Thursday, June 12, 2014

সংসদে বাজেট আলোচনা বিরোধীদলীয় নেত্রীর পদ হারিয়ে খালেদা জিয়া এখন দিশেহারা

সংসদে বাজেট আলোচনা বিরোধীদলীয় নেত্রীর পদ হারিয়ে খালেদা জিয়া এখন দিশেহারা
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারী দলের সংসদ সদস্যরা বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীর পদ হারিয়ে দিশেহারা খালেদা জিয়া এখন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখছেন। বর্তমান সরকারকে অবৈধ বলে আবার সেই অবৈধ সরকারের সঙ্গেই সংলাপে বসতে চাইছেন! কিন্তু সংলাপ চাইলে আন্দোলনের নামে খালেদা জিয়া নৃশংসভাবে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছেন, দেশের শত কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করেছেন- আগে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উনি (খালেদা জিয়া) যতই হম্বিতম্বি করুক, আগামী ৫ বছর পরই দেশে নির্বাচন হবে, সে পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে। 
বৃহস্পতিবার স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের অধ্যাপক আলী আশরাফ, একাব্বর হোসেন, গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, ডা. হাবিব-এ-মিল্লাত, এ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার বেগম, মাহফুজা আয়েশা খান, কবি কাজী রুবি ও বেগম সাবিহা খান । 
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক ডেপুটি স্পীকার অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, বিএনপি নেত্রী এখন সংলাপ চান! তবে আন্দোলনের নামে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে হত্যা করলেন তার আগে জবাব দিন। দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট করলেন তার আগে ক্ষতিপূরণ দিন। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার নাকি অবৈধ! আবার অবৈধ সরকারের সঙ্গে যে কোন সময় সংলাপে বসতে চান। আসলে খালেদা জিয়ার সব কথাই পরস্পরবিরোধী। প্রস্তাবিত বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য দাবি করে তিনি বলেন, দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই জয়রথ কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি করের পরিধি আরও বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বলেন, করের নেটওয়ার্ক আরও বৃদ্ধি করা দরকার। এই বাজেট বাস্তবায়ন করে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল করবেই। 
একাব্বর হোসেন বলেন, বন্দুকের নলের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিএনপির জন্ম হয়েছে বলেই দলটির নেতারা সবকিছুতেই অবৈধ দেখেন। অবৈধ দলের নেতাদের মুখে ‘অবৈধ’ শব্দটি শোভা পায় না। বিএনপি যতই হম্বিতম্বি করুক, আগামী পাঁচ বছর পরই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে কোন লাভ হবে না। 
ডা. হাবিব-এ-মিল্লাত বলেন, জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি এখন দিশেহারা হয়ে আবোলতাবোল বকছে। বিশাল বাজেট দেখে স্বশিক্ষিত খালেদা জিয়া হতভম্ব হয়ে গেছেন, তাঁর পক্ষে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো যে সম্ভব নয় তা দেশবাসী ভাল করেই জানেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান নাকি অসুস্থ! অসুস্থ্য হলে লন্ডনে ও মালয়েশিয়ায় কীভাবে যান? বিদেশ ঘুরতে পারেন কিন্তু দেশে আসার সাহস দেখাতে পারেন না। বাবা ম্যাট্টিক পাস করে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, মা পড়াশোনা না করেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই তারেক জিয়ার শখ হয়েছে ম্যাট্রিক পাস করেই ব্যারিস্টারি পাস করা। কিন্তু লন্ডনে এটা সম্ভব হবে না। বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সংশয় প্রকাশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উনি সবসময় সবকিছুতেই সংশয় প্রকাশ করেন। যেমন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment