Wednesday, June 4, 2014

পরাজয়ের দায় রাজ্য নেতৃত্বের ওপর চাপালেন বিমান বসু

পরাজয়ের দায় রাজ্য নেতৃত্বের ওপর চাপালেন বিমান বসু
লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পলিটব্যুরোয় পরাজয়ের রায় স্বীকার করেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু। এ বার দলের রাজ্য কমিটির সামনেও তিনি মেনে নিলেন, পরাজয়ের দায় রাজ্য নেতৃত্বেরই। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে তিনি এই বিপর্যয়ের দায় স্বীকার করেন। দায় নিজেদের কাঁধে নিলেও রাজ্য কমিটিতে তোপের মুখে পড়ে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা অবশ্য ঘোষণা করেননি রাজ্য সম্পাদক। তিনি জানিয়েছেন, পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
লোকসভা ভোটে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পরে দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য কমিটির একের পর সদস্য। দুদিনের বৈঠকে জবাবি ভাষণে মঙ্গলবার তাই রাজ্য সম্পাদক বিমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত, দু’জনকেই এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। বিমান যেমন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন, তেমনই কারাত এ দিন বৈঠকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, দলের নেতা-কর্মীদের মনোভাব তিনি বুঝতে পারছেন। প্রকাশ কারাত বলেছেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে হঠাৎ করে কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। এ ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে পদক্ষেপ হবে। আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও কারাত ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে দলের মধ্যেই ক্ষোভের ঢেউ সামাল দিতে পার্টি কংগ্রেস এ বার এগিয়ে আনতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্ব। নির্ধারিত সময়ের আগে সম্মেলন করে নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় রদবদল করার ভাবনা রয়েছে তাঁদের। দিল্লীতে শুক্রবার বসছে পলিটব্যুরোর বৈঠক, তার পরের দু’দিন বসবে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানেই এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রূপরেখা ঠিক হতে পারে বলে সিপিএম সূত্রে আভাস দেয়া হয়েছে। আলিমুদ্দিনে রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনে অমল হালদার, মানব মুখার্জীসহ একাধিক নেতা রাজ্য নেতৃত্বে আগাগোড়া পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। দ্বিতীয় দিন আবার প্রণব চট্টোপাধ্যায়, নিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়েরা ‘পরিবর্তনপন্থী’দের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত মানিক সরকারকে দেখিয়ে তাঁরা এ দিন বলেছেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিকশা চেপে কর্মস্থলে যেতেন অথচ এখানে যাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের দিকে আঙ্গুল তুলছেন, বাম জমানায় মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁদের স্ত্রীদের ব্যবহারের জন্য সরকারী গাড়ি যেত। অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল মেটাতে হতো সরকারী কোষাগার থেকে! এই রকম যাঁদের জীবনযাত্রা, তাঁরা আবার অন্য নেতাদের দিকে আঙ্গুল তোলেন কী ভাবে।

No comments:

Post a Comment