Sunday, June 1, 2014

মন্ত্রীদের নজরে রাখবেন মোদি

মন্ত্রীদের নজরে রাখবেন মোদি
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন, ২০১৪

ভারতের লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে নানা প্রযুক্তির ব্যবহারে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা। কিন্তু অভূতপূর্ব সাফল্যের পরেও নরেন্দ্র মোদি সেনা নামে খ্যাত মোদির অত্যন্ত দক্ষ ‘আইটি ব্রিগেডের’ কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
বিজেপি সূত্রের খবর, তার এই প্রচারের কারিগরদের এবার সাউথ ব্লকে নিয়ে আসতে চাইছেন মোদি। তবে তাদের কাজের চরিত্রটা এবার কিছুটা আলাদা হতে চলেছে। নরেন্দ্র মোদির চোখ ও কান হয়ে এবার সরকারি কাজ, নানা প্রকল্প, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাজের খতিয়ানের ওপর নজর রাখবেন তারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম নিয়ে মোদিকে ফিডব্যাকও দেবেন ‘ব্র্যান্ড মোদি’র সদস্যরা। তার ও সরকারের ভাবমূর্তি যেন কোনোভাবে খারাপ না হয়, সে জন্য প্রথম থেকেই সক্রিয় হয়েছেন মোদি। নিজের ঘনিষ্ঠ এই দলকে দিল্লিতে এনে সে ব্যাপারে গোড়া থেকেই সতর্ক থাকতে চান তিনি।
গুজরাটে রাজ্য প্রশাসনকে অনেকটা কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে ব্যবহার করতেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেই নিয়মের ব্যত্যয় হবে না। তাই বাজার কী বলছে, আমজনতা কী বলছে, মানুষের কী প্রত্যাশা, কীসে তাদের আপত্তি, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছনো দরকার, তা জেনে নিয়ে সেইমতোই এগোতে চান তিনি। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধীরা বার বার আক্ষেপ করেছেন, সরকার নানা ভালো কাজ করলেও তার খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সোনিয়া যখন দলীয় সংগঠনকে সরকারের সাফল্যের কথা প্রচার করার নির্দেশ দেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মানুষের মনে তখন এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে, ইউপিএ মানেই দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের সিলিন্ডার কমানোর মতো জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়া সরকার। পরাজয়ের পরেও সোনিয়া-রাহুলরা তাই বার বার বলছেন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ফাঁক থেকে গেছে।
সরকার গড়ার পর এই ভুল করতে চাইছেন না মোদি। তাই তিনি তরুণ ‘আইটি টিম’কে এই কাজে লাগাতে চাইছেন। এদের অনেকেই বিদেশের কেরিয়ার ছেড়ে মোদির টিমে যোগ দিয়েছিলেন। ভোটের পর অনেকে বিদেশে ফিরেও গেছেন। কিন্তু বাকি প্রায় ১২৫ জন রয়ে গেছেন যারা এখনও এই কাজ করতে ইচ্ছুক। সম্ভবত আগামী সপ্তাহে তাদের নৈশভোজে আপ্যায়িত করতে পারেন মোদি। প্রচারের সময় তাদের অধিকাংশের সদর দফতর ছিল আহমেদাবাদ। এবার সেটাকেই দিল্লিতে সরিয়ে আনতে চান প্রধানমন্ত্রী।
এমনিতে সরকারের কাছে মূলত চারভাবে ফিডব্যাক বা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া আসে। প্রথমটা অবশ্যই সরকারিভাবে। বিভিন্ন দফতর তাদের প্রকল্পের মূল্যায়ন করে এবং সরকারি কর্মীরা নিয়মিত রিপোর্ট পাঠান। দ্বিতীয়ত, দলের মাধ্যমে। দলও সব সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীকে জানাতে থাকে, কোন সিদ্ধান্তের কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মিডিয়ার মাধ্যমে ও চতুর্থত, সাধারণ মানুষ, যারা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন তাদের মাধ্যমে। কিন্তু এসব প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক হয় না। অনেক সময়ই সরকার যেটা শুনতে চাইছে, ফিডব্যাকও সেই অনুযায়ী হয়। সে জন্যই মোদি চাইছেন, তার বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে এই খবর সংগ্রহ করতে। ফলে তার নিজের সরকার ও মন্ত্রীদের সম্পর্কে, তাদের কাজ সম্পর্কে মানুষের আসল প্রতিক্রিয়া যেমন তার নখদর্পণে থাকবে, তেমনই মানুষের কাছে যে বার্তাটা পৌঁছানো দরকার, সেটাও কার্যকরীভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে না, তার ইতিবাচক ছবিটাও বহাল থাকবে।
এই টিম যেমন সোশ্যাল মিডিয়াকে অত্যন্ত কার্যকরীভাবে ব্যবহার করে, তেমনই নতুন নতুন পদ্ধতিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়। মোদির প্রচারের সময় সেটাই হয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেনসহ অনেক দেশের নির্বাচনী প্রচারের ধরন দেখে তার ভালো দিকগুলো নিয়ে তারা নিজস্ব কৌশল ঠিক করেছিলেন। তার ফল তো হাতেনাতেই পেয়েছেন মোদি। যেভাবে সারা দেশের মানুষের একটা বড় অংশ মোদির নামে উদ্বেলিত হয়েছেন, তার থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই তরুণ, দক্ষ আইটি কর্মীরা তাকে দেশনেতা হিসেবে তুলে ধরতে কতটা সফল। সে জন্যই তাদের আপাতত ছাড়ছেন না নরেন্দ্র মোদি। এখানেও যে পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এগোচ্ছেন, তার সঙ্গে আগেকার আমলের মনমোহন তো বটেই, এমন কি তরুণ প্রজন্মের রাহুল গান্ধীদেরও শত যোজন পেছনে ফেলে দেবেন। টিএনএন।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/06/02/106545#sthash.Kej6aECY.dpuf

No comments:

Post a Comment