Saturday, June 7, 2014

গান-কবিতার যুগল পরিবেশনা ‘দুইপারের কানাকানি’

গান-কবিতার যুগল পরিবেশনা ‘দুইপারের কানাকানি’
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুর ধরে এগিয়ে চলে গান আর ছন্দের পথ ধরে হেঁটে যায় কবিতা। সেই গান ও কবিতার সন্ধি হলো শনিবার। একই সঙ্গে পরিবেশনাকে ঘিরে এপার বাংলার সঙ্গে ওপার বাংলার মেলবন্ধন ঘটল। এপার বাংলা বাংলাদেশের পক্ষে গান শোনালেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শামা রহমান। আর ওপার বাংলা ভারতের কলকাতার হয়ে কবিতাপাঠ করেন প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গান শোনান গুণী সঙ্গীতশিল্পী অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই শিল্পীত্রয়ীর পরিবেশনায় সুর আর ছন্দের সম্মিলন ঘটে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে। গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় এখানে অনুষ্ঠিত হয় ‘দুই পারের কানাকানি’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিতায় সাজানো এ যুগলবন্দী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডার্ড গ্রুপ।
প্রখর তাপমাখা দিন শেষে স্বস্তির আবহ ছড়ানো সান্ধ্যকালীন এ আয়োজনের অন্যতম আর্কষণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের ব্রততী বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা আবৃত্তি। তার অদ্ভুত সুন্দর কণ্ঠের মহিমায় কবিতার দোলায়িত ছন্দের অনুরণন ছড়িয়ে পড়ে পুরো মিলনায়তনে। সাদা কাগজে কালো ছাপার অক্ষরগুলো যেন জীবন পায় ব্রততীর কণ্ঠে। একের পর অনবদ্য পরিবেশনায় কবিতানুরাগীদের হƒদয়ে বয়ে যায় প্রাণের স্পন্দন। শ্রোতায় ভরপুর মিলনায়তনজুড়ে সৃষ্টি হয় ভিন্ন এক আবহ। শুরুতেই এ আবৃত্তিশিল্পী পাঠ করেন রবি ঠাকুরের নিবেদন কবিতাটি। এর পর তিনি একে একে শিল্পিত উচ্চারণে কবিগুরুর কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করেন। ব্রততীর আগে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শামা রহমান। সুললিত কণ্ঠের মাধুর্যে রবীন্দ্রনাথের বর্ষা, পূজা ও বিচিত্র পর্যায়ের গান শোনান এ শিল্পী। তাঁর পরিবেশিত গানগুলোর শিরোনাম ছিল ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই/চিরদিন কেন পাই না’, ‘যে ছিল আমার স্বপ্নচারিনী’, ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি’, ‘গহনও রাতের শ্রাবণধারা’, ‘বিপুল তরঙ্গরে’, ‘আমি কান পেতে রই’ ইত্যাদি। সব শেষে মঞ্চে আসেন অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও রবীন্দ্র সুরের ঐশ্বর্যে মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের। এই তিন শিল্পীর যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন অংশুভ ব্যানার্জী, সৌরভ চক্রবর্তী, আলমাস আলী, রূপতনু, একরাম হোসেন, টুটুল ও সুবীর ঘোষ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডার্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইতেমাদ-উদ-দৌলাহ্। এর পর শিল্পীত্রয়ীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মৌসুমী বড়ুয়া।
‘বৈশাখে ছবি আঁকো জ্যৈষ্ঠে প্রদর্শনী’
পটুয়া কামরুল হাসান আর্ট স্কুলের আয়োজনে ‘বৈশাখে ছবি আঁকো জ্যৈষ্ঠে’ প্রদর্শনী শীর্ষক শিশু চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেই প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত ৬০ শিশু শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হলো শনিবার। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। এটি এ আয়োজনের ৫ম আসর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আমানউল্লাহ্্, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবুর রহমান ও এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ চৌধুরী। বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পরিচালক আনোয়ার হাসান বাবু।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিশুদের আঁকা চিত্রকর্মে উঠে এসেছে নানান বৈচিত্র্যময় বিষয়। এসেছে মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়কাল, প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ, দুরন্ত শৈশব, নিসর্গ, গ্রামীণ জীবন, নদী-ফসলের মাঠ, রানা প্লাজাসহ যাপিত জীবনের নানা অনুষঙ্গ। প্রদর্শনী চলবে ১৪ জুন পর্যস্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
আগামী ২১ জুন সকাল ১১টায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।
দৃষ্টির ফল উৎসব

সাংস্কৃতিক সংগঠন দৃষ্টির আয়োজনে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ফল উৎসব। এটি এ আয়োজনের ২১তম আসর। শনিবার সকালে এবারের উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর ও নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী। বিকেলে ছিল পুরস্কার বিতরণীপর্ব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বি মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টির সভাপতি মোশাররফ হোসেন। ঘোষণা পত্র পাঠ করেন দৃষ্টির সদস্য নাসরিন আক্তার শিমু। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দৃষ্টির সদস্য আবু আব্দুর রউফ হিমেল।
প্রতিবারের মতো এবারও ফল উৎসবটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফল প্রদর্শনী, ফলদ বৃক্ষ রোপণ, আগত অতিথিদের ফল আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ফল বিতরণ করা হয়।
সুলতানের প্রদর্শনী উপলক্ষে সঙ্গীতসন্ধ্যা
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কটে বরেণ্য শিল্পী এসএম সুলতানের ‘পরাদৃষ্টি’ শীর্ষক প্রদর্শনী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় ছিল যন্ত্রসঙ্গীত অনুষ্ঠান। বাঁশি ও তার সঙ্গে অন্য বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এ সঙ্গীতানুষ্ঠান সাজানো হয়। শুরতেই বংশীবাদক এম মনিরুজ্জামান বাঁশি বাজিয়ে শোনান। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন ইফতেখার আলম প্রধান। তানপুরা বাজান রাজিয়া সুলতানা মিশি।
উল্লেখ্য, গত মাসের ২৩ তারিখে ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কট যাত্রা শুরু করে এবং এ উপলক্ষে বিশিষ্ট শিল্পী এসএম সুলতানের নির্বাচিত চিত্রকর্ম নিয়ে ‘পরাদৃষ্টি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সোমবার থেকে শনিবার বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

মায়ের চিকিৎসার্থে দুই বাংলার চলচ্চিত্র উৎসব
বিজ্ঞাপন নির্মাতা শাহ ফজলে রাব্বীর মা শাহান আরা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসার জন্য ৪০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর পরিবারের পক্ষে এ বিপুল ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তাই মাকে বাঁচাতে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দুই বাংলার উদ্যোগে চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আজ রবিবার শুরু হচ্ছে এ উৎসব।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment