Friday, June 13, 2014

পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৪

পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৪

ই সময়: পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করা পর্যন্ত সবই এগিয়েছিল প্ল্যানমাফিক৷ কিন্ত্ত ব্লু-প্রিন্টে যে ছোট্ট ফাঁক রয়ে গিয়েছে, তা নজরেই পড়েনি৷ শেষ পর্যন্ত সেটাই কাল হল৷ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল চার দুষ্কৃতী৷ তবে এই নকল-পুলিশ চক্রের মূল পান্ডা হাতকাটা কেলো এখনও নাগালের বাইরে৷

বৃহস্পতিবার দিনভর চলল একের পর এক নাটকীয় অধ্যায়৷ সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ জিঞ্জিরাবাজার এলাকার সুকদেবপুরের বাসিন্দা ভোলা নস্কর কাজে এসেছিলেন তারাতলা পেট্রোল পাম্পের সামনে৷ সে সময়ে চার যুবক নিজেদের লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়৷ হুমকি দেওয়া হয়, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা আদায় এবং ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে৷ সুতরাং, এই মামলা থেকে রেহাই পেতে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে৷ দরাদরিতে সেই অঙ্ক নেমে আসে দু'লক্ষ টাকায়৷ ভোলাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বলা হয়, সকাল ১১টা নাগাদ টাকা নিয়ে পেট্রোল পাম্পের সামনে আসতে৷

এখানেই মোক্ষম ভুলটা করে বসে এ ধরনের কাজে আগেই হাতপাকানো চার দুষ্কৃতী৷ বাড়ি ফিরে ভোলা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে বিষয়টি জানান৷ তাঁদের মাধ্যমেই অভিযোগ জানানো হয় নিউ আলিপুর থানায়৷ এর মধ্যেই ফের নকল-পুলিশের থেকে ফোন আসে৷ বলা হয়, ১১টা নয়, বিকেল ৫টায় পাম্পের সামনে টাকা আনতে হবে৷ এতে পুলিশের কাজ আরও সহজ হয়ে যায়৷
কথামতো বিকেলে শম্ভু দাস ওরফে ডাকাত শম্ভু নামে এক যুবক টাকা নিতে এসে সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে ধরা পড়ে৷ তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলের বাকি সদস্যদের ফোন করে নিউ আলিপুরের ডি-ব্লকে ডেকে পাঠানো হয়৷ সন্ধেয় পুলিশ স্টিকার লাগানো টাটা সুমোয় তিন জন চলে আসে শম্ভুর থেকে টাকা আদায় করতে৷ হাতেনাতে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় সকলে৷ গাড়িতে পাওয়া যায় পুলিসের ব্যবহার করা লাঠিও৷ পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতেরা এই এলাকারই বাসিন্দা৷ জেরায় স্বীকার করেছে, এর আগেও এ ভাবে পুলিশ পরিচয়ে টাকা আদায় করেছে তারা৷ ধৃতদের সকলের বিরুদ্ধেই তোলা আদায়, অপহরণ, ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে৷ তবে মূল পান্ডা এখনও অধরা৷ এ ছাড়াও এই চক্রের পিছনে পুলিশেরই একাংশের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷

No comments:

Post a Comment