রেল, প্রতিরক্ষায় রাশ আলগা
এই সময়, নয়াদিল্লি: সরকারের একচ্ছত্র অধিকার থেকে অবশেষে বেরিয়ে আসতে চলেছে রেল পরিচালন এবং প্রতিরক্ষাসামগ্রী উত্পাদন৷ সংসদের যৌথ অধিবেশনে সোমবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় যে ভাষণ দিয়েছেন সেখানে স্পষ্টই ইঙ্গিত করা হয়েছে, এবার প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে বেশি করে বিদেশি বিনিয়োগ এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেল পরিচালনার পথ খুলে দিতে চলেছে সরকার৷ অর্থাত্, শাসনভার হাতে নিয়েই দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে রীতিমতো বৈপ্লবিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী৷
তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় পরিষ্কারভাবে বলেছেন, 'পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিচ্ছে৷ আগামী দশ বছরে তা রূপায়ণ করা হবে৷ এই পরিকল্পনা হবে ফাস্ট ট্র্যাক, বিনিয়োগ-বান্ধব ও প্রত্যাশিতভাবে পিপিপি পদ্ধতিতে৷ পরিকাঠামোগত কর্মসূচিতে সবার ওপরে থাকবে রেলের আধুনিকীকরণ ও তাকে ঢেলে সাজানো৷ আমার সরকার উচ্চগতি সম্পন্ন ডায়মন্ড চতুর্ভুজ রেল প্রকল্প চালু করবে৷' অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে স্বর্ণ চতুর্ভুজ সড়ক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল৷ মোদীর আমলে নেওয়া হবে হাই-স্পিড ডায়মন্ড চতুর্ভুজ রেল পরিকল্পনা৷ রেলের পরিচালনার ক্ষেত্রে পিপিপি মডেল চালু হলে সেটা হবে রীতিমতো বিশাল পদক্ষেপ৷ দিল্লির মেট্রো রেলের একটা অংশও পিপিপি মডেলে চলে৷ মোদীর মন্ত্র হল, ন্যূনতম সরকার, সর্বাধিক সুশাসন৷ তাঁর এই চিন্তার সঙ্গেই খাপ খেয়ে যাচ্ছে রেলে পিপিপি মডেল৷
প্রতিরক্ষা সামগ্রীর উত্পাদনের ক্ষেত্রে আরও উদার হওয়া ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়াও অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ৷ মনমোহন সিং-ও এক সময় এই পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্ত্ত দলের বাধায় পারেননি৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, 'আমার সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও সংস্কার করবে৷ উদ্দেশ্য-- দক্ষতা বাড়ানো ও অর্থনীতির উন্নতি৷ বেসরকারি ক্ষেত্র-সহ ঘরোয়া শিল্পকে নকশা ও উত্পাদনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হবে৷ প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপরেও অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা উত্পাদনে বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও সুগম করা হবে৷ আমাদের দক্ষ কর্মী আছে৷ সফটওয়ার আছে৷ প্রযুক্তি পেলে আমরা বিশ্বের অগ্রণী প্রতিরক্ষা সামগ্রী উত্পাদক হতে পারব৷ এর ফলে শিল্পেরও উন্নতি হবে এবং আমরা রপ্তানিও করতে পারব৷'
রাষ্ট্রপতির ভাষণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আর্থিক ক্ষেত্রকে৷ গত দু' বছর ধরে আর্থিক উন্নয়নের হার পাঁচ শতাংশেরও নীচে এসে দাঁড়িয়েছে৷ কমেছে কর সংগ্রহের পরিমাণও৷ তাই অর্থনীতিকে আবার ঠিক জায়গায় ফেরানোটা মোদীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলি যাতে ব্যবসা করতে পারে, তার পথ সুগম করতে সংস্কার করা হবে৷ আর ভারতকে আন্তর্জাতিক উত্পাদন ক্ষেত্র করে তুলতে তিনটি এস-এর ওপর নির্ভর করবে সরকার-- স্কিল, স্কেল আর স্পিড৷ অর্থাত্, দক্ষতা, পরিমাণ ও গতি৷ রেলের পণ্য পরিবহণের জন্য নির্দিষ্ট করিডোরের পাশে বিশ্বমানের পরিকাঠামো ও শিল্পতালুকও গড়ে তোলা হবে৷
হর খেত কো পানি কৃষিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন মোদী৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, 'আমার সরকার কৃষিতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াবে৷ কৃষি-পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে৷ কৃষিকাজকে বিজ্ঞানসম্মত করার জন্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে৷ ফল প্রক্রিয়াকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে৷' সেচের জন্য নতুন একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সেচ প্রকল্পগুলির রূপায়ণ করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চয় যে.াজনা চালু করা হবে৷ যার উদ্দেশ্য হবে, হর খেত কো পানি৷ বৃষ্টির জল ধরে রেখে জল সঞ্চয় ও সিঞ্চনের ব্যবস্থা করা হবে৷
মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মাসুল ইউপিএ সরকারকে দিতে হয়েছে৷ তাই মোদী প্রথম থেকেই মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, 'খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাকে আমাদের সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি৷ কৃষিজাত জিনিসের যোগান যাতে ঠিক থাকে তার দিকে লক্ষ্য রাখা হবে৷ কালোবাজার ও মজুতদারির বিরুদ্ধে আমার সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে৷ পাশাপাশি, রেশন ব্যবস্থারও সংস্কার করা হবে৷'
গরিবি হঠাও গরিবদের ওপরের স্তরে তুলে আনা নয়, গরিবিকেই শেষ করে দেওয়া মোদীর মন্ত্র৷ ইউপিএ সরকারের লক্ষ্য ছিল, যত বেশি সম্ভব লোককে গরিবি রেখার ওপরে তুলে আনা৷ আর মোদীর লক্ষ্য, গরিবিকেই খতম করা৷ তাই প্রণববাবু তাঁর ভাষণে বলেছেন, 'আমাদের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ভারতকে গরিবির অভিশাপ থেকে মুক্ত করা৷ গরিবদের ওপরের স্তরে তুলে আনা নয়, আমার সরকার গরিবিকেই নির্মূল করতে চায়৷ উন্নয়নে প্রথম অধিকার গরিবদেরই৷'
কর্মসংস্থান কর্মসংস্থানের ওপর খুবই জোর দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে৷ বলা হয়েছে, পর্যটন, কৃষিভিত্তিক শিল্পকে আগে নিয়ে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে৷ যে সব উত্পাদন ক্ষেত্রে বেশি লোক লাগে, সরকার সেগুলিকে বেশি সুবিধা দেবে৷ পেনশন ও স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে সব কর্মী এই সুযোগ পান৷
টিম ইন্ডিয়া রাষ্ট্রপতির বলেছেন, 'ভারত যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশ৷ কিন্ত্ত বহু বছর ধরে এই যুক্তরাষ্ট্রীয় ভাবনাকে লঘু করা হয়েছে৷ এবার কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে টিম ইন্ডিয়া গড়ে তুলতে হবে৷ পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করবে৷ তাতে রাজ্যগুলি দ্রুত উন্নতির পথে হাঁটতে পারবে৷' সেই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, পূর্ব ভারত যাতে পশ্চিমের মতো উন্নতি করতে পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ জম্মু ও কাশ্মীর ও দেশের উত্তর-পূর্বে যোগাযোগ ও সীমান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে৷
নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি কাজ স্বচ্ছ প্রশাসন ও নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি কাজ করাও গুরুত্ব পেয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে৷ প্রণববাবু বলেছেন, 'আমার সরকার আমলাতন্ত্রের আস্থা ও নৈতিকতা বাড়াতে ব্যবস্থা নেবে৷ তাদের কাজের স্বাধীনতা দেবে৷ নতুন, অভিনব ধারণাতে উত্সাহ দেবে৷ স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সব সরকারি কাজ শেষ করবে৷'
