Thursday, June 12, 2014

বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
মজিবর রহমান, সাও পাওলো, ব্রাজিল থেকে ॥ উত্তেজনার আতিশয্যে কোন এক কবি লিখেছিলেন, ‘সাত মহাদেশ, সপ্ত সাগর মত্ত হয়ে দিচ্ছে লাফ/লক্ষ মুভি ধরছে ছবি, বাড়ছে কারও উচ্চচাপ/ বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপ!’ চার বছর অপেক্ষার পর আসে বলেই হয় তো উন্মাদনাটার পরিমাণ এমন থাকে। এবার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে ফুটবলের দেশ ব্রাজিলকে। তবে এর পরও উদ্বোধনীর আগেই স্থানীয় আয়োজকরা দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘উদ্বোধনেই বিশ্বকে চমকে দেয়া হবে।’ ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স এ্যারেনা। বিংশ বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে এখানেই। বিশ্বকাপের থিম সং ‘ওলে ওলা’ বা ‘উই আর ওয়ান’ গেয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পপগায়িকা জেনিফার লোপেজ, র‌্যাপ গায়ক পিটবুলের সঙ্গে ব্রাজিলের পপতারকা ক্লডিয়া লেইটে। এর সঙ্গে ছিল ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সাম্বা নাচের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী। মাঠের লড়াই শুরুর আগে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাও হয় তো কম উপভোগ্য হবে না। আধুনিক বিজ্ঞানের তাক লাগানো উদ্ভাবন, চিরায়ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোমুগ্ধকর নৃত্যসঙ্গীত আর অবশ্যই ফুটবল ইতিহাস ছিল অনুষ্ঠানে। এরই সমন্বয়ে জমকালো এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়েই শুরু হলো ব্রাজিল বিশ্বকাপ। তাক লাগানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজন নিয়ে যে সমালোচনা ছিল সেটাকে মোটামুটি পেছনেই ফেলতে পেরেছেন আয়োজকরা।
বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় ছিল পুরো বিশ্ব। ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল অনেক দিন থেকেই। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি এলো এবং সবাই উপভোগ করলেন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ফিফা ছিল দারুণ চিন্তায়। আশঙ্কা ছিল বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমীদের মনেও। তবে দুই দিন আগেই বিক্ষোভকারীরা ধর্মঘট, আন্দোলন প্রত্যাহার করে সেই আশঙ্কায় কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। সেই স্বস্তিটা আনন্দে রূপ নিয়েছে বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। করিন্থিয়ান্স এ্যারেনা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল আধুনিক বিজ্ঞানের চমক। অত্যাধুনিক রোবোটিক এভোস্কেলেটন বা ধাতব বহিঃপোশাক পরে বিশ্বকাপের বোধন করেছেন একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষ। এর মাধ্যমেই বিশ্ববাসীকে বার্তা দেয়া হয়েছে ফুটবল সবার জন্য এবং সবাইকে একতাবদ্ধ করার জন্য। এর পরই নৃত্য আর সঙ্গীতের মাধ্যমে ব্রাজিলের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটান শিল্পীরা। সবশেষে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওলে ওলা’ পরিবেশন করেন পিটবুল, পপগায়িকা জেনিফার লোপেজ, ক্লডিয়া লেইটে ও ব্রাজিলের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওলোডাম।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘ওলে ওলা’ বা ‘উই আর ওয়ান’ যেন বলেছে একতার কথা, যুথবদ্ধ হওয়ার কথা। ফুটবলের মতো একটি বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক জনপ্রিয় ফুটবল খেলা দিয়েই। জনপ্রিয় গায়িকা জেনিফার লোপেজ অংশ নেয়ার কথা না থাকলেও তিনি যোগ দেয়ার কারণে যেন সৌন্দর্য আর মুগ্ধতার বিষয়টি আরও বেড়েছে। বেড়েছে আকর্ষণ। আর সেটা দিয়েই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে চোখ রাখা বিশ্বের অগণিত দর্শকেদর পিপাসা মিটিয়েছে, ফুটবলপ্রেমীদের কিংবা যারা ফুটবলের প্রতি খুব বেশি মনযোগী নয় তাদের মনেও আলোড়ন শুরু হয়েছে ফুটবল নিয়ে। আমেরিকান র‌্যাপার পিটবুল, ব্রাজিলিয়ান শিল্পী ক্লডিয়া লেইটের সঙ্গে অন্য তারকাশিল্পীদের উপস্থিতি আন্দোলিত করেছে সবার মন, জুড়িয়েছে অপেক্ষার কষ্টে পোড়া অসংখ্য ফুটবল ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সত্যিকারের তারকারা ছিলেন আসলে শত শত স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যান্য কলাকুশলী যাঁরা এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাসের পর মাস ধরে অনুশীলন করেছেন। ফিফার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক মিনিটের পারফর্মেন্সের জন্য তাঁরা ২০ ঘণ্টা করে অনুশীলন করেছেন। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা কত রোমাঞ্চ-উত্তেজনা ছড়াতে পারবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় তারকা নেইমারদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই দিনের একমাত্র ম্যাচে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে দেখতে পেয়েছেন উপস্থিত দর্শকরা।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment