Saturday, June 7, 2014

অনলাইনে ভর্তি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জখম বহু

অনলাইনে ভর্তি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জখম বহু

অন লাইনে ছাত্রভর্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জেলায় শুক্রবার বিজেপির যুব সংগঠনের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াল টিএমসিপি৷

এ দিন দুই সংগঠনের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারাসত কলেজ৷ একই ঘটনা ঘটে গোবরডাঙার হিন্দু কলেজেও৷ ১০ জনেরও বেশি বিজেপি কর্মী-সমর্থক জখম হন৷ টিএমসিপি ছাত্রনেতারা অবশ্য এই ঘটনায় তাদের কর্মীদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন৷

স্মারকলিপি দিতে বারাসত কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বিজেপির যুব সংগঠনকে৷ এ নিয়ে বচসা শুরু হয়৷ জোর করে কলেজে ঢুকতে গিয়ে প্রহূত হন বিজেপির যুব মোর্চার কর্মীরা৷ অভিযোগ, কলেজের সামনে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর ফেলে তাঁদের মারধর করে বহিরাগতরা৷ বিজেপির অভিযোগ, কলেজের ভেতর থেকে লাঠি, হকি স্টিক নিয়ে এসে হামলা চালায় ওই দুষ্কৃতীরা৷ বিজেপির জেলা যুব সভাপতি মানব বিশ্বাস-সহ মোট পাঁচ বিজেপি কর্মী জখম হন৷ জেলা বিজেপির অন্যতম সম্পাদক তাপস মিত্রর অভিযোগ, টিএমসিপি বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালিয়েছে৷

একই ভাবে গোবরডাঙা হিন্দু কলেজেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বহিরাগতদের নিয়ে বিজেপির উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ৷ সেখানেও পাঁচ জন বিজেপি কর্মী জখম হন৷ বিজেপি নেতা বিপ্লব হালদারের অভিযোগ, আন্দোলন বন্ধ করার জন্য টিএমসিপি বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জড়ো করেছিল৷ টিএমসিপির জেলা সভাপতি আবদুল কালাম বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, কোনও অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল বিজেপি৷ কলেজের ছাত্ররাই ওদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেয়৷

পূর্বস্থলীতেও বিজেপি কর্মীদের লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠেছে টিএমসিপির বিরুদ্ধে৷ পূর্বস্থলী-২ ব্লক যুব সভাপতি প্রবীর ঘোষ বলেন, 'পূর্বস্থলী কলেজে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে দেখি, টিচার ইনচার্জ নেই৷ ফোন করলে অপেক্ষা করতে বলেন তিনি৷ সেইমতো আমরা অপেক্ষা করছিলাম৷ বুঝতে পারছিলাম টিএমসিপি লোক জড়ো করছে৷' হঠাত্‍ই জনা পঁচিশ যুবক তাঁদের পেটাতে শুরু করে বলে অভিযোগ৷ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মণ্ডল বলেন, 'বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কোনও অস্তিত্ব নেই৷ যাঁরা স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের বাবা-দাদুর বয়সী৷ মারধরের ঘটনায় টিএমসিপির কেউ জড়িত নয়৷ পূর্বস্থলীতে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে৷ এটা সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই ফল৷'

আরামবাগের কালীপুর নেতাজি মহাবিদ্যালয়েও আক্রান্ত হন বিজেপির যুব কর্মীরা৷ অভিযুক্ত টিএমসিপি৷ বিজেপি নেতা মধুসূদন বাগ বলেন, 'আবারও গণতন্ত্র আক্রান্ত হল৷ পুলিশের সামনেই আমাদের সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে৷' তৃণমূলের যুবনেতা রাজেশ চৌধুরী বলেন, 'এ রকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি৷'

এ দিন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অমিতাভ রায়ের নেতৃত্বে বিজেপির যুব মোর্চা বিধাননগরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যায়৷ কিন্ত্ত করুণাময়ী থেকে মিছিল শুরু হতেই পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, পার্থবাবু বিধানসভায় আছেন৷ ফলে শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ বিজেপি সমর্থকরা রাস্তায় বসে পড়েন৷ কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইন ভর্তির নির্দেশিকা বাতিলের বিজ্ঞপ্তি পোড়ানো হয়৷

পরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষা দপ্তর সব ছাত্র সংগঠনকে ডেকে বলে দেবে, ভর্তি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, তবে কাউকে চাপ দেওয়া চলবে না৷'
http://eisamay.indiatimes.com/state/online-addimission-brawl-between-tmc-and-bjp/articleshow/36162571.cms

No comments:

Post a Comment