Sunday, June 8, 2014

বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি প্রবাহ তথ্য চুক্তি যৌথ নদী কমিশনের মিটিংয়ের জন্য ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি প্রবাহ তথ্য চুক্তি
যৌথ নদী কমিশনের মিটিংয়ের জন্য ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত ইয়ালুজংবু ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানিপ্রবাহের যাবতীয় তথ্য বিনিময় করা হবে। রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অপরদিকে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তাদেরই মীমাংসা করতে হবে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র ও চীনের ইয়ালুজংবু নদীর পানিপ্রবাহ তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান ও চীনের পক্ষের সে দেশের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী লিউ নিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও ইয়ালুজংবু নদীর পানিপ্রবাহের যাবতীয় তথ্য দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বিনিময় করবে। চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পানির স্তর, বন্যার পানিবৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিদিন দুইবার তথ্য বিনিময় করা হবে। প্রতিবছর বন্যা মৌসুমে ১৫ মে থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশ এই তথ্য বিনিময় করবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে উল্লেখিত দুই নদীর বিষয়ে যাবতীয় তথ্য বিনিময় করা হবে। চীনের তিব্বতের পানিসম্পদ ব্যুরো ও বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন এই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রবাহিত ইয়ালুজংবু ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নেয়া হয়। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ বন্যার পূর্বাভাসের তথ্য বিনিময় করবে।
বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্রের উৎস নদী চীনের তিব্বতের ইয়ালুজংবু। এটি চীনের পঞ্চম বৃহত্তম নদী। এই নদীটিই ভারতের অরুণাচল প্রদেশ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যে নদীবিষয়ক তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১৮ আগস্ট একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দেশ ব্রহ্মপুত্র ও ইয়ালুজংবু নদীর বন্যার পূর্বাভাস তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তবে সে সমঝোতার চুক্তির মেয়াদ গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে দুই দেশের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদী আরেকটি চুক্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি করার লক্ষ্যে ৯ সদস্যের চীনা প্রতিনিধিদল শনিবার ঢাকায় এসেছেন। চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেদেশের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী লিউ নিং। দুই দেশের প্রতিনিধিরা মেঘনায় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প, নদীতে ড্রেজিং, বৃষ্টির পানির ব্যবহার নিশ্চিত ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চীনা সহায়তা চাওয়া হয়। এ সময় তাঁরা এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
চীনা প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন। বৈঠকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যা তাদেরই সমাধান করতে হবে। তাদের সমস্যা মেটানোর দায়দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তবে আমরা তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী।
টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। তবে টিপাইমুখ বাঁধ হলে যে, বাংলাদেশ শুকিয়ে যাবে, মরুভূমি হয়ে যাবে, এটা ঠিক নয়। টিপাইমুখ বাঁধের ফলে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি কতটা হবে, সেটা সমীক্ষার পরেই বোঝা যাবে। সমীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোন কাজ করছি না। অনেকেই বলে থাকেন, এই সরকার ভারতের নতজানু সরকার। তবে এটা একদমই ঠিক নয়। আমরাই প্রথমে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি। এর আগে কোন সরকারই এ নিয়ে আদালতে যায়নি।
ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ নিয়ে তাদের নিজেদের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণও রয়েছে।
ভারতের বিজেপি সরকার গঠনের পরে ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ডাকার জন্য সেদেশের নতুন পানিসম্পদমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সফরেররও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা আশা করি তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন। পানি সমস্যা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
ভারতের নতুন সরকার এলেও বাংলাদেশের সঙ্গে কোন সমস্যা হবে না উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে ভোটের পরে সেসব কথা নিয়ে অনেকেই মাথা ঘামান না। ভারতের মোদি সরকারও নির্বাচনের পরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে। তাই আমরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে। জানা গেছে, চীনা প্রতিনিধিদল আজ সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট পরিদর্শন করবেন। চীনা প্রতিনিধিদল সোমবারই ঢাকা ত্যাগ করবেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment