Tuesday, June 10, 2014

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ী বিজিবি পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষ আহত ২০ চেকপোস্ট ও রাইফেল ভাংচুর

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ী বিজিবি পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষ আহত ২০
চেকপোস্ট ও রাইফেল ভাংচুর
পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি ॥ জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন একটি ব্যাটালিয়ন দফতর স্থাপনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় পাহাড়ীদের সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা বিজিবির একটি অস্থায়ী চেক পোস্ট ও সৈনিকদের রান্নাঘর ও ২টি রাইফেল ভাংচুর করে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ৫ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রস্তাবিত ‘হেলিপ্যাড’ এলাকায় ফ্ল্যাগ স্থাপন করেন। এ সময় একদল পাহাড়ী নারী জায়গাটি তাঁদের এবং বিজিবির আওতার বাইরে দাবি করে কর্মরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বাগবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে উভয়পক্ষ দলভারি করে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া এবং পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলমান সংঘর্ষে পুলিশ-বিজিবির সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য বাবুছড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার শেখ মোঃ মিজানুর রহমান।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, বিজিবি সদস্যরা তাঁদের ব্যাটালিয়নভুক্ত জায়গায় ‘হেলিপ্যাড’ ফ্ল্যাগ স্থাপন করতে গেলে পাহাড়ী নারীরা ফ্ল্যাগটি উপড়ে ফেলে। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি জানতে চাইলে নারীরা হৈচৈ শুরু করে এবং তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় পুরুষরাও যোগ দেয়। পাহাড়ী নারী-পুরুষরা একপর্যায়ে ব্যাটালিয়ন সৈনিকদের রান্নাঘর ভেঙ্গে ফেলে।
এ সময় বিজিবি সদস্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন ফাঁড়ির পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই মূলত ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় বিজিবির কয়েক সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নিশান চাকমা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ১৩ নারীসহ ১৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা হলেন গোপা চাকমা, ফুল রানী চাকমা, পিংকি চাকমা, সাধনবী চাকমা, সখ্যদেবী চাকমা, নাগরী চাকমা, কমলা রতন চাকমা, সোহেলী চাকমা, সোনাদেবী চাকমা, শ্যামলিকা চাকমা এবং পাড়াপ্রধান সন্তোষ কুমার কার্বারী।
স্থানীয় কয়েক জনপ্রতিনিধি টেলিফোনে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা, দুই ভাইস চেয়ারম্যান, বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুগতপ্রিয় চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাটালিয়ন দফতরে বিজিবির কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে উভয়পক্ষ আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবুছড়া এলাকায় বিজিবির একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য ১৯৯১ সালে সরকারীভাবে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে হবে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় পাহাড়ীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। চলতি বছরের ২২ মে বাবুছড়া বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে বাবুছড়াতেই পালন করা হয়। এর পর থেকে জায়গা জমি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে পাহাড়ীদের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment