Monday, June 9, 2014

সারদা ধাঁধার সমাধানের পথে ইডি

সারদা ধাঁধার সমাধানের পথে ইডি

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ৩৩৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ২২৪টি শাখা সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেছিল সুদীপ্ত সেনের সারদা গোষ্ঠী৷ আর, অর্থ তছরুপের পরিমাণ ১৯৮৩.০২ কোটি টাকা বলে জানতে পেরেছে দুনীতি দমন শাখা (ইডি)৷ সারদা গোষ্ঠীর অধীন কোন কোম্পানির টাকা কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, সেই সব অঙ্কই এখন মেলানোর চেষ্টা করছেন ইডির আধিকারিকরা৷ বিভিন্ন স্তরের লক্ষ লক্ষ আদানপ্রদান ঘেঁটে গোয়েন্দা সংস্থাটি দেখেছে, সারদার ৯০ শতাংশের বেশি শাখা সংস্থার অস্তিত্ব ছিল শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ---২২৪টি সংস্থার মধ্যে মাত্র ১৭টি সংস্থার বাস্তবে কোনও ব্যবসা ছিল৷ দুর্নীতি দমন শাখার সন্দেহ, বাকি সংস্থাগুলি খোলা হয়েছিল সকলের নজর এড়িয়ে বেআইনি পনজি স্কিমের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে তোলা টাকা তছরুপ করার জন্য৷ সাধারণ লোকের চোখে ধুলো দিতে, সুদীপ্ত সেন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেআইনি প্রকল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ একাধিক ব্যাঙ্কে মোট ৩৩৮টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাচার করতেন ২২৪টি শাখা সংস্থায়৷ কিন্ত্ত, আয়কর দপ্তরের কয়েকটি বাদে এই শাখা সংস্থাগুলির বাকি সবক'টিতেই লোকসান দেখানো হয়৷ পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অসমের রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, মূলত চারটি সংস্থার মাধ্যমে টাকা তুলত সারদা গোষ্ঠী৷ এগুলি হল সারদা রিয়েলটি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, সারদা গার্ডেন রিসর্ট অ্যান্ড হোটেল প্রাইভেট লিমিটেড ও সারদা হাউজিং প্রাইভেট লিমিটেড৷ ফিক্সড ডিপোজিট, রেকারিং ডিপোজিট ও মান্থলি ইনকাম ডিপোজিটের নামে টাকা তুলত এই সংস্থাগুলি৷ বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণে রিটার্নের পাশাপাশি বিদেশে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার টোপও দেওয়া হত৷ এ ভাবে ২০০৮-১২ সালের মধ্যে ২,৪৫৯.৫৯ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান৷ এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ৪৭৬.৫৭ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন আমানতকারীরা৷ তদন্তে ইডি দেখেছে, বিপুল রিটার্ন পাওয়ার আশায় যাঁরা রক্ত জল করো উপার্জন করা অর্থ সারদায় বিনিয়োগ করেছিলেন, সেই বিনিয়োগকারীরা কোনও পলিসি সার্টিফিকেটই পাননি৷ আগামী মাসেই সারদা কাণ্ডে ইডি চার্জশিট পেশ করতে পারে৷ ইতিমধ্যেই অবশ্য তারা চারটি এফআইআর দায়ের করেছে৷ সারদা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেন সহ বহু লোকের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে ও ১৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে৷ সারদা তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৩৯০টি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে ইডি৷ প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় তারা আরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন সারদা কাণ্ডের তদন্তের ভার সিবিআই-এর হাতে গিয়েছে৷
http://eisamay.indiatimes.com/business/ed-to-solve-the-saradah-puzzle/articleshow/36286976.cms?

No comments:

Post a Comment