Saturday, June 14, 2014

বাংলাদেশকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখতে চায় চীন চুক্তি হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারের- সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখতে চায় চীন
চুক্তি হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলারের- সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ চীন সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে চীন কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। সাম্প্রতিক সফরের যৌথ ইশতেহারে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কথা। এর পরে সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের বিচার করতে হলে আগে মা ও ছেলেকে রিমান্ডে নিতে হবে। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে কার কতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল কিংবা হত্যাকারী কারা তা জানতে কাউকে রিমান্ডে নিতে হলে আগে নিতে হবে মা-ছেলেকেই।
সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করব? আন্দোলনের নামে তাঁরা শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সেই প্রাণ কী ফেরত দিতে পারবে? মা (খালেদা জিয়া) সংলাপ চান, আর তাঁর ছেলে আমার রিমান্ড চান! তাই মা-ছেলেকেই ঠিক করতে হবে তারা কী চায়? আগে তারা করণীয় ঠিক করুক, পরে দেখা যাবে। আসলে নির্বাচনে না এসে উনি (খালেদা জিয়া) যে ভুল করেছেন, তা শোধরানোর জন্য এখন অনেক কথাই বলবেন। এখন তো তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রীও নেই, তাঁর কোন প্রটোকলও নেই।
শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে সম্প্রতি তাঁর চীন সফর নিয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও চীন সফরে অর্জিত সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফরকারী মন্ত্রী-নেতা ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও তাঁর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যগণ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। এ অগ্রযাত্রা কেউ ব্যাহত করতে পারবে না। ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করব ইনশাল্লাহ।

জিয়া হত্যাকা- প্রসঙ্গ
খালেদা জিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের সঙ্গে সংলাপ করতে চেয়েছেন, আবার তাঁর ছেলে মালয়েশিয়ায় জিয়া হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে রিমান্ডে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া হত্যাকা-ের প্রায় ৯ বছর পর ’৯০-এর জানুয়ারির কোন একদিন গুলিস্তানের এক সমাবেশে খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, তাঁর স্বামীর হত্যাকারী জেনারেল এরশাদ! তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন প্রশ্ন হলো যাকে তিনি (খালেদা জিয়া) স্বামীর হত্যাকারী বললেন, সেই স্বামীর হত্যাকারীর কাছ থেকে দুটি আলিশান বাড়ি, গাড়ি এবং টাকা-পয়সা নিলেন কিভাবে? স্বামী হত্যাকারীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে লজ্জা করল না?
প্রধানমন্ত্রী উল্টো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, স্বামীর লাশ উনি (খালেদা জিয়া) কেন দেখতে চাননি? যে ছেলে আজ বড় কথা বলছে, বাপের মুখ কী দেখতে চেয়েছে? রহস্য কী? তিনি বলেন, জিয়া হত্যা মামলা চট্টগ্রাম কোর্টে আছে। মামলাটি ১৫০ বার কোর্টে উঠেছে, বিএনপির কেউ কী কোন সাক্ষী দিয়েছে? বিএনপির কেউ কী মামলাটি চালাচ্ছে? দুই বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর ছেলে হাওয়া ভবন খুলে সমান্তরাল সরকার পরিচালনার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব অপকর্মই করেছে। এ বিচার কেন বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে করল না? তিনি বলেন, জিয়া হত্যার মামলা আদালতে এখনও আছে। খুনের মামলা কখনও তামাদি হয় না। জিয়া হত্যার পর বিদ্রোহের নামে তড়িঘড়ি করে বিচারের নামে ১২ সামরিক অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হলো। ফাঁসি হওয়া অনেক অফিসারই জানত না তাদের কী অপরাধ ছিল? এত তড়িঘড়ি করে মামলাটির বিচার কেন করা হলো? কেন প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকেও স্বামী হত্যার বিচার করলেন না, জিয়া হত্যাকারীদের সঙ্গে তাঁর (খালেদা জিয়া) কী সম্পর্ক ছিল- জাতির সামনে একদিন তাঁকে জবাব দিতেই হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জেনারেল জিয়া মারা যাওয়ার পর বলা হলো, তিনি নাকি ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি রেখে গেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে কেবিনেট সিদ্ধান্ত নিল, খালেদা জিয়াকে একটা বাড়ি দেয়া হবে। কিন্তু কেবিনেট যে বাড়িটি দিতে চাইল, সেটি তাঁর পছন্দ হলো না। তিনি গুলশানে সবচেয়ে দামি ও ভাল বাড়িটি নিয়েছেন। তিনি বলেন, তাতেও তিনি (খালেদা) ক্ষান্ত হলেন না। জেনারেল এরশাদের কাছ থেকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটিও নিলেন। গাড়িসহ অনেক আর্থিক সুবিধাও নিলেন। প্রশ্ন হলো- তিনি এরশাদকে স্বামীর হত্যাকারী বললেন, তাঁর কাছ থেকে গাড়ি-বাড়ি নিলেন কিভাবে? জেনারেল এরশাদকে হত্যাকারী বলেও তাঁর কাছ থেকে সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন খালেদা জিয়া। সুতরাং মা-ছেলেকে রিমান্ডে নিলেই জিয়ার আসল হত্যাকারী কারা, তা জানা যাবে।
জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনী-বেঈমান-মোনাফেক মোশতাক সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিল। খুনী মোশতাকের সঙ্গে জেনারেল জিয়ার কী সম্পর্ক ছিল, নেপথ্যে কী সমঝোতা ছিল? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের জেনারেল জিয়া শুধু লালন-পালনই নয়, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জেনারেল জিয়াও যে জড়িত ছিল তা পরিষ্কার।
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এরশাদকে স্বামীর হত্যাকারী বললেন, আবার তাঁর কাছ থেকে বাড়ি-গাড়িসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিতে আপনার লজ্জা হলো না? আমি তো কিছু নেইনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমার কিছুই ছিল না। দেশে ফেরত আসার পর জেনারেল জিয়া আমাকে আমাদের ধানমন্ডির বাসায় ঢুকতে দেননি। বাড়িতে গিয়ে বাবা-মার জন্য একটু মিলাদও করতে পারেনি। বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে মিলাদ দিয়েছি। তখন তো আমাকেও অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল, আমি তো নেইনি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়া সস্ত্রীক ভারত সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে জিয়া আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, আমি দেখা করিনি। ১৯৮০ সালে লন্ডন সফরের সময়ও জিয়াউর রহমান আমার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমি দেখা করিনি। কারণ, কোন খুনীর মুখ আমি দেখতে চাইনি।

সংলাপ প্রস্তাব পরোক্ষ নাকচ
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংলাপ প্রস্তাব পরোক্ষভাবে নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ? নির্বাচনের আগে সংলাপ করতে আমি নিজে তাঁকে ফোন করেছি। কয়েক ঘণ্টা পর ফোন ধরার পর যে ঝাড়ি তাঁর (খালেদা জিয়া) কাছ থেকে খেয়েছি, তাঁর সেই মধুর সুবচন আবার শুনব কী না ভেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে উনি (খালেদা জিয়া) আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন। সেই প্রাণগুলো কী উনি ফেরত দিতে পারবেন? দেশের বহু সম্পদ উনি ধ্বংস করেছেন, তার কী জবাব আছে তাঁর কাছে?
তিনি বলেন, এখন উনি (খালেদা) সংলাপ চান, আর তাঁর পুত্র আমার রিমান্ড চান! আসলে সত্যিকার অর্থে তাঁরা কী চান আগে ঠিক করে বলুক। ঠিক করার পর বলুক কী করবে। তার পর দেখা যাবে। দেশের স্বার্থে যা করার আমরা তাই করব। বাস্তবে নির্বাচনে না এসে তাঁরা (খালেদা জিয়া) যে ভুল করেছে, তা শোধরানোর জন্য এখন অনেক কিছুই বলবে, করবে। তিনি বলেন, এর আগে বড়াই করে উনি (খালেদা) বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, আমি প্রধানমন্ত্রী কেন কোনদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। এখন তাঁর অভিশাপ তাঁর বেলাই ফলে গেছে। উনি এখন বিরোধী দলের নেতাও নেই, তাঁর কোন প্রটোকলও নেই।

বনের বাঘ খায় না, মনের বাঘ খায়
দেশের সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধির কর্মকা-ের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বনের বাঘ খায় না, মনের বাঘ খায়- এ প্রবাদের মতোই অবস্থা হয়েছে দেশের কিছু মানুষের। উনাদের এখন মনের বাঘ খাচ্ছে। জনগণের কাছে যেতে পারে না, নির্বাচন করতে পারে না, জনগণের কাছে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারে না। কিন্তু উনাদের খায়েশ আছে ক্ষমতায় যাওয়ার। এজন্য সব সময় উল্টো রথে চলে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ উনাদের (কথিত কিছু সুশীল সমাজ) পছন্দ নয়। অথচ গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোন দেশ উন্নতি করতে পারে না। সব সময় তাদের অন্য চিন্তা। যখন একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ আসে উনারা মনে করেন উনাদের কোন মূল্য থাকে না। যখন একটা সামরিক বা অসাংবিধানিক সরকার আসে, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আসে- তখন উনাদের দাম-টাম বেড়ে যায়। কাজেই অশান্তি দেশে না, অশান্তি উনাদের অন্তরে-মনে। এটা হলো বাস্তব কথা। তিনি বলেন, তাঁর সরকার সফলভাবে দেশ চালাচ্ছে। এ কারণেই এখন চীন, জাপানের মতো দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে। বাইরের বন্ধুরা বুঝতে পারছেন দেশ ভাল চলছে, বুঝতে পারছে না ঘরের লোকরাই।
ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একজন নেতা আছে যিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোর্টে কোর্টে গিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। অথচ তিনি নিজেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেছেন। ’৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া আসনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর সংবিধান রচনার সঙ্গে তাঁর একটা সম্পর্ক রয়েছে। গর্ব করে উনিই বলেন, সংবিধান রচনা করে দিয়েছেন। সেই সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচনটা হয়েছে। তার পরও নির্বাচন পছন্দ হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না, উনিই ভাল বলতে পারবেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় কে থাকবে তার অধিকার একমাত্র জনগণের। সংবিধান অনুযায়ীই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, দেশের শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়ে আমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাই এটা নিয়ে অযথা পানি ঘোলা করে কোন লাভ নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী যারা আগাম নির্বাচন চান তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা দুই মুঠো ভাত পেট ভরে খাক- এটা কী চান না? বাংলাদেশের মানুষ আজকে যে একটু উন্নত জীবনের ছোঁয়া পাচ্ছে সেটা চান না? আজকে মানুষ ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। এটা উনাদের পছন্দ না। খালি উনারাই ভাল থাকবে আর মানুষ অবহেলিত থাকবে কেন? কিসের জন্য? এদেশের মানুষ স্বাধীনতা এনেছে, এদেশের মানুষের একটা অধিকার আছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সে অধিকারটা সুরক্ষিত করা, মানুষের অধিকার মানুষের হাতে তুলে দেয়া।
মামলা আপন গতিতে চলবে
দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণকারী তারেক রহমানকে দেশে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্রের চোরাচালান, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ অনেক ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রীর (খালেদা) পুত্রদের বিদেশে অর্থপাচারের ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছেন। হাওয়া ভবন খুলে সমান্তরাল সরকার গঠন করে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। এসব অপকর্মের মামলা চলছে, বিচারও চলছে। মামলার স্বার্থে যা যা করার তার সবই করা হবে।
সন্ত্রাসী কর্মকা- করতে কাউকে দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না
সম্প্রতি হবিগঞ্জের সাতছড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কেউ কোন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাক আমরা তা চাই না। এ কারণেই আমরা শক্তহাতে সন্ত্রাসীদের দমন করছি। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বগুড়ায় ট্রাকভর্তি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্রের বিশাল চালানের কথাও দেশবাসী জানেন। ওই সময় বাংলাদেশ ছিল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মাটিকে ক্লিন (পরিষ্কার) করতে চাই। আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশে কেউ অশান্তি করুক, তা আমরা হতে দেব না। কঠোরহস্তে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- দমন করা হচ্ছে, আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আর এসব ইতিহাস বিকৃত করছে স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু ও তাদের দোসররা। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিশ্বকাপে আপনি ব্রাজিলের সমর্থক কি না জানতে চাইলে হাসতে হাসতে শেখ হাসিনা বলেন, যে ভাল খেলবে আমি তারই সাপোর্টার। এ সময় সাংবাদিকরা কার সাপোর্টার জানতে চাইলে বেশিরভাগই ব্রাজিলের পক্ষে ভোট দেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও আপনাদের সঙ্গে আছি। বিশ্বকাপ নিয়ে বিদেশী পতাকা টানানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এলেই সমর্থকদের মধ্যে একটা উৎসবের সৃষ্টি হয়। যে যে দেশটির সাপোর্টার তারা যদি সে দেশের পতাকা নিয়ে উৎসব করে তাতে আপত্তি কী? নতুন প্রজন্মরা এমন উৎসবে মেতে থাকলে অন্তত বিপথে যাবে না।

আমি তো টার্গেট হয়েই আছি
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করেছি, রায়ও কার্যকর হয়েছে। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও শুরু হয়েছে। এ বিচার বন্ধে জাতীয়-আন্তর্জাতিক বাধা ও চাপও আমাদের সহ্য করতে হচ্ছে। আমি তো ওদের টার্গেট হয়েই আছি। কিন্তু আমি ও আমার পরিবার ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের জন্য কাজ করি না। দেশের মানুষ কিভাবে ভাল থাকবে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই আমি কাজ করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সেতু নির্মাণ নিয়েও অনেক চক্রান্ত হয়েছে। আমরা সঠিক পথে ছিলাম বলেই দুর্নীতির অভিযোগ এনেও প্রমাণ করতে না পেরে এখন চুপ করে আছে। অত্যন্ত আধুনিকভাবে পদ্মা সেতু আমরা নির্মাণ করবই।

চীন সফরে ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই সম্প্রতি তাঁর ছয় দিনের চীন সফরের সময় অর্জিত সাফল্যগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চীন কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। একই সঙ্গে চীন সরকার বাংলাদেশকে ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও মনে করে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ২০ দফা সংবলিত যৌথ ইশতেহার এবং দুটি চুক্তি, দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি পত্রবিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুগভীর এবং জোরদার হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সফরকালে চীনের রাষ্ট্রপতি আশা করেন, দুই দেশের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। পারস্পরিক বিশ্বাস, সমতা এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অর্থনৈতিক অংশীদার থেকে পর্যায়ক্রমে কৌশলগত অংশীদারে উন্নীতকরণের বিষয়ে চীন সরকারের সঙ্গে তাঁর গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।
সফরকালে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যমআয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্য উন্নত দেশে পরিণত করতে চীনের আরও সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছি। চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সফরকালে বাৎসরিক চীনা প্রকল্প অনুদান আরএমবি ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন বিশিষ্ট ট্যানেল নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই ট্যানেল নির্মাণ কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে।
সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে অনেক দেশ আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যারা আমাদের এটা দ্রুত নির্মাণ করে দিতে পারবে তাদেরই আমরা কার্যাদেশ দেব। তবে বিষয়টি এখনও আমাদের পরীক্ষাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক করিডর সৃষ্টির মাধ্যমে আঞ্চলিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ ও চীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে একযোগে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। চীন সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নের জোর প্রচেষ্টা চলছে এবং এর দ্রুত অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আমার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে। তিনি বলেন, প্রায় ৫ মাস হলো আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। এ লক্ষ্যে আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্টের ওপর জোর দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা সফলও হয়েছি।
গত দুই সপ্তাহে জাপান ও চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশই আমাদের অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এ ব্যাপারে চুক্তি ও এমওইউএস স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন অমিত সম্ভাবনার বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করতে যার যার অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করে যাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মূল মঞ্চে ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী। কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment