Monday, June 9, 2014

সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষী ফজলুর রহমানের জেরা অব্যাহত যুদ্ধাপরাধী বিচার

সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষী ফজলুর রহমানের জেরা অব্যাহত
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১১তম সাক্ষী মোঃ ফজলুর রহমান ফান্টুর (৬৩) জেরা অব্যাহত রয়েছে। আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করবেন। অন্যদিকে একই অপরাধে জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ঊনবিংশতম সাক্ষী মোঃ নায়েব আলীকে (৬০) আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা শেষ হয়েছে। আজ ২০তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য রয়েছেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১১তম সাক্ষী মোঃ ফজলুর রহমান ফান্টুকে আসামিপক্ষের জেরা অব্যাহত রয়েছে। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সোমবার প্রসিকিউশনের সাক্ষী মোঃ ফজলুর রহমান ফান্টুকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন সুবহানের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। রবিবার জবানবন্দী শেষে এ সাক্ষীকে জেরা শুরু হয়। গত ৭ এপ্রিল শুরু হয়ে এর আগে সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশনের আরও ১০ জন সাক্ষী। তারা হলেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আ ত ম শাহিদুজ্জামান নাসিম, শহীদপুত্র মুক্তিযোদ্ধা তহুরুল আলম মোল্লা, মোঃ আবু আসাদ, রুস্তম আলী, মোঃ ইসরাইল, কোরবান আলী, শহীদ জায়া জাহানারা বেগম, আশরাফ উদ্দিন মিয়া, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ম-ল এবং সানোয়ারা খাতুন। গত ১ এপ্রিল সুবহানের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। গত ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

সৈয়দ মোঃ কায়সার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষী মোঃ নায়েব আলীকে (৬০) আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা শেষ হয়েছে। সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৯ মার্চ শুরুর পর এ পর্যন্ত কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আরও ১৮ জন সাক্ষী। তারা হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী কবির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী টিপু, কায়সার বাহিনীর সদস্য হাজী মোঃ তাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী পাঠান, কায়সারের অপরাধের শিকার একজন বৃদ্ধা নারী (ক্যামেরা ট্রায়াল), মোঃ ইয়াকুব আলী, শাহ হাসান আলী ফুলু মিয়া, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শাহ হোসেন আলী সাবু, শহীদপুত্র মোঃ মোস্তফা আলী, কায়সারের অপরাধের শিকার একজন সাক্ষী (ক্যামেরা ট্রায়াল), শহীদপুত্র মোঃ নওশাদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা গৌর প্রসাদ রায়, মোঃ গোলাম নূর, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নায়েব আলী, আলহাজ নিশামন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন জামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ফুলু মিয়া এবং বাসু সাওতাল। তাদের জেরা করেছেন আসামিপক্ষ। আসামিপক্ষে এ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম প্রসিকিউশন পক্ষের ১৯তম সাক্ষী মোঃ নায়েব আলীকে জেরা করেন। এ সময় প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১১ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৮টি অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ১৬টি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১০ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টারের কাছে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম কায়সারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক উক্ত অভিযোগ দাখিল করেন। গত ১৫ মে বুধবার কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ২১ মে মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টায় কায়সারকে রাজধানী এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর গত ৩০ জুলাই কায়সারকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment