হেরে গেছেন ৫০ চেয়ারম্যান ৩৪ জনই আওয়ামী লীগের
কাজী জেবেল
প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০১৪
দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে প্রায় অর্ধশত উপজেলা চেয়ারম্যান ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থেকেই তারা এ নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় মেয়াদ পূর্তির পর পদ ছেড়ে দিতে হবে এসব জনপ্রতিনিধিদের। এদের মধ্যে ৩৪ জন আওয়ামী লীগ ও পাঁচজন বিএনপি-সমর্থিত। বাকিরা অন্যান্য দলের। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২৮ উপজেলা চেয়ারম্যানকে হারিয়ে দখল নিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। বিপরীতে বিএনপির দখলে থাকা ৩ উপজেলায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। এছাড়া আওয়ামী লীগের তিনটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। একটিতে জাতীয় পার্টি। অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
উপজেলা নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক চেয়ারম্যানের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকাবস্থায় অনেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ক্ষমতার দাম্ভিকতায় অধিকাংশই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। আবার অনেকে দলীয় কোন্দলের বলি হয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যানদের বেশ কয়েকজন দলীয় সমর্থন নিয়ে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন। এবার দলীয় সমর্থন না পেয়ে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি দল-সমির্থত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাররা বিভক্ত হয়ে পড়েন।
তবে বিপরীত চিত্রও পাওয়া গেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তত ২৭ জন চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ, ৭ জন বিএনপি ও ৩ জন জামায়াত-সমর্থিত। ১১২ উপজেলার ২০০৯ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল ও আনুষঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এতে দেখা গেছে, প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে ৪৩ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ৫ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ১৮ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ এই ১৮ উপজেলায় জয়ী প্রার্থীর কাছাকাছি ভোট পাননি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে ১১২টি উপজেলার মধ্যে ৪৪টিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জন বিদ্রোহীসহ আওয়ামী লীগের জয়ী হয়েছেন ৪৬ জন। অপরদিকে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-সমর্থিত ৫০ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী জয় পেয়েছেন। বিদ্রোহী মিলিয়ে বিএনপির জয়ী চেয়ারম্যানের সংখ্যা ৫১ জন। ৫১ উপজেলা বাদে বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে ৩২টিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। মোটের ওপর ভালো ফল অর্জন করলেও বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। এছাড়া ৫ উপজেলায় জয়ী প্রার্থীর পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীর অবস্থান।
বিপুলসংখ্যক উপজেলা চেয়ারম্যান হেরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার রোববার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানদের হেরে যাওয়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত : উপজেলা পরিষদ কার্যকর হওয়ায় জনগণের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী তারা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেননি। দ্বিতীয়ত : জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ও দলীয় মনোনয়ন দেয়া। যেসব চেয়ারম্যান বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন তাদের জনগণ ভোট দেননি। এর বাইরে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় জাতীয় ইস্যুর প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়েছে।
দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ১১২ উপজেলার বেসরকারিভাবে ফল পাওয়া গেছে। সহিংসতার কারণে কয়েকটি উপজেলার ফল স্থগিত রয়েছে। দুই নির্বাচনে বিএনপি বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম দফার ৯৭ ও দ্বিতীয় দফার ১১২ মোট ২০৯ উপজেলার ফলাফল একত্রিত করে দেখা যায়, বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বিএনপি ৯৫ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছে। পক্ষান্তরে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ ৮০ উপজেলায় জয় পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ২০ উপজেলায় ও জাতীয় পার্টি ২ উপজেলায় জয় পেয়েছে। অন্যান্য দলগুলোর অনেক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তেমন সাফল্য পাননি।
লড়াই করেও হেরে গেলেন যেসব উপজেলা চেয়ারম্যান : উপজেলা নির্বাচনে অন্তত ৪৪ জন বর্তমান চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন আওয়ামী লীগ (বিদ্রোহীসহ) ও পাঁচজন বিএনপি-সমর্থিত। হেরে যাওয়ায় প্রার্থীরা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও এলডিপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। কেউ কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাদের অনেকেই পরাজিত হয়েছেন। অনেকের জনপ্রিয়তা এত কমে গেছে যে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও আসতে ব্যর্থ হয়েছেন।
২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন সইদুল হক। এবারও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আইনুল হকের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এমনকি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও আসতে পারেননি। ভোটের হিসাবে এ উপজেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাহরিয়ার আজম। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের কাজী শুভ রহমান চৌধুরীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মোঃ শামীম হোসেন চৌধুরী। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মোঃ আবদুর রাফে খন্দকার।
তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন জাকির হোসেন বাবুল। এবার তাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মোঃ রশিদুল ইসলাম। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম। এ উপজেলায়ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে কুড়িগ্রামের তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। এবার দুটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি ও একটিতে আওয়ামী লীগ। তিন উপজেলার দুটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আছলাম হোসেন সওদাগর এবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেম সরকারের কাছে হেরে গেছেন। অপর উপজেলা রাজারহাটে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আবু নুর মোঃ আক্তারুজ্জামানও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এ উপজেলায় বিএনপির মোঃ আবুল কাশেম সরকার জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হওয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক পলাশের কাছে অর্ধেকের কম ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান মোঃ ইউসুফ গাজী হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামানের কাছে। এ জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপির সমর্থনে ২০০৯ সালের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আবদুস শুক্কুর পাটোয়ারী এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল মোস্তফা তালুকাদারের কাছে হেরে গেছেন। যদিও এ উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বিএনপি। এলডিপির সমর্থনে নির্বাচিত চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল এবারের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফরিদ উদ্দীন খানের কাছে হেরে গেছেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামীদ জামায়াতের প্রার্থী মোঃ আবদুল হাইয়ের কাছে হেরে গেছেন।
এছাড়াও যারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থেকে নির্বাচন করেও হেরে গেছেন, তারা হলেন- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আবদুল হাদী (আ’লীগ), জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মোঃ তাইফুল ইসলাম তালুকদার (আ’লীগ), যশোরের ঝিকরগাছায় মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির (আ’লীগ), বাঘারপাড়ায় মোঃ আবু তাহের (বিএনপি) ও শার্শায় মোঃ আবদুল মান্নান মিন্নু (আ’লীগ), ঢাকার সাভারে মোঃ ফিরোজ কবির (আ’লীগ), দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোঃ আখতারুল ইসলাম চৌধুরী (আ’লীগ), নওগাঁর পতিœতলার মোঃ আবদুল গফফার (আ’লীগ) ও বাদলগাছীর আবু জাফর মোঃ সফি মাহমুদ (আ’লীগ), নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী (আ’লীগ বিদ্রোহী), লালপুরে আবদুর রাজ্জাক (বিএনপি), নেত্রকোনার খালিয়জুরীতে গোলাম কিবরিয়া জব্বার (আ’লীগ) ও বারহাট্টার মোঃ খায়রুল কবির খোকন (আ’লীগ), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আ ফ ম বাবুল (আ’লীগ), পাবনার ভাংগুরা মোঃ বাকি বিল্লাহ (আ’লীগ), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মোঃ মুক্তারুল হক (বিএনপি), ফরিদপুরের নগরকান্দায় মোঃ মনিরুজ্জামান মনির (আ’লীগ) ও সালথায় মোঃ দেলোয়ার হোসেন (আ’লীগ), বগুড়ার আদমদিঘীতে মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু (আ’লীগ), শাহজাহানপুরে ইয়াসিন আলী (জামায়াত), শিবগঞ্জে মীর শাহে আলম (বিএনপি বিদ্রোহী), বান্দরবানের থানছি খামলাই ম্রো (বিএনপি) ও লামায় মোহাম্মদ ইসমাইল (আ’লীগ), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রফিক উদ্দিন ঠাকুর (আ’লীগ), মাগুরার শালিখায় শ্যামল কুমার দে (আ’লীগ), মাদারীপুরের রাজৈরে আল-আমীন মোল্লা (আ’লীগ), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সৌম্যেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, (আ’লীগ) ও ময়মনসিংহ সদরে মোঃ ফয়জুর রহমান ফকির (আ’লীগ বিদ্রোহী), লালমনিরহাট সদরে মোঃ নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা (আ’লীগ), সিলেটের বালাগঞ্জে মোঃ মোস্তাকুর রহমান (আ’লীগ), চাঁদপুর ফরিদগঞ্জের মোঃ মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী (বিএনপি-বিদ্রোহী), ও সুনামগঞ্জ সদরে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (স্বতন্ত্র)।
পুনর্নির্বাচিত হলেন যারা : এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তত ২৭ জন চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ, ৭ জন বিএনপি ও ৩ জন জামায়াত-সমর্থিত। পুনরায় নির্বাচিতরা হলেনÑ কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মোঃ শাফায়েত আজিজ রাজু (বিএনপি), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মোঃ মুক্তারুল হক (বিএনপি), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মোঃ ইলিয়াছ পাটওয়ারী (বিএনপি), কুষ্টিয়ার খোকসায় মোঃ সদর উদ্দিন খান (আ’লীগ) ও মিরপুরে মোঃ আবদুল গফুর (জামায়াত), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু (আ’লীগ), জামালপুরের বকশীগঞ্জে আবদুর রউফ তালুকদার (বিএনপি), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোঃ মিনফুজুর রহমান (আ’লীগ), টাঙ্গাইলের সখিপুরে শওকত শিকদার (আ’লীগ), যশোরের চৌগাছায় এসএম হাবিবুর রহমান (আ’লীগ), ঢাকার কেরানীগঞ্জে শাহীন আহমেদ (আ’লীগ), দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মোঃ আফতাব উদ্দীন মোল্লা (জামায়াত), নওগাঁর নিয়ামতপুরে মোঃ এনামুল হক (আ’লীগ), নোয়াখালীর কবিরহাটে কামরুন নাহার শিউলী (আ’লীগ), পিরোজপুরের কাউখালীতে এসএম আহসান কবীর (বিএনপি), ফেনীর পরশুরামে কামাল উদ্দিন (আ’লীগ) ও সদর উপজেলা আবদুর রহমান (আ’লীগ), ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এসএম মোশাররফ হোসেন (আ’লীগ), বগুড়ার কাহালুতে মোঃ তায়েব আলী (জামায়াত), বাগেরহাটের কচুয়ায় এসএম মাহফুজুর রহমান (আ’লীগ), বান্দরবানের রুমায় অংথোয়াইচিং মার্মা (জনসংহতি), মাদারীপুরের শিবচরে মোঃ রেজাউল করিম তালুকদার (আ’লীগ), মানিকগঞ্জ সদরে আতাউর রহমান আতা (বিএনপি), মেহেরপুরে মুজিবনগরে আমিরুল ইসলাম (বিএনপি), মুন্সীগঞ্জ সদরে আনিছউজ্জামান (আ’লীগ), লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মোঃ রুহুল আমীন বাবুল (আ’লীগ) ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাওলানা জিএম আবদুল বারী (জামায়াত)।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১৮ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি : নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ১৮ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানেও যেতে পারেননি। অর্থাৎ ভোটের হিসাবে তারা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপজেলাগুলো হচ্ছে- কুষ্টিয়ার খোকসা, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রাজারহাট, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল, নওগাঁর বাদলগাছি, নাটোরের গুরুদাসপুর ও বাগাতিপাড়া, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, বগুড়ার কাহালু, শিবগঞ্জ ও শাহজাহানপুর, বান্দরবানের থানছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, লালমনিরহাট সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, পিরোজপুরের কাউখালী, পাবনার চাটমোহর ও নরসিংদীর শিবপুর। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মতে, আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাররা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা তুলনামূলক খারাপ ফল করেছে।
No comments:
Post a Comment