প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব আইন হচ্ছে
মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা তথ্য গোপন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা
তপন বিশ্বাস ॥ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ একটি নাগরিকত্ব আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে বা তথ্য গোপন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদ- এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকছে। পুনরায় একই অপরাধ করলে প্রথমবারে কৃত অপরাধের জন্য বর্ণিত দ-ের মাত্রা দ্বিগুণ হবে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদ- এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনটিতে। বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান, নাগরিকত্বের অবসানের বিধানও থাকছে নতুন এই আইনে। আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খুব শীঘ্রর এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে ‘দ্য সিটিজেনশিপ এ্যাক্ট ১৯৫১ এবং দ্য বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (টেম্পোরারি প্রভিশন) অর্ডার, ১৯৭২ (অর্ডার নং-১৪৯ অব ১৯৭২) বিধান বলে দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যমান এই আইন ও আদেশে বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্বের বিধান নেই। নতুন এই আইনে বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের সুযোগ থাকছে। তবে বিদেশী নাগরিক বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক লাভ করলেও কোন কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি নাগরিকত্ব হারাবেন।
বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব
খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে তিন বছর বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। এই তিন বছরের মধ্যে চিকিৎসা, শিক্ষা অথবা জরুরী প্রয়োজনে বাংলাদেশের বাইরে গমন করতে সাময়িক অবস্থানকাল পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশে অবস্থান করে প্রথম আগমনের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে মোট তিন বছর পূর্ণ করতে হবে। এ সময় বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাসের আওতাধীন বলে গণ্য হবে। এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব লাভের পর কোন কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী স্বামী বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব বহাল থাকবে।
নিবন্ধন সূত্রে নাগরিকত্ব
কোন সাবালক এবং সমর্থ ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করা যাবে। যদি তার পূর্বপুরুষ (জীবিত অথবা মৃত) অবিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন; তিনি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হন এবং আবেদনপত্র অব্যবহিত পূর্বে কমপক্ষে পাঁচ বছর বাংলাদেশে বসবাস করেন। তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত পাঁচ বছরের মধ্যে তাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন বছর বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। বাংলাদেশের বাইরে তার অবস্থান একাধারে ছয় মাসের বেশি হতে পারবে না। আবেদনের আগে একাধারে কমপক্ষে তিন মাস বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। এ সকল শর্ত পূরণ করলে তিনি বাংলাদেশের স্থায়ী আবাসিক অধিকার সনদ অজর্ন করার যোগ্য হবেন।
অপরাধ সংঘটন ও পুনঃসংঘটনের দণ্ড
এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কোন মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি কোন ব্যক্তি পুনরায় একই অপরাধ সংঘটন করেন সে ক্ষেত্রে প্রথমবারে কৃত অপরাধের জন্য বর্ণিত দণ্ডের মাত্রা দ্বিগুণ হবে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব
প্রবাসে অর্জিত নাগরিকত্বের কারণে এই আইনে নিজ দেশের অর্জিত নাগরিকত্বের অবসান ঘটবে না। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনের পর তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা যাবে। এটি দ্বৈত নাগরিকত্ব হিসেবে গণ্য হবে। কোন বাংলাদেশী নাগরিক কোন কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অবসান ঘটানোর পর বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পন্থায় তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পুনর্বহালের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করলে তা বিবেচনায় নিয়ে অন্য কোন আইন দ্বারা বারিত না হলে তার নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করার বিধান রাখা হয়েছে।
জন্ম সূত্রে নাগরিক
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে নাগরিক হবেন, যদি তার পিতা বা মাতা এই আইন বলবত হওয়ার তারিখে বা এর পরে অথবা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হন বা থাকেন। এ ছাড়া খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এই আইন বলবৎ হওয়ার পর দুই বছর বয়স পর্যন্ত কোন শিশু বাংলাদেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে এবং যদি সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু প্রকাশ না পায় তাহলে ওই শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে বলে ধরে নিয়ে তাকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক করা যাবে।
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব
কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোন দেশে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন। তার পিতা বা মাতা বংশসূত্র ছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্য কোনভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকলে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।
তবে কোন ব্যক্তির পিতা বা মাতা কেবল বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কারণে উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীনে বাংলাদেশের নাগরিক হবেন না, যদি বাংলাদেশী কনস্যুলেট বা দূতাবাসে তার জন্মের এক বছরের মধ্যে নিবন্ধন করা না হয়; তিনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত না হন; অথবা জন্ম কালে তার পিতা বা মাতা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে কিংবা প্রেষণে/লিয়েনে অন্যত্র চাকরিতে না থাকেন।
বাংলাদেশে স্থায়ী আবাসিক অধিকার
যদি কোন ব্যক্তি নির্ধারিত অঙ্কে বৈদেশিক মুদ্রায় বা বৈদেশিক মূলধন ও যন্ত্রপাতি বা উভয় প্রকারেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও অঙ্কে বাংলাদেশের কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন এবং এতদুদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়কাল অবস্থান করেন, তাকে বাংলাদেশে স্থায়ী আবাসিক অধিকার সনদ প্রদান করা যাবে। তবে তিনি এই ধারার অধীনে নাগরিকত্ব অজর্ন না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশের একজন স্থায়ী নিবেশী বলে গণ্য করা হবে।
এ ছাড়া খসড়ায় নাগরিকত্ব প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে-নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত জাহাজ বা উড়োজাহাজে জন্মগ্রহণ, দেশীয়করণ সূত্রে নাগরিকত্ব, ভূখ- সংযোজন সূত্রে নাগরিকত্ব, স্থায়ী নিবাসের সনদ, নিবন্ধন এবং দেশীয়করণের মাধ্যমে অর্জিত নাগরিকত্বের কার্যকারিতা, নিবন্ধন বহি, নিবন্ধন সনদ, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নিবন্ধন সংশয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, নাগরিকত্ব পরিত্যাগ, নাগরিকত্বের অবসান পুনর্বিবেচনা ইত্যাদি ধারা সংযোজিত হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে আইনটি বলবৎ হলে বিদ্যমান ‘দ্য সিটিজেনশিপ এ্যাক্ট ১৯৫১ এবং দ্য বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (টেম্পোরারি প্রভিশন) অর্ডার, ১৯৭২ (অর্ডার নং ১৪৯ অব ১৯৭২) রহিত হবে।
বৈবাহিক সূত্রে নাগরিকত্ব
খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে তিন বছর বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। এই তিন বছরের মধ্যে চিকিৎসা, শিক্ষা অথবা জরুরী প্রয়োজনে বাংলাদেশের বাইরে গমন করতে সাময়িক অবস্থানকাল পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশে অবস্থান করে প্রথম আগমনের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে মোট তিন বছর পূর্ণ করতে হবে। এ সময় বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাসের আওতাধীন বলে গণ্য হবে। এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব লাভের পর কোন কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী স্বামী বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব বহাল থাকবে।
নিবন্ধন সূত্রে নাগরিকত্ব
কোন সাবালক এবং সমর্থ ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করা যাবে। যদি তার পূর্বপুরুষ (জীবিত অথবা মৃত) অবিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন; তিনি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হন এবং আবেদনপত্র অব্যবহিত পূর্বে কমপক্ষে পাঁচ বছর বাংলাদেশে বসবাস করেন। তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত পাঁচ বছরের মধ্যে তাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন বছর বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। বাংলাদেশের বাইরে তার অবস্থান একাধারে ছয় মাসের বেশি হতে পারবে না। আবেদনের আগে একাধারে কমপক্ষে তিন মাস বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। এ সকল শর্ত পূরণ করলে তিনি বাংলাদেশের স্থায়ী আবাসিক অধিকার সনদ অজর্ন করার যোগ্য হবেন।
অপরাধ সংঘটন ও পুনঃসংঘটনের দণ্ড
এই আইনের অধীনে কোন ব্যক্তি অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কোন মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি কোন ব্যক্তি পুনরায় একই অপরাধ সংঘটন করেন সে ক্ষেত্রে প্রথমবারে কৃত অপরাধের জন্য বর্ণিত দণ্ডের মাত্রা দ্বিগুণ হবে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব
প্রবাসে অর্জিত নাগরিকত্বের কারণে এই আইনে নিজ দেশের অর্জিত নাগরিকত্বের অবসান ঘটবে না। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনের পর তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা যাবে। এটি দ্বৈত নাগরিকত্ব হিসেবে গণ্য হবে। কোন বাংলাদেশী নাগরিক কোন কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অবসান ঘটানোর পর বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পন্থায় তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পুনর্বহালের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করলে তা বিবেচনায় নিয়ে অন্য কোন আইন দ্বারা বারিত না হলে তার নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করার বিধান রাখা হয়েছে।
জন্ম সূত্রে নাগরিক
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে নাগরিক হবেন, যদি তার পিতা বা মাতা এই আইন বলবত হওয়ার তারিখে বা এর পরে অথবা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হন বা থাকেন। এ ছাড়া খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এই আইন বলবৎ হওয়ার পর দুই বছর বয়স পর্যন্ত কোন শিশু বাংলাদেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে এবং যদি সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু প্রকাশ না পায় তাহলে ওই শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে বলে ধরে নিয়ে তাকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক করা যাবে।
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব
কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোন দেশে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন। তার পিতা বা মাতা বংশসূত্র ছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে এই আইন বলবৎ হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্য কোনভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকলে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।
তবে কোন ব্যক্তির পিতা বা মাতা কেবল বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কারণে উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীনে বাংলাদেশের নাগরিক হবেন না, যদি বাংলাদেশী কনস্যুলেট বা দূতাবাসে তার জন্মের এক বছরের মধ্যে নিবন্ধন করা না হয়; তিনি যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত না হন; অথবা জন্ম কালে তার পিতা বা মাতা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে কিংবা প্রেষণে/লিয়েনে অন্যত্র চাকরিতে না থাকেন।
বাংলাদেশে স্থায়ী আবাসিক অধিকার
যদি কোন ব্যক্তি নির্ধারিত অঙ্কে বৈদেশিক মুদ্রায় বা বৈদেশিক মূলধন ও যন্ত্রপাতি বা উভয় প্রকারেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও অঙ্কে বাংলাদেশের কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন এবং এতদুদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়কাল অবস্থান করেন, তাকে বাংলাদেশে স্থায়ী আবাসিক অধিকার সনদ প্রদান করা যাবে। তবে তিনি এই ধারার অধীনে নাগরিকত্ব অজর্ন না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশের একজন স্থায়ী নিবেশী বলে গণ্য করা হবে।
এ ছাড়া খসড়ায় নাগরিকত্ব প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে-নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত জাহাজ বা উড়োজাহাজে জন্মগ্রহণ, দেশীয়করণ সূত্রে নাগরিকত্ব, ভূখ- সংযোজন সূত্রে নাগরিকত্ব, স্থায়ী নিবাসের সনদ, নিবন্ধন এবং দেশীয়করণের মাধ্যমে অর্জিত নাগরিকত্বের কার্যকারিতা, নিবন্ধন বহি, নিবন্ধন সনদ, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নিবন্ধন সংশয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, নাগরিকত্ব পরিত্যাগ, নাগরিকত্বের অবসান পুনর্বিবেচনা ইত্যাদি ধারা সংযোজিত হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে আইনটি বলবৎ হলে বিদ্যমান ‘দ্য সিটিজেনশিপ এ্যাক্ট ১৯৫১ এবং দ্য বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (টেম্পোরারি প্রভিশন) অর্ডার, ১৯৭২ (অর্ডার নং ১৪৯ অব ১৯৭২) রহিত হবে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment