক্ষা ফেস করতে পারছে না। অনেক অভিভাবক বয়স লুুকিয়ে লটারির সুযোগে সন্তানকে ভর্তি করালেও পরে বাধ্য হয়েই সন্তানকে কোন পরীক্ষায় অংশ নিতে দেন না। কারণ তারা চায় সন্তান দুই বছর প্রথম শ্রেণীতে থেকে বেশি মেধাবীদের মতো হয়ে উঠবে। বার্ষিক পরীক্ষার আগে অনেক অভিভাবক অধ্যক্ষের কাছে এসে দাবি করেন, তার সন্তানকে প্রথম শ্রেণীতেই রেখে দেবেন। পরিস্থিতিতে উদ্বেগের মধ্যে থাকা অধ্যক্ষ মঞ্জুআরা বেগম হতাশা প্রকাশ করে বলছিলেন, ভাই লটারির পর থেকে এখন খুব সঙ্কটে আছি। লটারিতে সবাই অংশ নিতে পারে তা ঠিক কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দিনদিন। আগে মেধা বাছাই করার সুযোগ ছিল আমাদের। তখন দেখা যেত যারা ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করছে তারাই চান্স পেয়েছে। তখন যারা ভর্তি হয়েছে তাদের কেউ প্রথম শ্রেণীতে স্কুলের পরীক্ষায় ফেল করেছে এমন নজির নেই। কিন্তু উদ্বেগজনক হলেও সত্য, লটারির পর প্রতিবছরই ৭৫ থেকে ৮০ জন প্রথম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করছে। গত বছর যারা ভর্তি হয়েছিল তাদের ৮০ জন ফেল করে। অবস্থা এমন হয় যে, পরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৮০টি আসন খালি হয়ে পড়ায় সেই শ্রেণীতেও ভর্তি পরীক্ষা নিতে হয়েছে আমাদের। অধ্যক্ষ বলেন, একটি বাছাই পরীক্ষা না নিলে পড়ালেখার মানের ওপর ক্রমেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ অবস্থা কেবল ভিকারুননিসায় নয়। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়সহ নামী সব প্রতিষ্ঠানেই চিত্রই প্রায় এক। লটারির পর থেকে প্রতি প্রতিষ্ঠানেই এ সঙ্কটের মুখে পড়েছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণীতে আরও কম শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়ায় ফেল করার সংখ্যা একটু কম। তবে তাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষকরা। অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলছিলেন, লটারি পর শিশুদের ভর্তি কোচিংসহ চাপ বন্ধ হয়েছে সত্য তবে মান আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। লটারির পর প্রতিবছর ২৫/২৬ জন করে ফেল করছে। এরা ভর্তির পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারছে না। অতিরিক্ত কেয়ার নিয়েও অনেক সময় তাদের তৈরি করা যাচ্ছে না বলে জানালেন শ্রেণী শিক্ষকরা। অধ্যক্ষ আগামী বছর থেকে কমপক্ষে একটি বাছাই পরীক্ষা নিয়ে লটারি পদ্ধতিতে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, এমন একটা পদ্ধতি দরকার যেখানে মেধা বাছাইও হবে আবার কোচিং বাণিজ্যও বন্ধ হবে।
রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে ভর্তি করা হয় ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে। এখানে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করার সুযোগ না হলেও কর্তৃপক্ষ নটরডেম কলেজের মতো উচ্চ মাধ্যমিকে একটি বাছাই পরীক্ষা নিতে চায়। অনেক শিক্ষক এ অবস্থানে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারী স্কুল হিসেবে প্রায় প্রতিবছরই মেধাতালিকায় স্থান পায় মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হফিজুল ইসলাম বলছিলেন, একটা ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এখন দেখা যায় ৫০ শতাংশ দুর্বল শিক্ষার্থী চলে আসছে লটারিতে। অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নিপা সুলতানা বলছিলেন, আমরা অভিভাবকরাও প্রথমে লটারিকে ভাল মনে করেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ফল উল্টো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো অনেক শিক্ষার্থীকে এতই কম মেধাবী পাচ্ছে যে অন্যদের সঙ্গে তারা তাল মিলাতে পারছে না। অনেক অভিভাবক বয়স কম হলেও লটারি আশায় ভর্তিতে এগিয়ে আসছে। আর ভর্তি করাতে পারলেও পরে আর ভাল করতে পরাছে না সন্তান। এতে ভালমানের বিদ্যালয়ে জটিলতা হচ্ছে। মান বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
