মেডিক্যালে আসন কমায় স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যমেই প্রশ্ন
শুধুই কি পরিকাঠামোর ঘাটতি? নাকি কেন্দ্রের সঙ্গে 'লিয়াজঁ' রক্ষায় খামতি থেকেছে রাজ্যের তরফেই? রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ডাক্তারির আসন অর্ধেক হয়ে যাওয়ার পর ময়নাতদন্তে ওঠে আসা এমন প্রশ্নে এখন সরগরম স্বাস্থ্যভবন৷ সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের সঙ্গে সংযোগ-রক্ষাকারী এমসিআই সদস্যদের নিজেই ফোন করে বিষয়টি দেখার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ায় রাজ্যের প্রতিনিধি তিন জন৷ ডাক্তারি পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কাছে রাজ্যের হয়ে দরবার করার ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে তাঁদেরও৷ অর্ধেক আসন খুইয়ে রাজ্য যখন নাকানিচোবানি খাচ্ছে, তখন তাঁদের ভূমিকা কী? দিল্লিতে গিয়ে কি দরবার করছেন তাঁরা? বাস্তব বলছে, দরবার তো দূরস্ত্, তাঁরা সকলেই রাজ্যে ব্যস্ত নিজের নিজের কাজে৷ স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তার সংযোজন, 'এ রাজ্যের কোন হাসপাতালে পরিকাঠামোগত ঘাটতি কতটা, সেটাই তো জানেন না ওঁরা৷' রাজ্যের প্রতিনিধি হয়েও এই 'অজ্ঞতা' কেন?
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, স্বাস্থ্যদপ্তরও কি আদৌ চেষ্টা করেছিল তাঁদের জানাতে? সূত্র বলছে, পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রকৃত অগ্রগতির কথা, এমসিআইয়ের অনুমোদন বাতিলের চিঠি আসার আগে জানতেনই না এ রাজ্যের সদস্যরা৷ স্বাস্থ্যভবনের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকে এমসিআই সদস্যদের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টাটুকু করা হয়নি৷ এমসিআইয়ে রাজ্যের এক সদস্যের কথায়, 'ফোনে হয়তো কথা হয়েছে৷ কিন্ত্ত স্বাস্থ্যভবনে কোনও সরকারি বৈঠকে ডাকা হয়নি আমাদের৷' অন্য আরেক সদস্যের গলাতেও হতাশা, 'টেলিফোনে অনেক স্বাস্থ্যকর্তার সঙ্গেই যোগাযোগ আছে৷ কিন্ত্ত টেলিফোনে কী আর সব হয়! আমাদের যদি একটু আগে সবটা খোলসা করে জানানো হত, তা হলে বোধহয় এখনকার অবস্থা তৈরি হত না৷'
অথচ, ২০১২ সালে একই রকম পরিস্থিতিতে অন্য ঘটনা হয়েছিল৷ রাজ্যের দায়িত্বে থাকা এমসিআইয়ের বোর্ড অফ গভর্নর্সের সদস্য অশোক গুপ্তকে স্বাস্থ্যভবনে ডেকে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য-শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তা বলেন, 'স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, বিশেষ সচিব (স্বাস্থ্য-শিক্ষা) সবার সামনে অশোকবাবুকে আমাদের অবস্থান জানানো হয়েছিল৷ যাতে সরকারের পাশাপাশি উনিও আমাদের হয়ে এমসিআই কর্তাদের কাছে অনুমোদন পাবার ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারেন৷'
এ বারকার পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যকর্তাদের 'উদ্যমহীনতা'কেই কাঠগড়ায় তুলছেন অল ইন্ডিয়া ডিএসও-র সহসভাপতি মৃদুল সরকার৷ তাঁর বক্তব্য, 'রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে আসন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেল, তার পরেও স্বাস্থ্যকর্তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কোনও তাপ-উত্তাপ নেই৷ দিব্যি ক্যাজুয়াল রয়েছেন৷ এমসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেননি ওঁরা৷' বার বার চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য-শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য অবশ্য জানা যায়নি৷
তবে স্বাস্থ্যদপ্তর 'উদ্যমহীন' হলেও সংশ্লিষ্ট এমসিআই সদস্যরা নড়েচড়ে বসছেন৷ সরকার মনোনীত কাউন্সিল সদস্য সুদীপ্ত রায় শুক্রবার বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে ব্যাপারটা দেখার কথা বলেছেন৷ আমি আমার তরফ থেকে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি৷ আশা করছি, অনুমোদন আদায় করতে পারব৷' রাজ্যের তরফে নির্বাচিত মেডিক্যাল কাউন্সিল প্রতিনিধি নির্মল মাঝিরও মন্তব্য, 'সব রকম চেষ্টা চলছে৷ প্রয়োজনে আমরা সুপ্রিমকোর্টেও যাব৷'
মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ায় রাজ্যের প্রতিনিধি তিন জন৷ ডাক্তারি পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কাছে রাজ্যের হয়ে দরবার করার ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে তাঁদেরও৷ অর্ধেক আসন খুইয়ে রাজ্য যখন নাকানিচোবানি খাচ্ছে, তখন তাঁদের ভূমিকা কী? দিল্লিতে গিয়ে কি দরবার করছেন তাঁরা? বাস্তব বলছে, দরবার তো দূরস্ত্, তাঁরা সকলেই রাজ্যে ব্যস্ত নিজের নিজের কাজে৷ স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তার সংযোজন, 'এ রাজ্যের কোন হাসপাতালে পরিকাঠামোগত ঘাটতি কতটা, সেটাই তো জানেন না ওঁরা৷' রাজ্যের প্রতিনিধি হয়েও এই 'অজ্ঞতা' কেন?
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, স্বাস্থ্যদপ্তরও কি আদৌ চেষ্টা করেছিল তাঁদের জানাতে? সূত্র বলছে, পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রকৃত অগ্রগতির কথা, এমসিআইয়ের অনুমোদন বাতিলের চিঠি আসার আগে জানতেনই না এ রাজ্যের সদস্যরা৷ স্বাস্থ্যভবনের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকে এমসিআই সদস্যদের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টাটুকু করা হয়নি৷ এমসিআইয়ে রাজ্যের এক সদস্যের কথায়, 'ফোনে হয়তো কথা হয়েছে৷ কিন্ত্ত স্বাস্থ্যভবনে কোনও সরকারি বৈঠকে ডাকা হয়নি আমাদের৷' অন্য আরেক সদস্যের গলাতেও হতাশা, 'টেলিফোনে অনেক স্বাস্থ্যকর্তার সঙ্গেই যোগাযোগ আছে৷ কিন্ত্ত টেলিফোনে কী আর সব হয়! আমাদের যদি একটু আগে সবটা খোলসা করে জানানো হত, তা হলে বোধহয় এখনকার অবস্থা তৈরি হত না৷'
অথচ, ২০১২ সালে একই রকম পরিস্থিতিতে অন্য ঘটনা হয়েছিল৷ রাজ্যের দায়িত্বে থাকা এমসিআইয়ের বোর্ড অফ গভর্নর্সের সদস্য অশোক গুপ্তকে স্বাস্থ্যভবনে ডেকে নিজেদের অবস্থান বুঝিয়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য-শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তা বলেন, 'স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, বিশেষ সচিব (স্বাস্থ্য-শিক্ষা) সবার সামনে অশোকবাবুকে আমাদের অবস্থান জানানো হয়েছিল৷ যাতে সরকারের পাশাপাশি উনিও আমাদের হয়ে এমসিআই কর্তাদের কাছে অনুমোদন পাবার ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারেন৷'
এ বারকার পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যকর্তাদের 'উদ্যমহীনতা'কেই কাঠগড়ায় তুলছেন অল ইন্ডিয়া ডিএসও-র সহসভাপতি মৃদুল সরকার৷ তাঁর বক্তব্য, 'রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে আসন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেল, তার পরেও স্বাস্থ্যকর্তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কোনও তাপ-উত্তাপ নেই৷ দিব্যি ক্যাজুয়াল রয়েছেন৷ এমসিআইয়ের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেননি ওঁরা৷' বার বার চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য-শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য অবশ্য জানা যায়নি৷
তবে স্বাস্থ্যদপ্তর 'উদ্যমহীন' হলেও সংশ্লিষ্ট এমসিআই সদস্যরা নড়েচড়ে বসছেন৷ সরকার মনোনীত কাউন্সিল সদস্য সুদীপ্ত রায় শুক্রবার বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে ব্যাপারটা দেখার কথা বলেছেন৷ আমি আমার তরফ থেকে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছি৷ আশা করছি, অনুমোদন আদায় করতে পারব৷' রাজ্যের তরফে নির্বাচিত মেডিক্যাল কাউন্সিল প্রতিনিধি নির্মল মাঝিরও মন্তব্য, 'সব রকম চেষ্টা চলছে৷ প্রয়োজনে আমরা সুপ্রিমকোর্টেও যাব৷'
No comments:
Post a Comment