Tuesday, June 10, 2014

বাউল শিল্পী আবদুল করিম শাহর জীবনাবসান

বাউল শিল্পী আবদুল করিম শাহর জীবনাবসান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৪

জগৎ সংসারের মায়া ছেড়ে পরপারে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ বাউল শিল্পী আবদুল করিম শাহ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরতলির চৌড়হাস এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন বাউল করিম শাহ অ্যাজমা ফুসফুসে প্রদাহসহ বার্ধক্যজনিত কারণে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিত কুমার বিশ্বাস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে যাওয়া সাংবাদিকদের গেয়ে শুনাচ্ছিলেন ‘মিছে এই বাড়িঘর, মিছে টাকাকড়ি, মিছে দৌড়াদৌড়ি, করি কার জন্য, দেখলাম এ সংসার।’ হয়তো পরপারের ডাক এসে গেছে একথা বুঝেই তিনি এ গান গেয়েছিলেন।
প্রবীণ এ বাউল শিল্পীর মৃত্যুর খবর শুনে কেউ ঘরে থাকতে পারেননি। জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল গনি, বাউল গবেষক ও কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার, বাউল টুনটুন শাহসহ করিম শাহর ভক্ত ও শিষ্যরা তার বাসভবনে ছুটে যান। বাউল আবদুল করিম শাহর স্ত্রী রিজিয়া খাতুন বলেন, ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর কয়েক দিন ভালো ছিল। সোমবার রাত থেকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আবদুল করিম শাহ খুব ছোটবেলায় লালন মতে দীক্ষা নেন। এর পর আমৃত্যু তিনি লালনের সুর সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। তিনি লালন সঙ্গীতের আদি ধরে রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তীব্র আর্থিক দৈন্য থাকলেও তার সুর সাধনায় কখনও ব্যাঘাত ঘটেনি। এসব কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২৪ এপ্রিল শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এক প্রকার জোর করেই ১ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ৭ জুন তাকে কুষ্টিয়ার চৌড়হাস ক্যানালপাড়ার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাউল আবদুল করিম শাহর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার ভক্ত মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কামারপাড়ার আকমল ফকিরের বাড়িতে তাকে সমাহিত করা হয়।
আকমল ফকির জানান, করিম শাহ আমার গুরু ছিলেন। তাই আমার নিজের জমিতে তাকে সমাহিত করতে চাই। এ জন্য আমি ৪ কাঠা জমি দিয়েছি। বাদ জোহর জানাজা শেষে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। আজীবন লালন সঙ্গীত গেয়ে দর্শক-শ্রোতার মনোরঞ্জন করে এলেও তার বসবাস ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পতিত জমিতে।
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/06/11/110313#sthash.uNHVHX2s.dpuf

No comments:

Post a Comment