‘অনাবৃষ্টির’ দেশে ‘মরূদ্যান’ হতে পারে বাংলা
কমলেশ চৌধুরী
নির্ঘণ্ট পার৷ এখনও বাংলায় পা রাখার সবুজ সঙ্কেত পায়নি বর্ষা৷ তার ভাগ্য ঝুলছে আরব সাগরের সদ্যোজাত নিম্নচাপের হাতে৷ তবু আবহবিদরা বলছেন, 'অনাবৃষ্টি'র দেশে 'মরূদ্যান' হতে পারে পুবের তল্লাট-- বাংলা আর পড়শি 'সাত বোন'৷ যার সার কথা, বাজিমাত হবে শেষ দফাতেই৷ ঠিক যেমন ইনজুরি টাইমে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন সের্খিও র্যামোস৷ তার পর তো ইতিহাস...
মৌসম ভবনের ইতিহাসেও ইতিমধ্যে উঠে গিয়েছে ২০১৪৷ দশ বছরের মধ্যে সর্বাধিক দেরিতে বর্ষার আগমনী হয়েছে দেশে৷ উত্তর-পূর্ব ভারতে ঢুকতেও যে এত দেরি করছে বর্ষা, তা-ও ২০০৫ সালের পর আর হয়নি৷ বরং, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে হতে জুনের ক্যালেন্ডার ১৩-১৪-১৫ হওয়াই দস্ত্তর হয়ে গিয়েছিল৷ গতবারই একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে ৮ জুন কলকাতায় হাজির হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু৷ এ বার কী হবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলেন, 'সোমবার আরব সাগরে নিম্নচাপটি সৃষ্টি হয়েছে৷ মঙ্গলবার সেটি গভীর নিম্নচাপে ঘনীভূত হয়ে ওমানের দিকে সরতে শুরু করবে৷ ফলে আমাদের এ দিকে মৌসুমি বায়ু সবল হওয়ার সম্ভাবনা কম৷' মৌসম ভবন অবশ্য পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সম্ভবত আজ, মঙ্গলবারই উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছুটা অংশে সফর শুরু করে দেবে বর্ষা৷ গোকুলবাবু বলছেন, 'হয়তো দেখা যাবে আসাম-মেঘালয়ের সঙ্গে কোচবিহার, দার্জিলিংয়ের সামান্য অংশও ছুঁয়ে যাবে বর্ষা৷ কিন্ত্ত দক্ষিণবঙ্গে অগ্রগতির কোনও লক্ষণ নেই৷'
এ দিন বর্ষার দ্বিতীয় পূর্বাভাসেও মৌসম ভবন জানিয়েছে, দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতই হবে৷ প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৫ শতাংশ৷ এ দিন তা বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছেন আবহবিদরা৷ তবে আশার আলো অন্যত্র৷ দেশের চার ভাগের মধ্যে তুলনায় কম ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা দেশের উত্তর-পূর্বেই, যার অংশ বাংলা৷ পূর্বাভাস বলছে, সবচেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা উত্তর-পশ্চিম ভারতে৷ ঘাটতি হতে পারে ১৫ শতাংশ৷ মধ্য ভারতে ৬ ও দক্ষিণ ভারতে তা ৭ শতাংশ হতে পারে৷ সেখানে উত্তর-পূর্বে স্বাভাবিকের ৯৯ শতাংশ বৃষ্টি হওয়ারই আশা দেখিয়েছে মৌসম ভবন৷ পুণের বর্ষা-বিশেষজ্ঞ ডি শিবানন্দ পাই 'এই সময়'কে বলেন, 'এর অর্থ এই নয় যে, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতেই স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে৷ তবে এটুকু বলা যায়, দেশের অন্য অংশের তুলনায় এখানকার অঞ্চলগুলির ঘাটতি তুলনায় কম থাকবে৷' ঠিক এমনটাই হয়েছিল ২০০৯ সালে৷ সে বারও বর্ষার উপর খড়গহস্ত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে চেগে উঠেছিল 'এল নিনো'৷ কিন্ত্ত গোটা দেশের ২২ শতাংশ ঘাটতির পাশে দক্ষিণবঙ্গে ঘাটতি ছিল ১৫ শতাংশ, যা কি না 'স্বাভাবিক' বলেই ধরা হয়৷
কী ভাবে সম্ভব এমনটা? শিবানন্দবাবুর ব্যাখ্যা, 'ঠিক একটা কারণেই তো বর্ষা ভালো-মন্দ নির্ভর করে না৷ অনেকগুলি শর্ত পূরণ হতে হয়৷ সাধারণ ভাবে দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে যত কম নিম্নচাপ তৈরি হবে, মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে তত কম বৃষ্টি হবে৷ এই ধরনের ক্ষেত্রে মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তরে সরে হিমালয়ের পাদদেশেই দীর্ঘদিন থেকে যায়৷ এই পর্বকে বলা হয় 'ব্রেক মনসুন'৷ এই পর্ব যতদিন চলবে, ততদিন হিমালয়ের নীচে থাকা রাজ্যগুলিতেই বৃষ্টি বেশি হবে৷ অনেক সময় এর সুফল নেপাল, আসাম, অরুণাচল প্রদেশের মতো বাংলা, বিহারও পেয়ে যায়৷' বৃষ্টিপ্রাপ্তির সুযোগ আসে 'ব্রেক মনসুন' পর্ব শেষ হওয়ার মুহূর্তেও৷ শিবানন্দবাবুর কথায়, 'বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে মৌসুমি অক্ষরেখা কিছুটা দক্ষিণে সরে আসে৷ তখন একলপ্তে অনেকটা বৃষ্টি পেয়ে যায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ৷'
কিন্ত্ত পুষিয়ে বৃষ্টিপ্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে জুলাই পেরিয়ে অগস্ট পর্যন্ত৷ পূর্বাভাস বলছে, জুন তো বটেই, জুলাই মাসেও বৃষ্টি কম হবে৷ তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে অগস্টে৷ কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা তাতেই খুশি৷ বলছেন, মাঝ-জুলাই থেকে অগস্টের শেষ পর্যন্ত আমন ধান রোয়ার কাজ চলে৷ ফলে শেষবেলায় 'র্যামোস-সুলভ' হেডেও বাংলার চিন্তা কমাতে পারে বর্ষা৷
মৌসুমি বায়ুর মতি ফিরবে তো?
নির্ঘণ্ট পার৷ এখনও বাংলায় পা রাখার সবুজ সঙ্কেত পায়নি বর্ষা৷ তার ভাগ্য ঝুলছে আরব সাগরের সদ্যোজাত নিম্নচাপের হাতে৷ তবু আবহবিদরা বলছেন, 'অনাবৃষ্টি'র দেশে 'মরূদ্যান' হতে পারে পুবের তল্লাট-- বাংলা আর পড়শি 'সাত বোন'৷ যার সার কথা, বাজিমাত হবে শেষ দফাতেই৷ ঠিক যেমন ইনজুরি টাইমে গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন সের্খিও র্যামোস৷ তার পর তো ইতিহাস...
মৌসম ভবনের ইতিহাসেও ইতিমধ্যে উঠে গিয়েছে ২০১৪৷ দশ বছরের মধ্যে সর্বাধিক দেরিতে বর্ষার আগমনী হয়েছে দেশে৷ উত্তর-পূর্ব ভারতে ঢুকতেও যে এত দেরি করছে বর্ষা, তা-ও ২০০৫ সালের পর আর হয়নি৷ বরং, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে হতে জুনের ক্যালেন্ডার ১৩-১৪-১৫ হওয়াই দস্ত্তর হয়ে গিয়েছিল৷ গতবারই একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে ৮ জুন কলকাতায় হাজির হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু৷ এ বার কী হবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলেন, 'সোমবার আরব সাগরে নিম্নচাপটি সৃষ্টি হয়েছে৷ মঙ্গলবার সেটি গভীর নিম্নচাপে ঘনীভূত হয়ে ওমানের দিকে সরতে শুরু করবে৷ ফলে আমাদের এ দিকে মৌসুমি বায়ু সবল হওয়ার সম্ভাবনা কম৷' মৌসম ভবন অবশ্য পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সম্ভবত আজ, মঙ্গলবারই উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছুটা অংশে সফর শুরু করে দেবে বর্ষা৷ গোকুলবাবু বলছেন, 'হয়তো দেখা যাবে আসাম-মেঘালয়ের সঙ্গে কোচবিহার, দার্জিলিংয়ের সামান্য অংশও ছুঁয়ে যাবে বর্ষা৷ কিন্ত্ত দক্ষিণবঙ্গে অগ্রগতির কোনও লক্ষণ নেই৷'
