Saturday, June 7, 2014

বিধানসভায় ‘ফেরার’ ঊষারানি, সোনামুখির দীপালি অনুপস্থিতই

বিধানসভায় ‘ফেরার’ ঊষারানি, সোনামুখির দীপালি অনুপস্থিতই

এই সময়: পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিধানসভায় হাজির হলেন 'ফেরার' বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডল৷ ভোটের দিন হাড়োয়ার ব্রাহ্মণচকে হামলায় অভিযুক্ত তৃণমূলের এই বিধায়কের উপস্থিতি নিয়ে অবশ্য সে ভাবে মুখ খোলেননি অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়৷ খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, 'উনি আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন৷' তবে শুক্রবার বিধানসভায় দেখা যায়নি তৃণমূলের আর এক ফেরার বিধায়ক দীপালি সাহাকে৷ বাঁকুড়ার সোনামুখির বিধায়কের বিরুদ্ধে বুথ-দখলের অভিযোগ রয়েছে৷

এদিন বিধানসভায় দ্বিতীয় দফায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে৷ অধিবেশন বসার আধঘণ্টা আগে ঊষারানি আসেন খাদ্যমন্ত্রীর ঘরে৷ খাদ্যমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন৷ তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকেও ছিলেন ঊষারানি৷ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় এই প্রথম বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বকে সরকারের প্রচারের হাতিয়ার করে তোলার পরামর্শ দেন বিধায়কদের৷

ঊষারানির উপস্থিতি নিয়ে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'সভার শুরু থেকেই আমি শোকপ্রস্তাব পাঠ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম৷ তাই কোন বিধায়ক এসেছেন, কে আসেননি বলতে পারব না৷ বিধায়কদের হাজিরা খাতা দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে৷' ফেরার বিধায়ক পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিধানসভায় এসে অন্যায় করেছেন কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়েছেন অধ্যক্ষ৷

এত দিন তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিলেও, মুকুলবাবুকে দেখা যায়নি৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে থাকায় পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেই বক্তব্য রাখেন মুকুলবাবু৷ বিধানসভায় সরকারের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷ বিধানসভা এড়িয়ে চলার অভিযোগ উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে৷ লোকসভা ভোটে বিপুল সাফল্যের পর শাসকদল এ বার অপবাদ ঘোচাতে মরিয়া৷ বিধায়কদের বেশি সংখ্যায় প্রশ্ন রাখার পরমার্শ দেওয়া হয় বৈঠকে৷ নেতৃত্বের স্বীকারোক্তি, বিধানসভায় বিরোধীদের তুলনায় শাসকদলের প্রশ্ন কম৷ বিধায়কদের বোঝানো হয়েছে, শুধুমাত্র প্রশ্ন করেই সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলি বিধানসভায় তুলে ধরা সম্ভব৷

বিজেপি নেতা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন শিকদারের শেষকৃত্যে শোকজ্ঞাপন না-করার জন্য শাসকদল তথা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসৌজন্যের অভিযোগ উঠেছিল৷ এদিন অবশ্য সভার শুরুতেই বিধানসভায় শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়৷ এ ছাড়া সদ্য প্রয়াত বিধায়ক নরেশ চাকি, নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক সতীশচন্দ্র বিশ্বাস, সন্তোষকুমার সিনহা, বৃন্দাবন গায়েন, অনিল ধর গুহনিয়োগী, দেবশরণ ঘোষ, খাঁড়া সোরেন, তারাপদ সাধুখাঁ ও নাট্যব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে৷

No comments:

Post a Comment