ই গভর্নেন্স রাষ্ট্রপতির ভাষণে ই গভর্নেন্সের ওপরেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ে তোলার কথা৷ প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে৷ সামাজিক মাধ্যমগুলিকে উত্সাহ দেওয়া হবে৷ সেগুলির মাধ্যমে লোকে যাতে প্রশাসনে, সরকারে অংশ নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হবে৷
তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় পরিষ্কারভাবে বলেছেন, 'পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিচ্ছে৷ আগামী দশ বছরে তা রূপায়ণ করা হবে৷ এই পরিকল্পনা হবে ফাস্ট ট্র্যাক, বিনিয়োগ-বান্ধব ও প্রত্যাশিতভাবে পিপিপি পদ্ধতিতে৷ পরিকাঠামোগত কর্মসূচিতে সবার ওপরে থাকবে রেলের আধুনিকীকরণ ও তাকে ঢেলে সাজানো৷ আমার সরকার উচ্চগতি সম্পন্ন ডায়মন্ড চতুর্ভুজ রেল প্রকল্প চালু করবে৷' অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে স্বর্ণ চতুর্ভুজ সড়ক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল৷ মোদীর আমলে নেওয়া হবে হাই-স্পিড ডায়মন্ড চতুর্ভুজ রেল পরিকল্পনা৷ রেলের পরিচালনার ক্ষেত্রে পিপিপি মডেল চালু হলে সেটা হবে রীতিমতো বিশাল পদক্ষেপ৷ দিল্লির মেট্রো রেলের একটা অংশও পিপিপি মডেলে চলে৷ মোদীর মন্ত্র হল, ন্যূনতম সরকার, সর্বাধিক সুশাসন৷ তাঁর এই চিন্তার সঙ্গেই খাপ খেয়ে যাচ্ছে রেলে পিপিপি মডেল৷
প্রতিরক্ষা সামগ্রীর উত্পাদনের ক্ষেত্রে আরও উদার হওয়া ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়াও অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ৷ মনমোহন সিং-ও এক সময় এই পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্ত্ত দলের বাধায় পারেননি৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, 'আমার সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও সংস্কার করবে৷ উদ্দেশ্য-- দক্ষতা বাড়ানো ও অর্থনীতির উন্নতি৷ বেসরকারি ক্ষেত্র-সহ ঘরোয়া শিল্পকে নকশা ও উত্পাদনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হবে৷ প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপরেও অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা উত্পাদনে বিদেশি বিনিয়োগের পথ আরও সুগম করা হবে৷ আমাদের দক্ষ কর্মী আছে৷ সফটওয়ার আছে৷ প্রযুক্তি পেলে আমরা বিশ্বের অগ্রণী প্রতিরক্ষা সামগ্রী উত্পাদক হতে পারব৷ এর ফলে শিল্পেরও উন্নতি হবে এবং আমরা রপ্তানিও করতে পারব৷'
রাষ্ট্রপতির ভাষণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আর্থিক ক্ষেত্রকে৷ গত দু' বছর ধরে আর্থিক উন্নয়নের হার পাঁচ শতাংশেরও নীচে এসে দাঁড়িয়েছে৷ কমেছে কর সংগ্রহের পরিমাণও৷ তাই অর্থনীতিকে আবার ঠিক জায়গায় ফেরানোটা মোদীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলি যাতে ব্যবসা করতে পারে, তার পথ সুগম করতে সংস্কার করা হবে৷ আর ভারতকে আন্তর্জাতিক উত্পাদন ক্ষেত্র করে তুলতে তিনটি এস-এর ওপর নির্ভর করবে সরকার-- স্কিল, স্কেল আর স্পিড৷ অর্থাত্, দক্ষতা, পরিমাণ ও গতি৷ রেলের পণ্য পরিবহণের জন্য নির্দিষ্ট করিডোরের পাশে বিশ্বমানের পরিকাঠামো ও শিল্পতালুকও গড়ে তোলা হবে৷
হর খেত কো পানি কৃষিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন মোদী৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছে, 'আমার সরকার কৃষিতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াবে৷ কৃষি-পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে৷ কৃষিকাজকে বিজ্ঞানসম্মত করার জন্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে৷ ফল প্রক্রিয়াকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে৷' সেচের জন্য নতুন একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সেচ প্রকল্পগুলির রূপায়ণ করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চয় যে.াজনা চালু করা হবে৷ যার উদ্দেশ্য হবে, হর খেত কো পানি৷ বৃষ্টির জল ধরে রেখে জল সঞ্চয় ও সিঞ্চনের ব্যবস্থা করা হবে৷
মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মাসুল ইউপিএ সরকারকে দিতে হয়েছে৷ তাই মোদী প্রথম থেকেই মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, 'খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাকে আমাদের সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি৷ কৃষিজাত জিনিসের যোগান যাতে ঠিক থাকে তার দিকে লক্ষ্য রাখা হবে৷ কালোবাজার ও মজুতদারির বিরুদ্ধে আমার সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে৷ পাশাপাশি, রেশন ব্যবস্থারও সংস্কার করা হবে৷'
গরিবি হঠাও গরিবদের ওপরের স্তরে তুলে আনা নয়, গরিবিকেই শেষ করে দেওয়া মোদীর মন্ত্র৷ ইউপিএ সরকারের লক্ষ্য ছিল, যত বেশি সম্ভব লোককে গরিবি রেখার ওপরে তুলে আনা৷ আর মোদীর লক্ষ্য, গরিবিকেই খতম করা৷ তাই প্রণববাবু তাঁর ভাষণে বলেছেন, 'আমাদের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ভারতকে গরিবির অভিশাপ থেকে মুক্ত করা৷ গরিবদের ওপরের স্তরে তুলে আনা নয়, আমার সরকার গরিবিকেই নির্মূল করতে চায়৷ উন্নয়নে প্রথম অধিকার গরিবদেরই৷'
কর্মসংস্থান কর্মসংস্থানের ওপর খুবই জোর দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে৷ বলা হয়েছে, পর্যটন, কৃষিভিত্তিক শিল্পকে আগে নিয়ে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে৷ যে সব উত্পাদন ক্ষেত্রে বেশি লোক লাগে, সরকার সেগুলিকে বেশি সুবিধা দেবে৷ পেনশন ও স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে সব কর্মী এই সুযোগ পান৷
টিম ইন্ডিয়া রাষ্ট্রপতির বলেছেন, 'ভারত যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশ৷ কিন্ত্ত বহু বছর ধরে এই যুক্তরাষ্ট্রীয় ভাবনাকে লঘু করা হয়েছে৷ এবার কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে টিম ইন্ডিয়া গড়ে তুলতে হবে৷ পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করবে৷ তাতে রাজ্যগুলি দ্রুত উন্নতির পথে হাঁটতে পারবে৷' সেই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, পূর্ব ভারত যাতে পশ্চিমের মতো উন্নতি করতে পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ জম্মু ও কাশ্মীর ও দেশের উত্তর-পূর্বে যোগাযোগ ও সীমান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে৷
নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি কাজ স্বচ্ছ প্রশাসন ও নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি কাজ করাও গুরুত্ব পেয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে৷ প্রণববাবু বলেছেন, 'আমার সরকার আমলাতন্ত্রের আস্থা ও নৈতিকতা বাড়াতে ব্যবস্থা নেবে৷ তাদের কাজের স্বাধীনতা দেবে৷ নতুন, অভিনব ধারণাতে উত্সাহ দেবে৷ স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সব সরকারি কাজ শেষ করবে৷'
ই গভর্নেন্স রাষ্ট্রপতির ভাষণে ই গভর্নেন্সের ওপরেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ে তোলার কথা৷ প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে৷ সামাজিক মাধ্যমগুলিকে উত্সাহ দেওয়া হবে৷ সেগুলির মাধ্যমে লোকে যাতে প্রশাসনে, সরকারে অংশ নিতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হবে৷
No comments:
Post a Comment