জিহাদীদের ব্যাপক এজেন্ডা
সিরিয়া ও ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত ভূখণ্ড নিয়ে খেলাফত রাষ্ট্র কায়েমে বদ্ধপরিকর জঙ্গীরা
সিরিয়ার সরকারবিরোধী মধ্যপন্থী বিদ্রোহী দল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মিনবেজ শহর অবরোধকারী জিহাদীদের কাছ থেকে যেকোন সময়েই হামলা হওয়ার আশঙ্কা করছিল। কিন্তু দলটি এর ঘাঁটির সামনের গেটের পাশ দিয়ে একটি ভাঙ্গা গাড়ি ঠেলে নিচ্ছিল এমন কিশোরদের সন্দেহের চোখে দেখেনি। তখন ১৪ বছরের চেয়ে বেশি বয়স্ক বলে মনে হয়নি এমন কিশোর আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে গাড়িটি উড়িয়ে দেয়। এতে এমন হামলার সূত্রপাত হয়, যাতে ৩০ বিদ্রোহী যোদ্ধা হতাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সমগ্র মিনবেজই সিরীয় সংঘর্ষে জড়িত সবচেয়ে চরমপন্থী জিহাদী দলের কব্জায় চলে যায়। এটি ছয় মাস আগের ঘটনা। আক্রান্ত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি ব্রিগেডের নেতা শেখ হাসান বলেন, তাঁরা আমাদের কাফের বলে। তাঁরা আমাদের ওপর সামনে ও পেছন থেকে হামলা চালিয়ে যাবে।
ওই লড়াই জঙ্গী সুন্নি দল ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) উত্থানের এক খণ্ড চিত্র মাত্র। দলটির হাজার হাজার যোদ্ধা সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করেছে এবং এখন উত্তর ইরাকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দলটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সুন্নি প্রধান ভূখণ্ড গুলোকে নিয়ে এক খেলাফত রাষ্ট্র কায়েম করতে বদ্ধপরিকর। এরূপ করতে গিয়ে দলটি সিরীয় ও ইরাকী সরকারের বিরুদ্ধে এবং ইসলামের প্রতি যথেষ্ট অনুগত নয় এমন সিরীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করছে। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলসহ কয়েকটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বিরাট এলাকা দখল করায় আইএসআইএস এখন অনেক দেশের চেয়েও বড় এমন ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সক্রিয় জিহাদী দল হিসেবে আল কায়েদাকে পাল্লা দিচ্ছে, সম্ভবত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দলটি বিশ্বের সব জায়গার জঙ্গীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও, টুইটার ও অন্য মিডিয়াতে দলটি চেচনিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত যোদ্ধাদের কৃতিত্ব তুলে ধরছে। শেখ হাসান বলেন, এমনকি সিরিয়া ও ইরাকের জাতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায়ও আইএসআইএস সদস্যরা বেশি বেতন এবং উন্নততর প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্র পেয়ে থাকে। নবাগতদের অনেকেই দলের চরমপন্থী মতবাদেই আকৃষ্ট হয়। কিন্তু অন্যরা বেশি বেতন এবং দলের শক্তি সংহত করার সামর্থ্যরে কারণে এর প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। সাবেক সদস্য ও অভিজ্ঞ বেসামরিক ব্যক্তিরা একথা জানান। যেসব এলাকা জিহাদীদের নিয়ন্ত্রণে পড়ে, তারা সেখানে তাদের শাসন দৃঢ় করতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। তারা খ্রিস্টান ও কাফের বলে গণ্য করে কিছু কিছু মুসলিমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাসহ ইসলামী আইন কঠোরভাবে বলবৎ করে। এতেই তাদের প্রতি বেশিরভাগ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু দলটি কেবল এক পুরাতন আইনই অনুসরণ করছে না। এটি দ্রুত স্থানীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং এর শাসন প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে সেই সম্পদকে কাজে লাগায়। আইএসআইএস দৃষ্টান্তস্বরূপ সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে তেলক্ষেত্রগুলো দখল করেছে এবং তেল উত্তোলন আবার শুরু করেছে। কয়েক বিদ্রোহী কমান্ডার ও ত্রাণকর্মীরা এ কথা জানান। দলটি দখল করা বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে সরকারের কাছে বিদ্যুত বিক্রি করে অর্থ আয় করেছে। বুধবার ইরাকে জঙ্গীরা দেশের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুতকেন্দ্রের স্থান বায়েজি দখল করে নেয়।
মিনবেজে জিহাদীরা প্রথমে বেকারি ও মানবিক ত্রাণ গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের মতো কাজ করতে দেয়। পরে তারা শহরটিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার পর সেগুলো পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। জঙ্গী দলটি এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্য দিয়ে পরিবাহিত সব ত্রাণসামগ্রী ও বাণিজ্যিক পণ্যের একাংশ আদায় করে নেয়। আইএসআইএসকে প্রতিরোধ করতে গঠিত অন্যতম প্রথম মিলিশিয়া দল নূরেদিন জিঙ্কি ব্রিগেডের নেতা আবু তৌফিক বলেন, জঙ্গী দলটির সূক্ষ্ম কৌশল এর যোদ্ধাদের বিতাড়িত করা কঠিন করে তুলছে। দলটি গত বছর থেকে ইরাকী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল করা ট্যাঙ্ক নিয়ে লড়াই করে এসেছে।
আবু তৌফিক বলেন, এরূপ দুর্দম মনোভাব থাকলে এর সদস্যদের উত্তর সিরিয়া ও ইরাকে তাদের অধিকৃত ভূখ- থেকে হটিয়ে দেয়া কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, আমার ভয় হয়, সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের চরমপন্থী মতবাদ ছড়াবে এবং আমরা এক আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।
ওই লড়াই জঙ্গী সুন্নি দল ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) উত্থানের এক খণ্ড চিত্র মাত্র। দলটির হাজার হাজার যোদ্ধা সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করেছে এবং এখন উত্তর ইরাকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দলটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সুন্নি প্রধান ভূখণ্ড গুলোকে নিয়ে এক খেলাফত রাষ্ট্র কায়েম করতে বদ্ধপরিকর। এরূপ করতে গিয়ে দলটি সিরীয় ও ইরাকী সরকারের বিরুদ্ধে এবং ইসলামের প্রতি যথেষ্ট অনুগত নয় এমন সিরীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করছে। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলসহ কয়েকটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বিরাট এলাকা দখল করায় আইএসআইএস এখন অনেক দেশের চেয়েও বড় এমন ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সক্রিয় জিহাদী দল হিসেবে আল কায়েদাকে পাল্লা দিচ্ছে, সম্ভবত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দলটি বিশ্বের সব জায়গার জঙ্গীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও, টুইটার ও অন্য মিডিয়াতে দলটি চেচনিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত যোদ্ধাদের কৃতিত্ব তুলে ধরছে। শেখ হাসান বলেন, এমনকি সিরিয়া ও ইরাকের জাতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায়ও আইএসআইএস সদস্যরা বেশি বেতন এবং উন্নততর প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্র পেয়ে থাকে। নবাগতদের অনেকেই দলের চরমপন্থী মতবাদেই আকৃষ্ট হয়। কিন্তু অন্যরা বেশি বেতন এবং দলের শক্তি সংহত করার সামর্থ্যরে কারণে এর প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। সাবেক সদস্য ও অভিজ্ঞ বেসামরিক ব্যক্তিরা একথা জানান। যেসব এলাকা জিহাদীদের নিয়ন্ত্রণে পড়ে, তারা সেখানে তাদের শাসন দৃঢ় করতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। তারা খ্রিস্টান ও কাফের বলে গণ্য করে কিছু কিছু মুসলিমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাসহ ইসলামী আইন কঠোরভাবে বলবৎ করে। এতেই তাদের প্রতি বেশিরভাগ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু দলটি কেবল এক পুরাতন আইনই অনুসরণ করছে না। এটি দ্রুত স্থানীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং এর শাসন প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে সেই সম্পদকে কাজে লাগায়। আইএসআইএস দৃষ্টান্তস্বরূপ সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে তেলক্ষেত্রগুলো দখল করেছে এবং তেল উত্তোলন আবার শুরু করেছে। কয়েক বিদ্রোহী কমান্ডার ও ত্রাণকর্মীরা এ কথা জানান। দলটি দখল করা বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে সরকারের কাছে বিদ্যুত বিক্রি করে অর্থ আয় করেছে। বুধবার ইরাকে জঙ্গীরা দেশের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুতকেন্দ্রের স্থান বায়েজি দখল করে নেয়।
মিনবেজে জিহাদীরা প্রথমে বেকারি ও মানবিক ত্রাণ গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের মতো কাজ করতে দেয়। পরে তারা শহরটিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার পর সেগুলো পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। জঙ্গী দলটি এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্য দিয়ে পরিবাহিত সব ত্রাণসামগ্রী ও বাণিজ্যিক পণ্যের একাংশ আদায় করে নেয়। আইএসআইএসকে প্রতিরোধ করতে গঠিত অন্যতম প্রথম মিলিশিয়া দল নূরেদিন জিঙ্কি ব্রিগেডের নেতা আবু তৌফিক বলেন, জঙ্গী দলটির সূক্ষ্ম কৌশল এর যোদ্ধাদের বিতাড়িত করা কঠিন করে তুলছে। দলটি গত বছর থেকে ইরাকী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল করা ট্যাঙ্ক নিয়ে লড়াই করে এসেছে।
আবু তৌফিক বলেন, এরূপ দুর্দম মনোভাব থাকলে এর সদস্যদের উত্তর সিরিয়া ও ইরাকে তাদের অধিকৃত ভূখ- থেকে হটিয়ে দেয়া কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, আমার ভয় হয়, সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের চরমপন্থী মতবাদ ছড়াবে এবং আমরা এক আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।
No comments:
Post a Comment