এ দিন বর্ষার দ্বিতীয় পূর্বাভাসেও মৌসম ভবন জানিয়েছে, দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতই হবে৷ প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৫ শতাংশ৷ এ দিন তা বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছেন আবহবিদরা৷ তবে আশার আলো অন্যত্র৷ দেশের চার ভাগের মধ্যে তুলনায় কম ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা দেশের উত্তর-পূর্বেই, যার অংশ বাংলা৷ পূর্বাভাস বলছে, সবচেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা উত্তর-পশ্চিম ভারতে৷ ঘাটতি হতে পারে ১৫ শতাংশ৷ মধ্য ভারতে ৬ ও দক্ষিণ ভারতে তা ৭ শতাংশ হতে পারে৷ সেখানে উত্তর-পূর্বে স্বাভাবিকের ৯৯ শতাংশ বৃষ্টি হওয়ারই আশা দেখিয়েছে মৌসম ভবন৷ পুণের বর্ষা-বিশেষজ্ঞ ডি শিবানন্দ পাই 'এই সময়'কে বলেন, 'এর অর্থ এই নয় যে, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতেই স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে৷ তবে এটুকু বলা যায়, দেশের অন্য অংশের তুলনায় এখানকার অঞ্চলগুলির ঘাটতি তুলনায় কম থাকবে৷' ঠিক এমনটাই হয়েছিল ২০০৯ সালে৷ সে বারও বর্ষার উপর খড়গহস্ত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে চেগে উঠেছিল 'এল নিনো'৷ কিন্ত্ত গোটা দেশের ২২ শতাংশ ঘাটতির পাশে দক্ষিণবঙ্গে ঘাটতি ছিল ১৫ শতাংশ, যা কি না 'স্বাভাবিক' বলেই ধরা হয়৷
কী ভাবে সম্ভব এমনটা? শিবানন্দবাবুর ব্যাখ্যা, 'ঠিক একটা কারণেই তো বর্ষা ভালো-মন্দ নির্ভর করে না৷ অনেকগুলি শর্ত পূরণ হতে হয়৷ সাধারণ ভাবে দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে যত কম নিম্নচাপ তৈরি হবে, মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে তত কম বৃষ্টি হবে৷ এই ধরনের ক্ষেত্রে মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তরে সরে হিমালয়ের পাদদেশেই দীর্ঘদিন থেকে যায়৷ এই পর্বকে বলা হয় 'ব্রেক মনসুন'৷ এই পর্ব যতদিন চলবে, ততদিন হিমালয়ের নীচে থাকা রাজ্যগুলিতেই বৃষ্টি বেশি হবে৷ অনেক সময় এর সুফল নেপাল, আসাম, অরুণাচল প্রদেশের মতো বাংলা, বিহারও পেয়ে যায়৷' বৃষ্টিপ্রাপ্তির সুযোগ আসে 'ব্রেক মনসুন' পর্ব শেষ হওয়ার মুহূর্তেও৷ শিবানন্দবাবুর কথায়, 'বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে মৌসুমি অক্ষরেখা কিছুটা দক্ষিণে সরে আসে৷ তখন একলপ্তে অনেকটা বৃষ্টি পেয়ে যায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ৷'
কিন্ত্ত পুষিয়ে বৃষ্টিপ্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে জুলাই পেরিয়ে অগস্ট পর্যন্ত৷ পূর্বাভাস বলছে, জুন তো বটেই, জুলাই মাসেও বৃষ্টি কম হবে৷ তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে অগস্টে৷ কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা তাতেই খুশি৷ বলছেন, মাঝ-জুলাই থেকে অগস্টের শেষ পর্যন্ত আমন ধান রোয়ার কাজ চলে৷ ফলে শেষবেলায় 'র্যামোস-সুলভ' হেডেও বাংলার চিন্তা কমাতে পারে বর্ষা৷
মৌসুমি বায়ুর মতি ফিরবে তো?
No comments:
Post a Comment