Friday, June 13, 2014

সারদার গুচ্ছ নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস ইডির

সারদার গুচ্ছ নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস ইডির

son-of-saradha-group-chief-
এই সময়: সারদা-র বহু কোটি টাকার কেলেঙ্কারির পিছনে সবিশেষ ভূমিকা ছিল সুদীপ্ত সেনের ছেলে শুভজিত্‍ সেনের৷ কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই তথ্য৷ বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে ইডি-র পক্ষ থেকে জানানো হয় শুভজিতের ভূমিকার কথা৷ দু'মাস আগে কেন্দ্রীয় এই সংস্থাই প্রথম সুদীপ্ত সেনের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে৷ তাঁকে জেরা করে এই কেলেঙ্কারিতে শুভজিতের প্রায় ৭০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস পায় ইডি৷ বিভিন্ন ব্যাঙ্কে খোলা এই অ্যাকাউন্টগুলির প্রত্যেকটি সক্রিয় রেখে এক অ্যাকাউন্টের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি ইডি-র৷ বৃহস্পতিবার এই যুক্তিতেই শুভজিতের জামিনের আবেদন নাকচ করার আবেদন জানান ইডি-র আইনজীবী অভিজিত্‍ ভদ্র৷ ইডি-র এই দাবির প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অধুনালুপ্ত রাজ্য পুলিশের 'সিটে'র কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে৷ এক বছর ধরে তদন্ত চালিয়েও সুদীপ্তর ছেলে তথা সারদা গোষ্ঠীর অন্যতম ডিরেক্টর শুভজিতকে নাকি খুঁজেই পায়নি সিট!

ইডি-র দাবি, শুভজিতকে জেরা করে গত ২৭ মে একটি বিশেষ জায়গায় হানা দিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথিই মিলেছে৷ সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, ইতিপূর্বে জানা ৩৫৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাদ দিয়েও আরও ৭০টি অ্যাকাউন্ট মারফত অর্থ লেনদেন করা হয়েছে৷ তার মধ্যে দু'-একটি অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রায় সব অ্যাকাউন্ট থেকেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা পাঠানো হয়েছে৷ সেই সব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য জানতে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে৷ ইডি-র ধারণা, এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকা পাঠানো হয়েছিল৷ ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া তথ্য এবং শুভজিতকে জেরা করে যা পাওয়া যাবে তার উপর ভিত্তি করেই ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ডাকা হতে পারে৷ তদন্তের স্বার্থেই শুভজিতের জামিন না-মঞ্জুরের আবেদন জানায় ইডি৷ কেন্দ্রীয় সংস্থার যুক্তি, অভিযুক্ত বাইরে বেরোলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার সমূহ আশঙ্কা৷

এ দিকে দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা আদালতে অভিযোগ করেন, সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়ার পরেও রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন আদালতে দেবযানীকে হাজির করাচ্ছে৷ তিনি প্রাণসংশয়ে ভুগছেন বলেও অনির্বাণবাবু আদালতে অভিযোগ করেন৷

No comments:

Post a Comment