Saturday, June 7, 2014

ট্রাইব্যুনাল ও আপীল বিভাগে ৫ মামলা রায়ের অপেক্ষায় যুদ্ধাপরাধী বিচার

ট্রাইব্যুনাল ও আপীল বিভাগে ৫ মামলা রায়ের অপেক্ষায়
যুদ্ধাপরাধী বিচার
বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার বছর দুই মাস ১৩ দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ মোট ১৩ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালেই ৯টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া আপীল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে মোট ৫টি মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। যে কোন দিন এ সব মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে। নয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। চলতি মাসে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশনে দাখিল করা হতে পারে। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে। 
২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত-বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। এখন যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে আসছে সে মামলাগুলো শীর্ষ কোন নেতা নয়। জেলা পর্যায়ের ছোটখাটো নেতা। তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত তদন্ত সংস্থায় ১১ হাজার দালালের বিপরীতে ৬ শত অভিযোগ পড়েছে। যার মধ্যে অভিযোগ রয়েছে প্রায় তিন হাজার। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এখন কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছি। শীঘ্র তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন শাখায় দেয়া হবে। তার আগে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই সব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করব। যে দুটি ট্রাইব্যুনালে যে ১৩টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে রায়ের দণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করেছেন। এর মধ্যে একমাত্র ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন। ইতোমধ্যে সেই মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে আপীল বিভাগে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপীল নিষ্পত্তি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। যে কোন দিন সাঈদীর রায় ঘোষণা করা হবে। আপীল বিভাগে এখন ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ কামারুজ্জামানের মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ডের আপীল শুনানি শুরু হবে। 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ ও ২ এ এখন চারটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। এ মামলার রায়গুলো যে কোন দিন ঘোষণা করা হতে পারে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন (পলাতক), জামায়াতের ইসলামীর নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর কাশেম আলী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা মোঃ মোবারক হোসেন। 
ট্রাইব্যুনালে চারটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে এখন চারটি মামলা রয়েছে। এই চারটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহাকরী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার, জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান ও জাতীয় পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস জব্বার। এই চারটি মামলার মধ্যে প্রথম তিনটি মামলা প্রায় শেষের দিকে। মামলা তিনটির সাক্ষী শেষ হলেই যুক্তিতর্ক শুরু হবে। এর পর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালে এখন যে সব মামলা আসবে সেগুলো তেমন গুরুত্বপুর্ণ কোন নেতা নেই। তবু তদন্ত সংস্থার হাতে যে সব অভিযোগ পড়েছে সেগুলো বাছাই করে তদন্ত করা হবে। যাতে ট্রাইব্যুনাল বসে না থাকতে পারে সে জন্য মামলাগুলো তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে। 
বর্তমানে যে সব মামলার তদন্ত করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাজাকার সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, রুস্তম আলী, আমজাদ মিনা, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, রাজাকার সৈয়দ মোঃ হোসেন ওরফে হাছেন আলী, মোঃ নাসির, আতাউর রহমান। একই সঙ্গে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সেটির কাজ এখন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। 
ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর ৯টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে সর্ব প্রথম ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জমায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এর পর একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৭ সেপ্টেম্বর আপীল বিভাগ এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় প্রদান করা হয়। ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। একই বছরের ৯ মে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। ৯ অক্টোবর বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে ৩ নবেম্বর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment