শক্তি দেখাল তালেবান
করাচীতে হামলা চালাতে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগায় জঙ্গীরা
মাত্র এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানী তালেবান পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে মনে হয়েছিল। হিংসাত্মক অন্তর্কলহ বিদ্রোহী দলটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে। সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে পড়েছিল। সামরিক জেটগুলো উপজাতীয় সীমান্ত এলাকায় জঙ্গীদের আস্তানাগুলোর ওপর বোমাবর্ষণ করে। এরপর তালেবান পাল্টা হামলা চালায়।
একদল জঙ্গী কমান্ডো সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরে রাতের বেলা করাচী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করে। তারা খাদ্য পানীয় ও গোলাবারুদ বহন করে। তারা এক দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ও উচ্চাভিলাষ মেটানোর প্রস্তুতিই নেয়। তারা সম্ভবত কোন বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করতে বা তেলের কোন ডিপো উড়িয়ে দিতে বা টারমার্কের বিমানগুলো ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলে সোমবার সরকারী কর্মকর্তারা জানান।
পাঁচ ঘণ্টা পর ১০ হামলাকারী সৈন্যদের গুলিতে মারা যায় বা তাদের আত্মঘাতী পোশাকে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয়। কিন্তু এ হামলার দুঃসাহসী প্রকৃতি পাকিস্তানের ভিত্তি পর্যন্ত কাঁপিয়ে তোলে। এটি এখনই স্মরণ করিযে দেয় যে, যত কোন্দলই থাকুক না কেন, তালেবান বিস্ময়করভাবেই এক দুর্দম শক্তি হয়ে রয়েছে।
তালেবান আফগান সীমান্ত সংলগ্ন এর উপজাতীয় ঘাঁটি থেকে অনেক দূরেও আঘাত আনতে সমর্থক। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরের ব্যস্ততম বিমানবন্দরে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম। হামলাকারীদের মধ্যে উজবেক জিহাদীরাও ছিল, এটি আবিষ্কৃত হওয়ায় খ--বিখ- থাকা সত্ত্বেও তালেবান কিভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এক আন্তর্জাতিক জঙ্গী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে পারে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি কেবল পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্যই নয়, আফগানিস্তানে আমেরিকান স্বার্থের জন্য বিপদের কারণ। তালেবানের শক্তির উৎস হলো উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সমমনা জঙ্গী দলগুলোর সঙ্গে এর গড়ে তোলা মৈত্রী নেটওয়ার্ক। উত্তর ওয়াজিরিস্তান আফগান সীমান্ত সংলগ্ন উপজাতীয় জেলা। এটি ২০০১ সাল থেকেই বিশ্বের জিহাদী দলগুলোর অর্থ, মতবাদ ও যোদ্ধাদের সরগরম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। পাঞ্জাবি, চেচেন, আরব, মধ্য এশীয়, আফগান তালেবান এবং কিছুসংখ্যক পশ্চিমা যোদ্ধাদের অবস্থান হলো উত্তর ওয়াজিরিস্তান। তালেবানের বড় মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ক এক শক্তিশালী আফগান বিদ্রোহী দল। কিন্তু তালেবানের অন্যান্য মিত্রও রয়েছে এবং তাদের মধ্যে উজবেকরাই প্রধান। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের পর দুর্ধর্ষ উজবেক যোদ্ধারা ওবামা বিন লাদেনের পথ অনুসরণ করে পাকিস্তানে প্রবেশ করে। পাকিস্তানী তালেবানের এক কমান্ডার ওয়াজিরিস্তান থেকে টেলিফোনে জানান, উজবেকদের লক্ষ্য করে ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে বিদেশী জিহাদীরা করাচী হামলায় অংশ নিয়েছিল। তালেবান যে কতখানি প্রস্তুত ছিল, তা রবিবারের হামলার ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে। রাত ১১টায় হামলা শুরু হয়। তখন পাঁচ জঙ্গীর দুটি দল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর বেশে এক দেয়াল পেরিয়ে ও প্রবেশ পথ দিয়ে বিমানবন্দরে ঢোকে। জঙ্গীরা পুরনো টারমিনাল ও কাছাকাছি এক কার্গো বিল্ডিংয়ে রাতভর সন্ত্রাস দমন কমান্ডোদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে। আগুন কার্গো বিল্ডিংজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোরের দিকে লড়াইয়ের অবসান হয়। ততক্ষণে জঙ্গীরা রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পিটিএ’র চার কর্মচারীসহ অন্তত ১৯ জনকে হত্যা করে। এক উর্ধতন সেনা কর্মকর্তা জানান, লড়াইয়ে সাত হামলাকারী নিহত হয় এবং অন্য তিনজন নিজেদের পোশাকে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণে নিহত হয়।
কিন্তু তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে যে কোন ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে ছলছাতুরী ও রাজনীতির প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যত কড়া কড়া কথাই বলুক না কেন, সেনাবাহিনী হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো কোন জঙ্গী দলকে প্রশ্রয় দেয়ার কয়েক দশকের পুরনো নীতি পরিত্যাগ করেছে বলে সামান্য আভাসই দেখা যায়। কারণ তারা সেনাবাহিনীর বৈদেশিক নীতি সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করতে ইচ্ছুক হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।
একদল জঙ্গী কমান্ডো সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরে রাতের বেলা করাচী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করে। তারা খাদ্য পানীয় ও গোলাবারুদ বহন করে। তারা এক দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ও উচ্চাভিলাষ মেটানোর প্রস্তুতিই নেয়। তারা সম্ভবত কোন বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করতে বা তেলের কোন ডিপো উড়িয়ে দিতে বা টারমার্কের বিমানগুলো ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলে সোমবার সরকারী কর্মকর্তারা জানান।
পাঁচ ঘণ্টা পর ১০ হামলাকারী সৈন্যদের গুলিতে মারা যায় বা তাদের আত্মঘাতী পোশাকে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয়। কিন্তু এ হামলার দুঃসাহসী প্রকৃতি পাকিস্তানের ভিত্তি পর্যন্ত কাঁপিয়ে তোলে। এটি এখনই স্মরণ করিযে দেয় যে, যত কোন্দলই থাকুক না কেন, তালেবান বিস্ময়করভাবেই এক দুর্দম শক্তি হয়ে রয়েছে।
তালেবান আফগান সীমান্ত সংলগ্ন এর উপজাতীয় ঘাঁটি থেকে অনেক দূরেও আঘাত আনতে সমর্থক। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহরের ব্যস্ততম বিমানবন্দরে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম। হামলাকারীদের মধ্যে উজবেক জিহাদীরাও ছিল, এটি আবিষ্কৃত হওয়ায় খ--বিখ- থাকা সত্ত্বেও তালেবান কিভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এক আন্তর্জাতিক জঙ্গী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে পারে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি কেবল পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্যই নয়, আফগানিস্তানে আমেরিকান স্বার্থের জন্য বিপদের কারণ। তালেবানের শক্তির উৎস হলো উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সমমনা জঙ্গী দলগুলোর সঙ্গে এর গড়ে তোলা মৈত্রী নেটওয়ার্ক। উত্তর ওয়াজিরিস্তান আফগান সীমান্ত সংলগ্ন উপজাতীয় জেলা। এটি ২০০১ সাল থেকেই বিশ্বের জিহাদী দলগুলোর অর্থ, মতবাদ ও যোদ্ধাদের সরগরম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। পাঞ্জাবি, চেচেন, আরব, মধ্য এশীয়, আফগান তালেবান এবং কিছুসংখ্যক পশ্চিমা যোদ্ধাদের অবস্থান হলো উত্তর ওয়াজিরিস্তান। তালেবানের বড় মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ক এক শক্তিশালী আফগান বিদ্রোহী দল। কিন্তু তালেবানের অন্যান্য মিত্রও রয়েছে এবং তাদের মধ্যে উজবেকরাই প্রধান। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের পর দুর্ধর্ষ উজবেক যোদ্ধারা ওবামা বিন লাদেনের পথ অনুসরণ করে পাকিস্তানে প্রবেশ করে। পাকিস্তানী তালেবানের এক কমান্ডার ওয়াজিরিস্তান থেকে টেলিফোনে জানান, উজবেকদের লক্ষ্য করে ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে বিদেশী জিহাদীরা করাচী হামলায় অংশ নিয়েছিল। তালেবান যে কতখানি প্রস্তুত ছিল, তা রবিবারের হামলার ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে। রাত ১১টায় হামলা শুরু হয়। তখন পাঁচ জঙ্গীর দুটি দল পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর বেশে এক দেয়াল পেরিয়ে ও প্রবেশ পথ দিয়ে বিমানবন্দরে ঢোকে। জঙ্গীরা পুরনো টারমিনাল ও কাছাকাছি এক কার্গো বিল্ডিংয়ে রাতভর সন্ত্রাস দমন কমান্ডোদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে। আগুন কার্গো বিল্ডিংজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোরের দিকে লড়াইয়ের অবসান হয়। ততক্ষণে জঙ্গীরা রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পিটিএ’র চার কর্মচারীসহ অন্তত ১৯ জনকে হত্যা করে। এক উর্ধতন সেনা কর্মকর্তা জানান, লড়াইয়ে সাত হামলাকারী নিহত হয় এবং অন্য তিনজন নিজেদের পোশাকে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণে নিহত হয়।
কিন্তু তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে যে কোন ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে ছলছাতুরী ও রাজনীতির প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যত কড়া কড়া কথাই বলুক না কেন, সেনাবাহিনী হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো কোন জঙ্গী দলকে প্রশ্রয় দেয়ার কয়েক দশকের পুরনো নীতি পরিত্যাগ করেছে বলে সামান্য আভাসই দেখা যায়। কারণ তারা সেনাবাহিনীর বৈদেশিক নীতি সম্পর্কিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করতে ইচ্ছুক হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।
No comments:
Post a Comment