Wednesday, June 4, 2014

ছয় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ৪০ লাখ টাকার বাণিজ্য

ছয় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ৪০ লাখ টাকার বাণিজ্য
এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড় থেকে
প্রকাশ : ০৫ জুন, ২০১৪

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের নয়াদীঘি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগকৃত শিক্ষকদের দক্ষতা বা যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় না এনে শুধু নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য যেনতেন প্রকারে পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নয়াদীঘি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ৯নং সাকোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে ডোনেশনের নামে নজীরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই এলাকা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে ওই নেতা সাকোয়া ইউনিয়নের শুধু নয়াদীঘি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ই নয়, একটি মাদ্রাসাসহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে নিয়োগ বাণিজ্য করে গত কয়েক বছরে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নয়াদীঘি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিটি পদে নিয়োগের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ কমপক্ষে ২-৩ মাস আগেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রায় প্রত্যেকটি পদের জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও তিনি টাকা নিয়েছেন। রত্না বেগম নামের এক মহিলাকে গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ অগ্রিম ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু তাকে নিয়োগ না দিয়ে পরে অপর প্রার্থী জান্নাত আরা বেগমকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে টাকা দেয়ার পরও চাকরি না হলে অর্থ কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ গত ২৬ মে রত্না বেগমের কাছ থেকে নেয়া ৪ লাখ ২০ টাকা তার চাচা মোজাম্মেল হককে ফেরত দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়া ওই বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে রবিউল ইসলাম নামে অপর একজন দীর্ঘ ৭ বছর বিনা বেতনে কাজ করার পরও নিয়োগ পেতে তাকে কয়েক লাখ টাকা কমিটির সভাপতিকে দিতে হয়েছে। কারণ এই পদের জন্য তিনি অন্য আরও একজন প্রার্থীর কাছ থেকে আগেই টাকা নিয়েছেন। এখন রবিউলের ডোনেশনের টাকা দিয়ে ওই প্রার্থীর টাকা পরিশোধ করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়াও হিন্দু ধর্ম বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে শ্যামলী রানী সেন নামে অপর একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকেও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তবে তাকে নিয়োগ দিয়ে অর্থ নেয়ার বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলী শাহরিয়ার স্বীকার করেছেন। এদিকে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে আদায়কৃত টাকার ভাগ ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা আনুপাতিক হারে পেয়েছেন। এ ছাড়াও বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলী শাহরিয়ার পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি দেবীগঞ্জ নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আশেকুর রহমানও ৫০ হাজার টাকা ভাগ পেয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে শিক্ষক নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন নেয়া হলেও বস্তুতপক্ষে বিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো অর্থই জমা হয়নি বা বিদ্যালয়ের এক পয়সা কাজেও লাগানো হয়নি। আদায়কৃত অর্থের প্রায় সিংহভাগই ঢুকেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার পকেটে। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কিছু ডোনেশন নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এখনও অনেকেই টাকা দেননি।
 
- See more at: http://www.jugantor.com/bangla-face/2014/06/05/107681#sthash.C46TSJPQ.dpuf

No comments:

Post a Comment