Tuesday, June 10, 2014

ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় ১৭ পুলিশকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় ১৭ পুলিশকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

RANVIR
রায়ের পর রণবীরের আত্মীয়রা।—পিটিআই।
নয়াদিল্লি ও দেরাদুন: বছর বাইশের যুবক রণবীর সিংকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার অপরাধে সোমবার উত্তরাখণ্ড পুলিশের ১৭ জন কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনাল দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত৷ যদিও রণবীরের পরিবার এই রায়ে একেবারেই সন্ত্তষ্ট নয়৷ দোষীদের প্রাণদণ্ডের দাবিতে হাইকোর্টে আবেদন করবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা৷ কোনও ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় একসঙ্গে এত জন পুলিশকর্মীর সাজা পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম৷

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি, দোষী সাব্যস্ত পুলিশকর্মীদের মধ্যে সাত জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন সিবিআই বিচারক জেপিএস মালিক৷ বাকি দশ অপরাধী পুলিশের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) ও ৩২০ (হত্যা) ধারায় আনা সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ আদালত জানিয়েছে, জরিমানার সমস্ত টাকা নিহতের পরিবারবর্গকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে৷ একই ঘটনায় প্রমাণ লোপাট ও ভুয়ো তথ্যপ্রমাণ বানানোর (২১৮ নং ধারা) অপরাধে জসপাল সিং গোসাঁই নামে অপর এক পুলিশকর্মীর দু'বছর কারাবাসের সাজা হয়েছে৷ তবে বিচার চলাকালীনই জেলে ওই সময় কাটিয়ে ফেলায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ তাকে আগেই ৫০ হাজার টাকা বন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা গচ্ছিত রাখার বিনিময়ে জামিন দেওয়া হয়৷

মিরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাশ করে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা রণবীর ২০০৯-এর জুলাই মাসে কাজের খোঁজে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে গিয়েছিলেন৷ তাঁর পরিবারের দাবি, ওই মাসেরই ৩ তারিখ তোলাবাজির ভুয়ো অভিযোগ তুলে উত্তরাখণ্ড পুলিশের ওই কর্মীরা তাঁকে অপহরণ করে হত্যা করে৷ পুলিশের বক্তব্য ছিল, তত্‍কালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলের দেরাদুন সফরের আগে রাস্তায় পুলিশি তল্লাশি চলাকালীন রণবীর ও তাঁর দুই বন্ধুর মোটরবাইক থামানো হয়৷ তখনই রণবীর এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেয়৷ তার পরই তাঁকে গুলি করে পুলিশ৷ কিন্ত্ত সিবিআই আদালত সম্প্রতি পুলিশের এই তত্ত্ব খারিজ করে দেয়৷ এই মামলার তদন্তভার প্রথমে সিবি-সিআইডির হাতে থাকলেও পরে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল৷ নিহতের পরিবারের অনুরোধে বিচারপ্রক্রিয়া দেরাদুন থেকে দিল্লিতে সরে আসে৷

অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী এস পি সিং রাঠোর বলেন, 'সংবাদমাধ্যমের চাপেই আদালত এই রায় দিল৷ আমাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই ছিল না৷ আমরা হাইকোর্টে যাব৷' উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নিহতের আত্মীয়রাও৷ রণবীরের মায়ের কথায়, 'ছেলেকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের প্রত্যেকের প্রাণদণ্ড চাই৷' প্রসঙ্গত, দেরাদুন পুলিশের অভিযোগ ছিল ২০০৯-এর ৩ জুলাই রণবীর ও তাঁর বন্ধুরা কোনও অপরাধের পরিকল্পনা করছিল৷ উত্তরাখণ্ডে এক ডাকাতির অভিযোগে রণবীরের দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলাও চলছে৷

No comments:

Post a Comment