Tuesday, June 10, 2014

বেনজিরের দ্বিতীয় নজির এখনও খুঁজে পাইনি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বেনজিরের দ্বিতীয় নজির এখনও খুঁজে পাইনি
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
আমাদের সংবাদপত্র জগতের দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র বড় কাছাকাছি সময়ে চলে গেছেন। একজন এবিএম মূসা এবং আরেকজন মাহবুবুল আলম। এই দুটি মৃত্যু আমাকে এমন গভীরভাবে আচ্ছন্ন করেছিল যে, এর মাঝে ছোট কিন্তু দীপ্তিমান আরও একটি নক্ষত্রেরও যে পতন হয়েছে, তা প্রথমে চোখে পড়েনি। মূসা ও মাহবুবুল আলমের মৃত্যুখবর জেনেছি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা থেকে টেলিফোনে। আর এই মৃত্যুর খবরটি আমাকে জানতে হয়েছে খবরের কাগজ থেকে। এই মৃত্যুখবরটি আর কারও নয়, আমার ছোট ভাইয়ের মতো সাংবাদিক বেনজির আহমেদের।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ছিলেন তিনি। এই প্রচারবিমুখ ছোটখাটো মানুষটির সঙ্গে একসময় এতই ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম যে, মাত্র ৬৮ বছর বয়সে তাঁর অকাল প্রয়াণে ব্যথিত না হয়ে পারছি না। এ মাসের গোড়াতেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আমি যখন ভোরের কাগজের নিয়মিত কলামিস্ট এবং কাগজটিও বাজারে বেশ দাপটের সঙ্গে চলছে, তখন মতিউর রহমান (বর্তমানে প্রথম আলোর সম্পাদক) ছিলেন তাঁর সম্পাদক। বেনজির ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক। সকলেই জানেন, মতিউর রহমানের মেধা ও দক্ষতার গুণেই ভোরের কাগজ তখন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কাগজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আমরা যারা তখন ভোরের কাগজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তারা জানি কাগজটির মূল শক্তির উৎস কে ছিলেন? তিনি এই বেনজির আহমেদ। বয়সে আমাদের চাইতে অনেক ছোট এবং সাংবাদিকতাতেও আমাদের অনেক পরে এসেছেন এই বেনজির আহমেদ কখনও পাদপ্রদীপের সামনে আসেননি। আড়ালে বসে তাঁর সেই চিররুগ্ন শরীরে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা দ্বারা ভোরের কাগজকে দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর কাগজে পরিণত করেছিলেন। বাহবা কুড়িয়েছেন অন্যে। নিভৃতচারী বেনজির নিভৃতে বসে যে দায়িত্বটি পালন করেছেন তা একজন বড় মাপের সাংবাদিকের। কিন্তু সাংবাদিকতার রঙ্গমঞ্চে পর্দার সামনে এসে দাঁড়াবার সুযোগ পেয়েও তিনি দাঁড়াননি।
নব্বইয়ের দশকের কয়েকটা বছর বেনজিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা ছিল আমার প্রাত্যহিক কাজ। লেখার টেবিলে বসলেই অতি ভোরে টেলিফোনটি বাজত। জানতাম বেনজিরের ফোন। ‘গাফ্ফার ভাই, লিখতে বসেছেন? আজকের সব খবর জানেন তো?’ তখন ইন্টারনেট ব্যবহার করা এতটা চালু হয়নি। বেনজির গড় গড় করে টেলিফোনে সেদিনের সব বড় খবরগুলো বলতেন। কোন্্ সাবজেক্ট নিয়ে লিখব, তাও মাঝে মাঝে সাজেস্ট করতেন। তাঁর সাজেশন দেয়া এবং ব্রিফিংয়ের ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হতাম। উদার এবং অসম্ভব প্রগতিশীল মন ছিল তাঁর। বর্তমানে ভোরের কাগজ তাঁর সম্পাদনার ঐতিহ্যটি ধরে রাখতে পারেনি। ধরে রাখতে পারলে তাঁর অবস্থান থেকে তাঁকে হটানো যেত না। আমার বলতে দ্বিধা নেই ভোরের কাগজের মালিকেরা কাগজটির সম্পাদক হিসেবে মতিউর রহমানকে ধরে রাখতে পারেননি, তাতে বড় ক্ষতি হতো না; যদি তারা বেনজির আহমেদকে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে রাখতে পারতেন এবং পত্রিকাটির প্রচার ও মান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সম্পাদক হিসেবে বেনজিরকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা যোগাতেন।
সেই নব্বইয়ের দশকে ভোরের কাগজে নিয়মিত কলাম লিখতে গিয়ে একটা ব্যাপার টের পেয়েছিলাম যে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রশংসা করে কিছু লিখলে সম্পাদক মতিউর রহমান খুশি হন না। সমালোচনা করে লিখলেÑ তা অযৌক্তিক সমালোচনা হলেও খুশি হন। কখনও কখনও হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে প্রশংসা করে লেখা এড়ানো না গেলে বেনজিরকে টেলিফোনে আলাপের সময় বলতাম, বেনজির, আজ যে সাবজেক্টে লিখছি, তাতে তো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে একটু প্রশংসা করা এড়ানো যাবে না। তাঁরা একটি ভাল কাজ করেছেন।
বেনজির বলতেন, এড়াবেন কেন? আপনি যা সঠিক মনে করেন তা লিখবেন। আমি বলতাম আপনার সম্পাদক যে খুশি হবেন না। বেনজির হেসে বলতেন, খুশি না হলেও ছাপবেন। তিনি সব কূল বজায় রেখে চলতে জানেন। আমি কৌতুক করে বলতাম, এটা সম্পাদক হিসেবে তাঁর একটা বড় গুণ। বেনজির বলতেন, সম্পাদক হিসেবে তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি, মান্য করি, সর্ব প্রকার সহযোগিতা দেই, কিন্তু সকল সময় তাঁর মতিগতি বুঝতে পারি না। প্রায়শই টেলিফোনে বেনজিরের সঙ্গে আমার কৌতুকালাপ হতো এবং তাঁর সঙ্গে আমার একটা গভীর অন্তরঙ্গতা গড়ে উঠেছিল।
ভোরের কাগজে তখন দেশে শীর্ষস্থানীয় কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের অনেকেই কলাম লিখতেন। যেমন শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া, শামসুর রাহমান, আবেদ খান, মুনতাসীর মামুন, আবুল মোমেন এবং আরও অনেকে। উদার ও মুক্ত চিন্তার ধারক ও বাহক ছিল পত্রিকাটি। প্রথম আলোর মতো সুযোগসন্ধানী ভূমিকা গ্রহণের সুযোগ পত্রিকাটি পায়নি। এই সুযোগ না পাওয়ার একটি বড় কারণ ছিলেন বেনজির। সম্পাদক মাঝে মাঝেই ভোল পাল্টাতে চাইতেন। কিন্তু নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে বেনজির তাঁর রাস টেনে ধরে রাখতেন। তাতে মাঝে মাঝে সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের মধ্যে যে মন কষাকষি না হতো তা নয়; কিন্তু বেনজির তাঁর সম্পাদককে সবটুকু আনুগত্য দিতেন; কিন্তু নীতির প্রশ্নে আত্মসমর্পণ করতেন না।
একবার সাবেক সিএসপি অফিসার এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এনাম আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম আলোতে আমার কলমযুদ্ধ শুরু হয়। এনাম আহমদ চৌধুরীর পেছনে এসে জুটেছিলেন যায়যায়দিনের (সাপ্তাহিক) শফিক রেহমান। তিনি এখন নবদীক্ষিত বিএনপি। এই লেখালেখি চলে পর্যায়ক্রমে। শেষের দিকে এনাম আর যুক্তি খুঁজে না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছিলেন। এই পর্যায়ে মতিউর রহমান চাচ্ছিলেন আমি যেন আর না লিখি। তিনি বার বারই আমাকে টেলিফোনে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন আমি যেন এনামকে কড়া জবাব দিয়ে আর না লিখি। তাহলেই এনাম আমার বিরুদ্ধে লেখা বন্ধ করবেন।
আমি বেনজিরকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখন আমি কী করি? বেনজির তখন ভোরের কাগজে। আমি প্রথম আলোতে লেখা শুরু করেছি। তবু বেনজিরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। বেনজির বললেন, আপনি লেখা বন্ধ করবেন কেন? এটা মতি ভাইয়ের চালাকি। তিনি চান এই বিতর্কে এনাম আহমদ চৌধুরী জয়ী হয়েছেন বলে প্রমাণিত হোক। মতি ভাইকে বলুন, তিনি যেন আগে এনাম চৌধুরীকে লেখা বন্ধ করার পরামর্শ দেন, আপনাকে নয়। কথা শেষ করে বেনজির আমাকে আরও বলেছিলেন, গাফ্ফার ভাই, মনে রাখবেন আপনি নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য লিখছেন না, আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিবিরের হয়ে লিখছেন এবং লড়ছেন। এই যুদ্ধে আপনার পরাজিত হলে চলবে না।’
বেনজিরের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা-সাক্ষাত হওয়ার আগে কেবল টেলিফোনে কথাবার্তা বলে মনে হয়েছিল, এমন বলিষ্ঠ কথাবার্তা যার, নিশ্চয়ই দেহটিও তাঁর বলিষ্ঠ। কিন্তু দীর্ঘকাল বিদেশ বাসের পর দেশে যেতেই বেনজিরের সঙ্গে দেখা। রুগ্ন চেহারার ছোটখাটো মানুষ। সম্ভবত তখনই হৃদরোগে ভুগছিলেন। আমি ঢাকায় এসেছি শুনেই ছুটে এসেছিলেন দেখা করতে। হাতে আশি হাজার টাকা। ‘ভোরের কাগজে’ আমার কলাম লেখার বাবদ জমে যাওয়া টাকা। সম্ভবত সেবারই ভোরের কাগজ ঢাকায় আমার জন্য একটি সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছিলেন। তাতে বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমানসহ শহরের গণ্যমান্য অধিকাংশ লোক এসেছিলেন। এই সংবর্ধনা সভাটি সফল করার ব্যাপারেও মূল দায়িত্বটি পালন করেছেন বেনজির আহমেদ।
এই সংবর্ধনা সভার দু’দিন পরই আমি ঢাকা ছেড়ে লন্ডনে চলে আসব। বেনজির আমাকে বিদায় দিতে এলেন। আমি যখন গাড়িতে উঠতে যাব তখন আমার হাত চেপে ধরে বললেন, ‘গাফ্ফার ভাই, একটা অনুরোধ জানাব? আপনি যা-ই লিখুন প্রগতিশীল মতাদর্শের সপক্ষে লিখে চলেছেন। আপনাকে এই মতাদর্শ থেকে সরিয়ে আনার জন্য আপনার আজকের কোন কোন বন্ধুই অনেক বড় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আপনার কাছে আসবেন। আপনি যেন আপনার কলমটি বিক্রি না করেন।’ সেদিন হঠাৎ তাঁর এই কথার আসল মানে আমি বুঝতে পারিনি। বুঝেছি অনেক পরে।
বর্তমান শতক শুরু হওয়ার কিছু আগের কথা। ভোরের কাগজে তখনও আমি লেখালেখি করছি। হঠাৎ একদিন মতিউর রহমান আমাকে জানালেন, ভোরের কাগজ তিনি ছেড়ে দিতে পারেন। মালিকদের সঙ্গে তাঁর নীতিগত বনিবনা হচ্ছে না। তাছাড়া সম্পাদক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে মালিকেরা তাঁকে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন। শুনে আমি দুঃখ পেলাম। ভোরের কাগজ তখন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় কাগজ। তার ক্ষতি হোক আমি চাইনি। কিছুদিনের মধ্যে বেনজিরের টেলিফোন পেলাম। বেনজির জানালেন, তাঁর সম্পাদক বিএনপিপন্থী এক শিল্পপতি এবং একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। তাঁরা নতুন কাগজ বের করবেন। বেনজির আমাকে অনুরোধ জানালেন, আমি যেন ভোরের কাগজ ছেড়ে দিয়ে নতুন কাগজে না যাই।
দু’দিন পরই মতিউর রহমানের দীর্ঘ চিঠি। ভোরের কাগজের মালিকদের বিরুদ্ধে এক গাদা অভিযোগ। আমি যেন ভোরের কাগজে লেখা ছেড়ে দেই। নতুন কাগজ বের হচ্ছে। যতদিন কাগজটি বের না হয়, ততদিন না লিখেই আমি লেখার টাকা পেতে থাকব। আমি চিঠি পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে টেলিফোন করলাম, শুনছি নতুন কাগজের মালিক হবেন বিএনপিন্থী এক শিল্পপতি। মতিউর রহমান বললেন, তিনি নামকাওয়াস্তে বিএনপির সঙ্গে আছেন। রাজনীতি করেন না। তাছাড়া কাগজের মালিকানায় আমার শেয়ার থাকবে, কোন অসুবিধা হবে না। চিরকাল আমি বামপন্থী রাজনীতি করেছি। আমাকে আপনি বিশ্বাস করেন না?
আমি মতিউর রহমানকে বিশ্বাস করেছিলাম। তাঁকে কথা দিলাম, ভোরের কাগজে লেখা বন্ধ করে নতুন কাগজে লেখা শুরু করার জন্য অপেক্ষা করব।
আমার সিদ্ধান্তের কথা জেনে বেনজির আহমেদ ভয়ানক দুঃখ পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনি কোন্ কাগজে লিখবেন সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা আপনি একটি বড় চক্রান্তের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। ভোরের কাগজে যে উদ্দেশ্যটি মতিভাই পূর্ণ করতে পারেননি। নতুন কাগজ বের করে সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে চান। উদ্দেশ্যটি হলো নিরপেক্ষতার নামে দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজকে বিভ্রান্ত করে বিগ পুুঁজি, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি এবং সুবিধাভোগী এলিট শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করা। আপনাদের বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে এই স্বার্থ রক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা হবে। তারপর কাগজটি দাঁড়িয়ে গেলে আপনাদের একে একে বিদায় করা হবে। ভোরের কাগজটিকে তার বর্তমান নীতি নিয়ে টিকিয়ে রাখতে না পারলে শুভ ও সৎ সাংবাদিকতার বড় বিপদ হবে গাফ্ফার ভাই।
বেনজিরের এই সতর্কবাণীতে সেদিন আস্থা স্থাপন করতে পারিনি। সেই ভুলের খেসারত দিয়েছি কিছুদিন পরই। নতুন কাগজটি কিছুদিনের মধ্যে তার আসল চেহারা প্রকাশ করেছে। কলামিস্টদের মধ্যে শুধু আমি নই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কলামিস্টদের অধিকাংশকেই একে একে এই কাগজ থেকে বিদায় নিতে হয়। সব শেষে গেছেন ড. জাফর ইকবাল। তারপর এঁদের জায়গা যাঁরা দখল করেছেন, তাঁরা কাদের স্বার্থের তল্পিবাহক তা বুঝতে সচেতন পাঠকদের কষ্ট হচ্ছে না নিশ্চয়ই।
বেনজির এরপর ভোরের কাগজের সম্পাদক হয়েছিলেন। কিন্তু মালিকদের অর্বাচীনতার জন্য থাকতে পারেননি। সম্ভবত শুধু অসুস্থতার জন্য নয়, অনেক অভিমান ও হতাশা নিয়েই তিনি কেবল ভোরের কাগজ নয়, সাংবাদিকতাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। একদিন তাঁর সতর্কবাণীকে গ্রাহ্য করিনি এবং সাংবাদিক জীবনে একটি বড় চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়েছিলাম, এটা ভেবে এখনও মনে গ্লানি বোধ করছি। বেনজির হয়ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোন বড় স্বাক্ষর রাখেননি, কিন্তু একজন বড় ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় নজির এখনও খুঁজে পাইনি।

লন্ডন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০১৪।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment