Tuesday, June 10, 2014

রাজধানীতে ফুটপাত দখল করে চলছে আম-বাণিজ্য

রাজধানীতে ফুটপাত দখল করে চলছে আম-বাণিজ্য
নেসারুল হক খোকন ও বকুল আহমেদ
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৪

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে কথিত আম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ ব্যবসায় নেমেছেন। ফরমালিনমুক্ত সাইনবোর্ড টানিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুস্বাদু আম সরবরাহের নামে বসানো হয়েছে এসব স্টল। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হয়। এ হিসাবে শতাধিক স্টল থেকে অন্তত দেড় লাখ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের কথা বলা হলেও এসব স্টলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিকযুক্ত আম। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব স্টলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আম ধ্বংসও করেছেন। ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলছে এ আম-ব্যবসা।
উত্তর সিটি কর্পোরেশন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কয়েকজনকে এসব স্টল বসানোর অনুমতি দিলেও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটিরও অনুমতি দেয়নি। তবে দক্ষিণে অনুমতি ছাড়াই সরকারদলীয় ক্যাডারদের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে এই আম-ব্যবসা। রং-বেরঙেয়ের কাপড় দিয়ে সাজিয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনযুক্ত আম। জায়গা বরাদ্দ পেতে সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ভিজিটিং কার্ড সংযুক্ত করে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আবেদনও করা হয়েছে। তবে এতে অনুমতি না মিললেও ধানমণ্ডি এলাকায় প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে আমের স্টল বসানো হয়েছে। এসব অবৈধ দোকান থেকে সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ নিয়মিত চাঁদা পাচ্ছে। এই চাঁদার কথা স্বীকার করেছেন কয়েকজন আম ব্যবসায়ী।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর কারণে ১ মে থেকে ভারতের আম ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই আম এখন বাংলাদেশে ঢুকছে। আর ওই সব আম রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
দলীয় পরিচয়ে আবেদন : জাতীয় শ্রমিক লীগের ধানমণ্ডি শাখার সভাপতি আবদুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন তালুকদার যৌথ স্বাক্ষর করে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে আম মেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে জাতীয় শ্রমিক লীগ ধানমণ্ডি থানার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ৬/এ রোডের ৬৪নং বাড়ির সামনে ফরমালিনমুক্ত আমের মেলা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। আবেদনে ১৪ মে সুবিবেচনার জন্য জোর সুপারিশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। ধানমণ্ডি থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল সাত মসজিদ রোডের ৫০নং বাড়ির সামনে একটি আম মেলার অনুমতি চান। তার এই আবেদনেও তাপস সুপারিশ করেন। ধানমণ্ডির ১৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি আতাউর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক হরিচরণ রবি দাস সাত মসজিদ রোডের ৭৫৮ ও ৭৫৯নং বাড়ির সামনে স্টল বরাদ্দের আবেদন করেন। এই তিন আবেদনের একটিও সিটি কর্পোরেশন মঞ্জুর করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নূর বাহাদুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ২০টি স্থানে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের অনুমতি চেয়ে একই সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন ২৭ মে। জনস্বার্থে তার আবেদন বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত একজন প্রক্টর। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার হাইকোর্টের আদেশ পালনে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ নেতাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি দোকানেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। কারণ, ফুটপাতে দোকান বসানোয় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সীমানায় যেসব আমের মেলা বসানো হয়েছে সবগুলো অবৈধ। কয়েকটি মেলা উচ্ছেদও করা হয়েছে।
ভাড়া নেন নেতারা : সরেজমিন এসব আম ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আমের মেলা’ ব্যানার বোর্ড টানিয়ে যারা আমের পসরা সাজিয়েছেন তারা কেউই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ফল ব্যবসায়ী এসব স্টল ভাড়া নিয়েছেন। প্রত্যেক স্টল থেকে প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হয়। ধানমণ্ডির জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল আজিজ মিয়া ও মোঃ লিটন তালুকদার ধানমণ্ডি ৬/এ নম্বর রোডের সামনে মেলার জন্য জায়গা ভাড়া দিয়েছেন আম ব্যবসায়ী আবদুস সালামের কাছে। ৩ জুন আবদুস সালাম যুগান্তরকে বলেন, ‘শ্রমিক লীগের আজিজকে প্রতিদিন দেড় হাজার টাকা করে দোকান ভাড়া দিতে হয়।’
সাত মসজিদ রোডের ৫০নং বাড়ির সামনে মেলার স্টলে আমের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ী আশরাফ। তিনি জানান, আবদুল জলিলকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা ভাড়া দেন তিনি। ধানমণ্ডি ৯/১ ও ১৫ নম্বরে ২টি স্টলের ব্যবসায়ী কাজল জানান, স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতাদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে তিনি মেলা বসিয়েছেন। এজন্য তাকে প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়ের বটতলায় ফরমালিনমুক্ত আমের ব্যানার টানিয়ে আমের পসরা সাজানো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে এক লাখ টাকা দিয়ে ওই জায়গাটি ভাড়া নেয়ার কথা জানান ওই আমের মেলার মালিক রাজু। নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে রাজু যুগান্তরকে বলেন, ‘রাজনীতি করি বলেই এখানে ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছি।’ তার পরও দলের বড় ভাইদের টাকা দিতে হয়। এরপর পুলিশ ভাইরা তো আছেনই। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত আসার আগেই তারা খবর পেয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত আমের ওপর কি এক যন্ত্র বসায় আমে ফরমালিন দেয়া না থাকলেও সিগন্যাল মারে।’ এরপর জরিমানা করা হয়। তার আম ফরমালিনমুক্ত দাবি করেন।
উত্তরে দেখার কেউ নেই : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে ৭টি আমের মেলা বসানোর জন্য জায়াগা বরাদ্দ দেয়া হলেও আমের মেলা বসানো হয়েছে অর্ধশতাধিক। সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা এসব মেলার জায়গা বরাদ্দ নিয়ে আম ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। কেউ কেউ একটি স্টলের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে ২টি স্টল বসিয়েছেন। বনানী রেলস্টেশনসংলগ্ন একটি স্টলের জায়গা বরাদ্দ নেন মহিলা আওয়ামী লীগের কাজল কাকলী। বিশাল প্যান্ডেল করে সেখানে ২টি স্টল দুই ব্যবসায়ীকে ভাড়া দিয়েছেন। এই ২টি স্টল থেকে তিনি প্রতিদিন দুই হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের পূর্ব-দক্ষিণ কর্নারে জুয়েল আহমেদ, গুলশান-২ জামে মসজিদের পশ্চিমে খালি জায়গায় কাজী জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, বনানী ১০/১১ রোডের কর্নারে ফারুকুল ইসলাম তালুকদার, বনানী ৭/১১ নম্বরে কোয়ার্টারের কর্নারে সিদ্দিক, মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও গুলশান-২-এর লেকের পাশে সাহা মিঠুন কুমার সৌরভ ফরমালিনমুক্ত আমের মেলা বসানোর জন্য জায়গা বরাদ্দ নেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, যারা আবেদন করেছেন, তারা কেউই সরাসরি ব্যবসা করছেন না। তারা দলীয় পরিচয়ে অনুমতি নিয়ে ওই সব জায়গা প্রতিদিনের হিসাবে ভাড়া দিয়েছেন। মিঠুন কুমার সৌরভ গুলশান লেকের পাশের জায়গাটি বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দিয়েছেন হাবিবুল বাসারকে। হাবিবুলের ভাই আবুবকর ভাড়া দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। খিলক্ষেতে রিজেন্সি হোটেলের সামনে ফুটপাতে আমের মেলার ব্যবসায়ী জুয়েল জানান, ওই স্টলের জায়াগার জন্য তিনি স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা নাননুকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা ভাড়া দেন। সিটি কর্পোরেশন থেকে এ দোকানের অনুমতি নেই তাও স্বীকার করেন। এ ছাড়া উত্তরায় অবৈধভাবে জায়গা দখল করে অন্তত ১০টি আমের মেলা ভাড়া দিয়েছেন সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশও চাঁদা ওঠায় ওই সব মেলা থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করা হয়নি। ফুটপাতের বাইরের জায়গায় অনুমতি দেয়া হয়েছে। অবৈধ দোকান থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।
রাজশাহীর নামে প্রতারণা : স্টলের ব্যানারে ‘রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুস্বাদু আম’ পাওয়া যাচ্ছে লেখা থাকলেও বিক্রি করা করা হচ্ছে সাতক্ষীরা ও ভারতের আম। কোনো কোনো দোকানি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ধানমণ্ডির আম মেলার ব্যবসায়ী ধানমণ্ডির ৬/এ নম্বর রোডের পাশের একটি আমের মেলার ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, এখনও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম আসা শুরু হয়নি। সেখানকার আম আসতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। তাহলে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যানার টানিয়ে আমের পসরা সাজানো হয়েছে কেন জানতে চাইলে একটু মুচকি হেসে বলেন, “ভাই মানুষ ‘আম’ বলতে বোঝে রাজশাহীর নাম। আসলে সাতক্ষীরার আমও খারাপ না।” বনানী রেলস্টেশনের পাশে আম মেলার এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরাও কোনো কোনো খদ্দেরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করছি।’ দোকানে বসা বয়োবৃদ্ধ আবদুল জব্বারের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার মেলার স্টলে সাজানো আম কোন স্থানের। এ সময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে এই আম এসেছে। তার ভাতিজা হাকিম সাতক্ষীরার বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে মেলায় পাঠান। এ সময় আবদুল জব্বারের কাছ থেকে হাকিমের মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করে মেলায় আম সরবরাহের তথ্য জানতে চাইলে বলেন, ‘না না আমি ব্যক্তিগত কাজে সাতক্ষীরায় এসেছি। আম কিনতে আসিনি। মেলায় আম দেয়া হয় রাজশাহীর বাগান থেকে। এ সময় তাকে আবদুল জব্বারের উদ্ধৃতি দেয়া হলে বলেন, আমের ব্যবসা আমার। আমিই জানি আম কোথা থেকে আসে।’
ফরমালিনমুক্ত ব্যানারে যত ভেজাল : রাজধানীর প্রতিটি আমের মেলার নামে দেয়া স্টলে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘শতভাগ ফরমালিনমুক্ত আম’। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এ ধরনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীরা। দামও অন্যান্য দোকানের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ‘ফরমালিনমুক্ত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের মেলায়’ বিএসটিআই ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আম পরীক্ষা করে ফরমালিনের অস্তিত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে ২ জুন সিদ্ধেশ্বরীতে এরকম একটি মেলায় ফরমালিন পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই আদালত ‘সিদ্ধেশ্বরী বিশ্বময়ী ফল ভাণ্ডারের আমেও ফরমালিন পেয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মতিঝিলের ইস্পাহানি ফ্রেশ ফুড গার্ডেন ঘিরে ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লেখা শতভাগ ফরমালিন মুক্ত আম।’ ৫ জুন ওই ফ্রেশ ফুড গার্ডেনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। আম পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণে ফরমালিনের অস্তিত্ব পেয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন আদালত। ৪ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ পরাগ তালুকদারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত খিলগাঁও এলাকার তানিয়া ট্রেডার্স এবং বিল্লাল হোসেনের আমের মেলায় অভিযান চালান। ফরমালিনের অস্তিত্ব পেয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।
এসব আমের মেলা থেকে বিপুল পরিমাণ ফরমালিনযুক্ত আম ধ্বংস করেন ওই আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ পরাগ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, কেমিক্যালমুক্ত সাইনবোর্ড দেখে ক্রেতারা সাধারণত এসব আমের মেলায় বেশি ভিড় করেন। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল মিশিয়ে আম বিক্রি করছেন। এটা এক ধরনের প্রতারণা। তিনি আরও বলেন, ‘যে আমের স্টলে কেমিক্যালমুক্ত সাইনবোর্ড দেখছি সেখানেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি।’ ওই সব দোকানের আমে ভয়াবহ আকারে কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে।
ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ আমে কেমিক্যাল বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘কেমিক্যাল এক ধরনের বিষ। অসাধু আম ব্যবসায়ীরা গাছে থাকতেই আমে কেমিক্যাল স্প্রে করেন। এতে আমের রং সুন্দর হয় এবং দ্রুত পাকে। কিন্ত এরা যে কেমিক্যাল স্প্রে করে মানুষের দেহে কি ভয়াবহ ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান ঢুকিয়ে দিচ্ছে তা হয়তো ভাবেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজন আম চাষীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ।
অপরদিকে আম পাকার পর পচন ঠেকাতে যে ফরমালিন দেয়া হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ভয়াবহ। ২-৩ বার কেমিক্যাল মেশানোয় মানবদেহের কিডনি, লিভার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া গ্যাসট্রিক আলসার, পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের অসুখ হওয়ার আশংকা শতভাগ।
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/06/11/110306#sthash.inpwYTnI.dpuf

No comments:

Post a Comment