Monday, June 9, 2014

বর্ষা আসছে তাই বাড়ছে দুশ্চিন্তা

বর্ষা আসছে তাই বাড়ছে দুশ্চিন্তা
লক্ষ্মীপুর/রামগতি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জুন, ২০১৪
আসছে বর্ষা, বাড়ছে রামগতি ও কমলনগরবাসীর দুশ্চিন্তা। এ দুই উপজেলায় মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বিলীন হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ ফসলি জমি। এ মুহূর্তে চরম হুমকির মুখে রয়েছে রামগতি উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক। এসব স্থাপনা থেকে নদী ভাঙন খুব কাছাকাছি। ভাঙনে পথের ভিখারি হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধের দুপাশে। ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে মেঘনাপাড়ের মানুষগুলো তাকিয়ে আছে এখন সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকে। ভাঙনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই হয়তো রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নাম শুধু স্মৃতি হয়েই থাকবে। ভাঙনের এ তাণ্ডবলীলা দেখতে ২৯ মে সরেজমিন রামগতিতে আসেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক মাহমুদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মোঃ নজরুল ইসলাম। এর আগে ৩ মে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদেরও ওই এলাকায় পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তারা এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-মামুন ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রীদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুধাবন করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এ এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে শিগগিরই ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। পানিসম্পদমন্ত্রী ভাঙন রোধে রামগতি ও কমলনগরে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে স্থানীয় লোকজন প্রতিশ্রতি নয়, শিগগিরই এর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। রামগতি উপজেলার চরঘসাই, দক্ষিণ বালুরচর, চর আবদুল্লাহ, দক্ষিণ চরআলগী, বড়খেরী, দক্ষিণ চর রমিজ, পশ্চিম আলেকজান্ডার, আসলপাড়া, বদ্দারহাট, রঘুনাথপুর, সেবাগ্রাম, লম্বাখালী, চরগজারিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও কমলনগরের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৩ কিলোমিটার ও মতিরহাট, কালকিনি ও লুধুয়ার ৩টি স্লুুইসগেট বিলীন হয়েছে। একের পর এক ভাঙছে কমলনগর উপজেলার চরফলকন, চরকালকিনি, সাহেবেরহাট ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম। কমলনগর উপজেলার কাদির পণ্ডিতেরহাট উচ্চবিদ্যালয়, মাতাব্বরনগর দারুস সুন্নাত আলিম মাদ্রাসা, সফিকগঞ্জ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, তালতলি উচ্চবিদ্যালয়, সাহেবেরহাট দাখিল মাদ্রাসা, মতিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চর জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পশ্চিম চরজগবন্ধু মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম চরজগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালকিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালকিনি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া কমলনগরের সাহেবেরহাট, জনতাবাজার, তালতলি, বাংলাবাজার, মাতাব্বরনগর, চকবাজার, চৌরাস্তাবাজার, আজু বেপারিরহাট, সফিকগঞ্জ বাজারও নদী ভেঙে নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি, কৃষ্ণপুর, উজিরচর ও চরফলকন গ্রামে পরপর চারবার মেঘনার ভাঙনের শিকার হন ইলিশ শিকারি জেলে আবু তাহের। নদীরকূলে দাঁড়িয়ে ভাঙনের তাণ্ডব দেখছিলেন। এক সময়ের সচ্ছল এ ব্যক্তির গোলা ভরা ছিল ধান। গোয়ালে ছিল গরু। সব হারিয়ে এখন দক্ষিণ চরফলকনে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরই তার ঠিকানা। তাহেরের মতো শুধু লক্ষ্মীপুরের কমলনগরেই গত ৬ বছরে প্রায় ১ হাজার পরিবার ৩-৫ বার করে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ভাঙনের কবলে পড়া লোকজনের এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাদের শেষ আশ্রয় মিলেছে ইসলামগঞ্জ বেড়িবাঁধ, চর কাদিরা, বটতলি, আন্ডারচর ও রামগতি-কমলনগর-লক্ষ্মীপুর সড়কের দুপাশে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, রামগতি-কমলনগর ভাঙনের ব্যাপকতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/bangla-face/2014/06/09/109480#sthash.6FoG4Xpq.dpuf

No comments:

Post a Comment