Monday, June 9, 2014

চাঙ্গা হচ্ছে না বিএনপি

চাঙ্গা হচ্ছে না বিএনপি
হাবিবুর রহমান খান
প্রকাশ : ০৯ জুন, ২০১৪

নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত বা চাঙ্গা করতে পারছে না বিএনপি। একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দলটির নানা কার্যক্রম। নয়াপল্টনে আর গুলশান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এবং প্রেস ক্লাবের ভেতরে আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বিএনপির রাজনীতি। রাজপথে নামার কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে নেই চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কর্মসূচি। এমনকি দল এবং জোটের করণীয় নির্ধারণে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ মুহূর্তে অনেকটা লক্ষ্যহীনভাবে চলছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলটি। দলের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।
আরও জানা যায়, সাংগঠনিক কার্যক্রমেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। দল পুনর্গঠনে জোর আওয়াজ দিলেও তা হঠাৎ থমকে গেছে। ভেঙে পড়েছে দলের চেইন অব কমান্ড। নেতাকর্মীরাও জানেন না হাইকমান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি। সব মিলে দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অন্তত ১০টি প্রধান কারণে দলের সার্বিক কার্যক্রম চাঙ্গা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন তারা।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে আন্দোলনের ক্ষেত্রে কি কি ভুল ছিল তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দল গোছানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে নানা কারণে দলকে গতিশীল করে তোলার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরে এগোচ্ছে। সবকিছু কাটিয়ে উঠে শিগগিরই দলকে গতিশীল ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
তিনি আরও জানান, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। কোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় আনতে হয়। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা দলের জন্য সহায়ক না হয়ে বিব্রতকর অবস্থাতেও ফেলতে পারে। তাই সবকিছু হিসাব-নিকাশ করেই অগ্রসর হতে হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দাবি, সারা দেশে বিএনপি ঠিক আছে। কোনো সাংগঠনিক দুর্বলতা নেই। একমাত্র সমস্যা ঢাকা। ঢাকা মহানগরীর কমিটি পুনর্গঠন করা হোক, সব ঠিক হয়ে যাবে। নেতাকর্মীদের মাঝেও আÍবিশ্বাস ফিরে আসবে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, যে ১০ কারণে বিএনপি চাঙ্গা হতে পারছে না, সেগুলো হচ্ছে- সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব, আমলানির্ভরতা, সাংগঠনিক স্থবিরতা, চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া, নেতাদের মধ্যে রেষারেষি, সংস্কারপন্থীকে কেন্দ্র করে বিভাজন, নেতিবাচক ভাবমূর্তির নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা, খালেদা-তারেক বলয়, মামলা খাওয়া নেতাকর্মীদের অসহায়ত্ব এবং ১৯ দলের শরিকদের নিষ্ক্রিয়তা।
সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব : দলীয় কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কৌশলের ছাপ দেখাতে পারছেন না দলটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী এক মাস বা তারপর দলের করণীয় কি হবে তা নিয়ে নেই কোনো পরিকল্পনা। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো দক্ষতাও দেখাতে পারছে না দলটি। জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যু থাকার পরও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১৩ মার্চ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সরকার। সাধারণ মানুষ এমনকি দলের নেতাকর্মীদেরও ধারণা ছিল, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামবে বিএনপি। কিন্তু নামকাওয়াস্তে বিক্ষোভ সমাবেশ করেই দায় সারে তারা।
এছাড়া জনসম্পৃক্ত অনেক ইস্যুর সঙ্গে দলীয় নেতাদের স্বার্থের বিষয়টি যোগ করে কর্মসূচি দেয়ায় আসেনি তেমন কোনো ইতিবাচক ফল। যেমন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে গুম-খুন-অপহরণের বিরুদ্ধে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নামে দায়ের করা মামলার বিষয়টিও। সর্বশেষ রাজধানীতে খালেদা জিয়াকে দুটি জনসভা করতে অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু এর প্রতিবাদে কার্যকর কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি দলটি। কর্মসূচি গ্রহণে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝেও বিরাজ করছে চরম হতাশা ও চাপা ক্ষোভ।
আমলানির্ভরতা : নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি অনেকটা সাবেক আমলানির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে সাবেক আমলাদের ওপর বেশি নির্ভর করছেন খালেদা জিয়া। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের করণীয় ও আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত করেন কয়েক আমলা। আর এ কারণেই খালেদা জিয়া না ডাকলে সিনিয়র নেতারা গুলশান কার্যালয়ে যান না।
সাংগঠনিক স্থবিরতা : বিগত মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে ডাকা আন্দোলনে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা চরমভাবে প্রকাশ পায়। ৩৮৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির হাতেগোনা কয়েকজনকে রাজপথে দেখা গেছে। ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজপথ তো দূরের কথা অলিগলিতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদেরও রাজপথে দেখা যায়নি। এমন বাস্তবতায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ করে তা থমকে গেছে। চার মাস আগে প্রস্তুতি নিয়ে এখনও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। শ্রমিক দল ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন হয়নি। অচিরে হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলের একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক। এছাড়া ১০ এপ্রিল সাংগঠনিক জেলাগুলোর পুনর্গঠন শুরু হলেও বেশিদূর অগ্রসর হয়নি। ৭৫টির মধ্যে ১৩টি জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করেই পরবর্তী কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।
চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া : আন্দোলনে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে না পারার অন্যতম কারণ দলে চেইন অব কমান্ডের অভাব। কেউ কারও কথা শুনছেন না। দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে যে যার মতো করে মিডিয়ায় মন্তব্য করে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা রাজপথে সক্রিয় না থাকায় মাঝারি ও জুনিয়র নেতারা তাদের নির্দেশ মানতে চাচ্ছেন না। নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রেস ব্রিফিংয়ে এর প্রমাণ মেলে। অনেক সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বসার জায়গা না পেলেও জুনিয়র নেতারা চেয়ার ছাড়েন না। রাজপথে না থাকায় ওইসব সিনিয়র নেতাও জোর গলায় কোনো নির্দেশ দিতে পারছেন না।
নেতাদের মধ্যে রেষারেষি : দলের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে নেতারা এখনও ব্যক্তিস্বার্থ ও রেষারেষিতে লিপ্ত রয়েছেন। কাকে কিভাবে ঘায়েল করা যায় তা নিয়েই ব্যস্ত তারা। এর প্রভাব স্থায়ী কমিটির বৈঠক পর্যন্ত গড়িয়েছে। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। নিজেদের কোনো সফলতা না থাকলেও অন্যদের ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো সিনিয়র নেতাদের ওপর দায় চাপান। খোকার জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মহানগর বিএনপির দায়িত্ব কার। খোকা এর আহ্বায়ক; তাহলে মহানগরীর ব্যর্থতা কে নেবে। এছাড়া দলীয় কর্মকাণ্ডে সময় না দিয়ে নিজ নিজ ব্যবসা নিয়েই বেশির ভাগ নেতা ব্যস্ত রয়েছেন।
সংস্কারপন্থী বিভাজন : ওয়ান-ইলেভেনের সময় সৃষ্ট কথিত সংস্কারপন্থী ও খালেদা পন্থী বলে দলে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল তা এখনও রয়েছে। খালেদা জিয়া বারবার ঘোষণা দিয়েও এ বিভাজন দূর করতে পারেননি। কিছুদিন সংস্কারপন্থী ইস্যুটি না থাকলেও ইদানীং তা আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা সমাবেশে খালেদাপন্থী বলে পরিচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ রায় প্রকাশ্যেই সংস্কারপন্থীদের সমালোচনা করছেন। সংস্কারপন্থীদের ইঙ্গিত করে তারা বলেন, মীরজাফরদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। নানাভাবে চেষ্টা করেও এই বিভাজন দূর করতে না পারায় দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না।
ইমেজ সংকট : বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে নানা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে দেশে-বিদেশে ইমেজ সংকটে পড়ে বিএনপি। দলের অনেক সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তৃণমূল নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েন। যার মাশুল দিতে হয় ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। মাত্র ৩২টি আসন পায় ওই নির্বাচনে। এরপর দলের নেতৃত্বে দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে সৎ ও যোগ্যদের নেতৃত্বে আনার দাবি উঠলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও তারা ভালো ইজেম তৈরি করতে পারেনি।
খালেদা-তারেক বলয় : বিগত চারদলীয় জোটের সময় বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে একটি বলয় গড়ে ওঠে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দলের সিনিয়র অনেক নেতা প্রকাশ্যে সমালোচনা করে তারেকের বিরাগভাজন হন। বর্তমানে দলের নীতিনির্ধারকদের বড় একটি অংশ তারেকবিরোধী বলে পরিচিত। তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত তারেকপন্থী বলে পরিচিতরা অনেক সময় মেনে নিতে পারছেন না। তারা বসে থাকেন তারেকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তাদের যুক্তি ওয়ান-ইলেভেনের সময় এরা সরাসরি তারেক রহমানের বিরোধিতা করেন। এখনও তারা মনে মনে তারেকের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে দলের মধ্যে একটি স্নায়ু যুদ্ধ চলছে।
মামলা খাওয়া নেতাকর্মীদের অসহায়ত্ব : বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন হাজার হাজার। আর প্রায় ৩০ হাজারের মতো মামলা দেয়া হয়। কিন্তু এসব নেতাকর্মী কেন্দ্রের কোনো সহায়তা পাননি। নির্বাচনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও খালেদা জিয়া বা দলের শীর্ষ নেতারা এসব পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি। মামলার জামিন পেতে তাদের কোনো সহায়তা করা হচ্ছে না। দলের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে দলীয় কোনো সহায়তা না পাওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ আর হতাশা। অনেকে রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন।
১৯ দলের শরিকদের নিষ্ক্রিয়তা : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ জোট। কিন্তু আন্দোলনে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার জনসভায় জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ জোটের রাজনীতি। দলীয়ভাবেও তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। সম্প্রতি জোটের বৈঠকে খালেদ জিয়া বারবার স্মরণ করিয়ে দেন, সামনে আন্দোলন করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দল গোছানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু পুনর্গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। এমন বাস্তবতায় আবারও জোট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে ক্ষোভ।
 
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/06/09/109403#sthash.TLkW7HFB.dpuf

No comments:

Post a Comment