জানা গেছে, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’-এর ‘শিক্ষার্থী ভর্তি’ বিষয়ক নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘নীতিগতভাবে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য নির্বাচনী পরীক্ষাকে নিরুৎসহিত করা হবে। তবে যেসব বিদ্যালয়ে আসনসংখ্যার চেয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বেশি হবে সেসব বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতির কোথাও লটারির কথা বলা হয়নি। শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ ইকরামুল কবীর বলছিলেন, শিক্ষানীতিতে লটারির কথা বলা হয়নি। তবে একটা পদ্ধতি বের করতে হবে যাতে শিশুদের ওপর চাপ না পড়ে। ভালমানের প্রতিষ্ঠানের আসনের বেশি শিক্ষার্থীর চাপ থাকে। এক্ষেত্রে একটি বাছাই পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। তবে সে পরীক্ষাও যেন শিশুদের উপযোগী হয়। আবার কোচিংও যেন উৎসাহিত না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে।
জানা গেছে, উন্নত বিশ্বে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুল জোনিং পদ্ধতি চালু আছে। স্কুল জোনিং হলো এলাকাভিত্তিক স্কুল। নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীরা কেবল নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে। অন্য কোন এলাকার শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ নেই। সেখানে দরকারও হয় না। কারণ এতে সব প্রতিষ্ঠানের মান সমান থাকে। বাংলাদেশে যে ব্যবস্থাটা আবশ্যক বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে ব্যবস্থা এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তাই ভালমানের প্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে। তবে লটারি কোন পদ্ধতি হতে পারে না বলে মনে করেছেন অনেকে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুদিন ধরেই একটা প্রচারণা চলছে। যেখানে অনিমেষ নামে এক অভিভাবক বলছেন, লটারিতে এতে অনেক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণœ হবে। উদাহরণ, যেমন ধরুন ভিকারুন্নেসার মতো স্কুলে লটারি সিস্টেমের ফলে সেখানে ভাল-খারাপ সব ধরনের ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাহলে বছর শেষে রেজাল্ট কি দাঁড়াবে? আমি লটারি সিস্টেমের বিপক্ষে, যেহেতু লটারি সিস্টেমের মাধ্যমে মেধাবীরা চান্স পাচ্ছে না। তা ছাড়া এটি জুয়া খেলার মতো হচ্ছে। উপরন্তু আরেকটি কারণ হচ্ছে যারা চান্স পাচ্ছে হয়ত দেখা গেল তারা অত্যন্ত খারাপ ছাত্র বা ছাত্রী যার মাধ্যমে তারা স্কুরে সুনাম সব সময়ের মতো বয়ে আনতে পারবে না।
রাজিব নামে একজন লিখেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনও লটারির মাধ্যমে হলে কেমন হয়? যারা ভাল মনে করেন লটারি তাদের উদ্দেশ্য আখতার নামে এক অভিভাবক বলছেন, এইটা যদি ভাল নিয়ম হইয়া থাকে তাহা হইলে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হইতে আরম্ভ করিয়া চাকরি-সর্বত্রই তাহা মানিয়া চলা উচিত। এমনকি বনানী কবরস্থানে কাহাদের দাফন করা হইবে সেটাও আসুন লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করি। বাচ্চাদের নিয়া এসব গাছে লটকানোর বিধিব্যবস্থার অবসান হোক।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছিলেন, ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি সঠিক নয় এ কারণে যে তখন তো বাচ্চা স্কুলেই যায়নি, পড়ালেখাই করেনি, সে কি পরীক্ষা দেবে? এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রাইভেট টিউটররা অনেক টাকা নিয়ে, বাচ্চাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটা সমস্যা তৈরি করছে, আর সেই কারণে একটা জনমত গড়ে উঠেছে যে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতি চালু করা হোক। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের কারণে মেধাবী শিশুরা মানসম্মত সরকারী স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে কম মানসম্মত স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানসম্মত স্কুলে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হলে সেক্ষেত্রেও অনেক মেধাবী শিশু চান্স নাও পেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা চাইব মানসম্মত স্কুলে কম মেধাবী শিশুরাও পড়ুক এবং তারা মানসম্মত স্কুলের সুবিধা গ্রহণ করুক। শুধু মানসম্মতরা এক জায়গায় পড়বে, আর কম মানসম্মত দরিদ্র শিশুরা খারাপ স্কুলে পড়বে, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment