দালালরাজ নিজেরই দপ্তরে, তাজ্জব মেয়র
তাপস প্রামাণিক
খোদ কলকাতার মেয়রের অফিসই কিনা দালালদের ঘাঁটি!
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতা পুরভবনের যে ঘরে বসে কাজ করতেন, সেই মেয়র-অফিসেই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল দালালরা৷ মেয়র অফিসের কর্মী সেজে 'ক্লায়েন্ট' ধরা থেকে টাকার ভাগ নিয়ে দরকষাকষি, চলছিল দিব্যিই৷ খোদ মেয়রের নাম ভাঙিয়ে অফিসারদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিত এই সব সুযোগ-সন্ধানীরা৷ লক্ষ লক্ষ টাকা 'সোর্স মানি' আত্মসাত্ করা হয়ে গিয়েছিল রুটিন৷ কয়েক দিন আগে সে-সব ফাঁস করেছেন এক প্রোমোটার৷ তার পরেই অফিসে দালালদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তত্পর হয়েছেন মহানাগরিক৷ জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা৷ এখন থেকে 'স্লিপ' ছাড়া কোনও অচেনা ব্যক্তি মেয়রের অফিসে ঢুকতে পারবেন না৷ অফিসারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিচয় জানিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে৷
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, দালালরা যাতে অফিসে ঢুকতে না পারে, সে জন্যই নজরদারি চালু করতে হয়েছে৷ পাশাপাশি তাঁর দাবি, 'মেয়র অফিসে স্লিপ অনেক আগে থেকেই চালু আছে৷ নতুন কিছু নয়৷'
গত শনিবার সকাল ছ'টায় বেহালার এক প্রোমোটার বিল্ডিং ফি ছাড়ের আর্জি নিয়ে সোজা হাজির হন মেয়রের বাড়িতে৷ সেই প্রোমোটারের কাছ থেকেই মেয়র জানতে পারেন, সুশান্ত নামে তাঁরই অফিসের এক 'কর্মী' ওই প্রোমোটারকে মেয়রের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন৷ পরে মেয়র জানতে পারেন, সুশান্ত মোটেই পুরসভার কর্মী নয়৷ কিন্ত্ত গত দেড় বছর ধরে মেয়র অফিসে অবাধ যাতায়াত ছিল সুশান্তর৷ অফিসারদের সঙ্গেও দহরম-মহরম রয়েছে তার৷ পুরসভার সাধারণ কর্মী-অফিসার, কাউন্সিলর, এমনকী সাংবাদিকরা পর্যন্ত তাকে মেয়র অফিসের স্টাফ বলেই জানতেন৷ মেয়রের অবশ্য দাবি, তিনি নিজে ছিলেন অন্ধকারে৷ শনিবার বিষয়টি জানার পরেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন৷
পুরকমিশনার খলিল আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন মেয়র৷ খোঁজখবর নিয়ে কমিশনার জানতে পারেন, মেয়রের অনুপস্থিতে বাইরের বহু লোকই অফিসে ঢুকে পড়ছে৷ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত, কখনও মেয়রের ওএসডি অফিস, কখনও খোদ মেয়রের চেম্বারেই বসে থাকছে তারা৷ তাদের অনেককে উকিলের পোশাকেও পুরসভার বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়৷ যদিও আদতে তারা মূলত দালালির কাজই করে৷ মেয়রের অফিসে বসে বাইরের লোকজনের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতও করত তারা৷ মেয়র অফিসে দেখা যায় বলে অফিসারেরাও সমীহ করতে বাধ্য হত৷ এই তথ্য সামনে আসার পরেই অভিযানে নামেন খোদ কমিশনার৷ নির্দেশ জারি করেন, মেয়রের অফিসে ঢুকতে গেলে বাইরে থেকে স্লিপে নাম লিখিয়ে পাঠাতে হবে৷ ভিতর থেকে সবুজ সঙ্কেত এলে তবেই প্রবেশ করতে পারবেন সাক্ষাত্প্রার্থীরা৷ মেয়রের ওএসডি অথবা ব্যক্তিগত সহায়কের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও এই নিয়ম মানতে হবে৷
কমিশনারের নির্দেশিকায় পুর-প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় পড়েছে৷ পুরবোর্ডের সদস্যদের অনেকেই অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, সারা শহরের দেখভালের দায়িত্ব যাঁর, সেই মেয়র তাঁর নিজের অফিসে কী হচ্ছে, সেটা এত দিন জানতে পারলেন নাই বা কেন? তবে কি আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিলম্বে এই ঘুম ভাঙা? মেয়রের কাছ থেকে এর জবাব যদিও মেলেনি৷
খোদ কলকাতার মেয়রের অফিসই কিনা দালালদের ঘাঁটি!
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতা পুরভবনের যে ঘরে বসে কাজ করতেন, সেই মেয়র-অফিসেই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল দালালরা৷ মেয়র অফিসের কর্মী সেজে 'ক্লায়েন্ট' ধরা থেকে টাকার ভাগ নিয়ে দরকষাকষি, চলছিল দিব্যিই৷ খোদ মেয়রের নাম ভাঙিয়ে অফিসারদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিত এই সব সুযোগ-সন্ধানীরা৷ লক্ষ লক্ষ টাকা 'সোর্স মানি' আত্মসাত্ করা হয়ে গিয়েছিল রুটিন৷ কয়েক দিন আগে সে-সব ফাঁস করেছেন এক প্রোমোটার৷ তার পরেই অফিসে দালালদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তত্পর হয়েছেন মহানাগরিক৷ জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা৷ এখন থেকে 'স্লিপ' ছাড়া কোনও অচেনা ব্যক্তি মেয়রের অফিসে ঢুকতে পারবেন না৷ অফিসারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিচয় জানিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে৷
মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, দালালরা যাতে অফিসে ঢুকতে না পারে, সে জন্যই নজরদারি চালু করতে হয়েছে৷ পাশাপাশি তাঁর দাবি, 'মেয়র অফিসে স্লিপ অনেক আগে থেকেই চালু আছে৷ নতুন কিছু নয়৷'
গত শনিবার সকাল ছ'টায় বেহালার এক প্রোমোটার বিল্ডিং ফি ছাড়ের আর্জি নিয়ে সোজা হাজির হন মেয়রের বাড়িতে৷ সেই প্রোমোটারের কাছ থেকেই মেয়র জানতে পারেন, সুশান্ত নামে তাঁরই অফিসের এক 'কর্মী' ওই প্রোমোটারকে মেয়রের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন৷ পরে মেয়র জানতে পারেন, সুশান্ত মোটেই পুরসভার কর্মী নয়৷ কিন্ত্ত গত দেড় বছর ধরে মেয়র অফিসে অবাধ যাতায়াত ছিল সুশান্তর৷ অফিসারদের সঙ্গেও দহরম-মহরম রয়েছে তার৷ পুরসভার সাধারণ কর্মী-অফিসার, কাউন্সিলর, এমনকী সাংবাদিকরা পর্যন্ত তাকে মেয়র অফিসের স্টাফ বলেই জানতেন৷ মেয়রের অবশ্য দাবি, তিনি নিজে ছিলেন অন্ধকারে৷ শনিবার বিষয়টি জানার পরেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন৷
পুরকমিশনার খলিল আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন মেয়র৷ খোঁজখবর নিয়ে কমিশনার জানতে পারেন, মেয়রের অনুপস্থিতে বাইরের বহু লোকই অফিসে ঢুকে পড়ছে৷ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত, কখনও মেয়রের ওএসডি অফিস, কখনও খোদ মেয়রের চেম্বারেই বসে থাকছে তারা৷ তাদের অনেককে উকিলের পোশাকেও পুরসভার বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়৷ যদিও আদতে তারা মূলত দালালির কাজই করে৷ মেয়রের অফিসে বসে বাইরের লোকজনের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতও করত তারা৷ মেয়র অফিসে দেখা যায় বলে অফিসারেরাও সমীহ করতে বাধ্য হত৷ এই তথ্য সামনে আসার পরেই অভিযানে নামেন খোদ কমিশনার৷ নির্দেশ জারি করেন, মেয়রের অফিসে ঢুকতে গেলে বাইরে থেকে স্লিপে নাম লিখিয়ে পাঠাতে হবে৷ ভিতর থেকে সবুজ সঙ্কেত এলে তবেই প্রবেশ করতে পারবেন সাক্ষাত্প্রার্থীরা৷ মেয়রের ওএসডি অথবা ব্যক্তিগত সহায়কের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও এই নিয়ম মানতে হবে৷
কমিশনারের নির্দেশিকায় পুর-প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় পড়েছে৷ পুরবোর্ডের সদস্যদের অনেকেই অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, সারা শহরের দেখভালের দায়িত্ব যাঁর, সেই মেয়র তাঁর নিজের অফিসে কী হচ্ছে, সেটা এত দিন জানতে পারলেন নাই বা কেন? তবে কি আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিলম্বে এই ঘুম ভাঙা? মেয়রের কাছ থেকে এর জবাব যদিও মেলেনি৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/mayor-keen-to-remove-illegal-agents-from-office/articleshow/36448557.cms?
No comments:
Post a Comment