Sunday, June 8, 2014

প্রিয় দলের জন্য প্রেম, বিচিত্র প্রকাশ রাজধানীতে ফুটবল উন্মাদনা চরমে

প্রিয় দলের জন্য প্রেম, বিচিত্র প্রকাশ
রাজধানীতে ফুটবল উন্মাদনা চরমে
মোরসালিন মিজান ॥ রাজধানী শহরের কোন রাস্তাটি ধরে আপনি হাঁটছেন? একটু এর আশপাশে তাকান। তাকান মানে, খেয়াল করুন। কী দেখতে পাচ্ছেন? হ্যাঁ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। সারা দুনিয়ার মতো এ নগরেও নানা রঙে রূপে প্রকাশিত হচ্ছে বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তি। আর্জেন্টিনা দলের জার্সি থেকে সাদা ও আকাশী রং নিয়ে মজার মজার কা- করছেন সমর্থকরা। আর ব্রাজিল সমর্থকরা সব কাজে ব্যবহার করছেন হলুদ রং। ইতালী, জার্মানী ও হল্যান্ডসহ আর কিছু দেশের অস্তিত্বও চোখে পড়ছে। সবই জানান দিচ্ছে- বিশ্বকাপ ফুটবল অত্যাসন্ন। ফুটবল উন্মাদনা চরমে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ জুন ব্রাজিলে শুরু হচ্ছে ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ উপভোগের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রথমেই আসে পতাকার কথা। গোটা শহর ইতোমধ্যে ছেয়ে গেছে প্রিয় দলের পতাকায়। গত কয়েকদিন শহর ঘুরে দেখা যায়, একই বাসার ছাদে একাধিক পতাকা উড়ছে। কার পতাকা কতো বড়- পরিমাপ করা হচ্ছে। যার পতাকা বড়, তাঁর দল আপাতত এগিয়ে! কোন কোন পতাকা আবার লম্বায় বাড়ির সমান! ছাদ থেকে ছেড়ে দেয়া পতাকা নিচতলা পর্যন্ত নেমে এসেছে। বাসাবো, মিরপুর, গোপীবাগ, শেওড়াপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেল এমন পতাকার প্রদর্শনী। মনিপুরি পাড়ার একটি আটতলা বাড়ির সামনের অংশ ঢাকা পড়েছে ব্রাজিলের পতাকায়। পাশের গলিতে পাঁচতলা বাড়ি। এখানে আর্জেন্টিনার জয়জয়কার। আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকাটি যিনি টানিয়েছেন তাঁর নাম আরেব। একটি বেসরকারী ব্যাংকে কাজ করেন। পৈত্রিক সূত্রে বাড়ির মালিক। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকে ম্যারাডোনার ভক্ত। এখন আমার দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। তাদের সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখব। এখন চলছে প্রস্তুতি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পতাকা টানানো। আমি ভাই আরও বড় পতাকা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িটা পাঁচতলা হওয়ায় পারলাম না! কেউ কেউ এতো পেরেছেন যে, আস্ত বাড়ির রং পাল্টে দিয়েছেন। ধোলাইপাড় ও বকশিবাজারে বিশাল দুই এ্যাপার্টমেন্ট হাউসের রং করা হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিরার জার্সির রঙে। বহু দূর থেকে দেখা যায় বাড়ি দুটো। কৌতুহলী মানুষ মজা করে দেখেন। তবে শুধু বাড়িতে নয়, অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও টানানো হয়েছে বর্ণিল পতাকা। মতিঝিল ও পল্টন এলাকার চেনা জানা ব্যাংক বীমার অফিসে ‘কে বা কাহারা’ পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। একাধিক অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ‘কে বা কাহারা’ আসলে অফিসের পিয়ন। ‘স্যারদের’ প্রশ্রয়েই নাকি তাঁদের এমন উচ্ছ্বাস। বাড়ির পর পতাকার দেখা মিলছে গাড়িতে। লোকাল বাসের এক কোনে যেমন পতাকা টানানো তেমনি, প্রাইভেট কারে। মোটরসাইকেলের সামনেও ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড এখন। গাড়ি ছুটছে। সে সঙ্গে ছুটছে পতাকা।
পতাকার চাহিদা বেশি হওয়ায় দেখতে বেড়ে গেছে বিক্রেতার সংখ্যা। এখন গোটা শহর ফেরি করে পতাকা বিক্রি হচ্ছে। মিলন নামের এক বিক্রেতা জানালেন, বিভিন্ন মাপের পতাকা রয়েছে তার কাছে। যার যেটি দরকার, নিচ্ছেন। কিছু পতাকা আবার কাগজের। কাগজের, তবে পানিতে ভিজবে না। এ পতাকা বাচ্চাদের জন্য। হাতে নিয়ে খেলার উপযোগী করে বানানো বলে জানান তিনি।
প্রিয় দলের জার্সি গায়ে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও এখন প্রচুর। শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও জিন্সের সঙ্গে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার জ্যার্সি পরে শহর ঘুরছেন। বিকেলে শাহবাগে কিছু সময় দাঁড়িয়ে এমন অন্তত দশ জনের দেখা মিলল। অধিকাংশ জার্সির নম্বার ১০। ম্যাসি নেইমারের জ্যার্সি বিক্রি হচ্ছে শপিংমল, ফুটপাথ এবং বিভিন্ন দোকানে। আজিজ মার্কেটের বিটুইন নামের একটি দোকানে বড়সড় সংগ্রহ। বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ছেলে বুড়ো সবার জন্যই জার্সি করেছেন তারা।
জ্যার্সির পাশাপাশি অনেকেই আবার হাতে রাবারের ব্যান্ড পরছেন। তিনটি ব্যান্ডের একটি বিশেষ সেট পাওয়া যাচ্ছে। মাঝেরটি সাদা। দুই পাশে দুটি আকাশী রং ব্যান্ড। এভাবে তিনটি একত্রে প্রকাশ করে আর্জেন্টিনাকে। ব্যান্ড আছে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্যও। নিউ মার্কেটের এক বিক্রেতা জানালেন, এগুলো থাইল্যান্ড থেকে আসা। এক সেটের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিভিন্ন দামের আরও কিছু ব্যান্ড এখন পাওয়া যাচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাহাসও জমে উঠেছে। প্রায় সব আড্ডায় এখন আর্জেন্টিনা ব্রাজিল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, চলন্ত বাস, চায়ের দোকান সর্বত্র গরমাগরম অবস্থা। কার দল কেন শ্রেষ্ঠ সে তর্ক একবার শুরু হলে আর থামতে চাইছে না। মজার ব্যাপার হলো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এ বাহাসে কেউ কারও শত্রু হন না। বরং বন্ধুতা বাড়ে। বেড়ে চলেছে। এ ফুটবলের, বন্ধুতার এবং মধুর লড়াইয়ের জয় হোক।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment