দিল্লীতে ওয়াং-সুষমা বৈঠক
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং তাঁর দু’দিনের ভারত সফরের শুরুতে রবিবার তাঁর সেদেশীয় প্রতিপক্ষ সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। ওয়াং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে স্বরাজের সঙ্গে কথা বলেন। এটিই নয়াদিল্লীর নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। খবর এনডিটিডি ও এনএফপির।
চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের বিশেষ দূত ওয়াং ভারতের নয়া সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে রবিবার ভোরের দিকে নয়াদিল্লী পৌঁছান। চীনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিচিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত হবে বলে আশা দেখা দেয়ার মধ্যে তিনি এ সফরে এলেন। বৈঠকে ওয়াংই ও সুষমা উভয়কে নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তাঁদের প্রতিনিধিদল সহায়তা করেন। ওয়াং সোমবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ও মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। ওয়াং উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
চীন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার উভয় দিক থেকে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু ভারতের বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার কোটি ডলারও ছাড়িয়ে গেছে অথচ ২০০১-০২ সালে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১শ’ কোটি ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদিকে চীনের বাজারে ভারতের আরও প্রবেশাধিকার চেয়ে সে ঘাটতি পূরণ বা হ্রাস করতে হবে। এতে উভয়পক্ষকে ২০১৫ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার কোটি ডলার বলে স্থির করতে হবে। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সন্দেহবোধের কারণে এখনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য নিয়ে ১৯৬২ সালের এক সংক্ষিপ্ত ও রক্তক্ষয়ী সীমান্তযুদ্ধ থেকে ঐ সন্দেহবোধের সৃষ্টি হয়। হিমালয় পর্বতমালার পূর্ব পাদদেশে অবস্থিত ঐ রাজ্যটিকে চীন তার নিজস্ব ভূখ- বলে দাবি করে থাকে। মোদি চলতি বছরের প্রথম দিকে এক নির্বাচনী সমাবেশে চীনকে এর ‘সম্প্রসারণবাদী মনোভাব’ ত্যাগ করতে সতর্ক করে দেন। চীন পাল্টা জবাবে বলে যে, দেশটি কখনও অন্য দেশের এক ইঞ্চি ভূমি দখল করতেও আগ্রাসী যুদ্ধ চালায়নি। পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত দুটি দেশ ওয়াংয়ের সফরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সীমান্ত সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেবে বলে মনে হয়। এর আগে ২০১৩-এর এপ্রিলে ভূখণ্ড নিয়ে দু’দেশের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) ভেতরে অনুপ্রবেশের দায়ে চীনা সৈন্যদের অভিযুক্ত করে। এর ফলে দু’দেশের সৈন্য তিন সপ্তাহ ধরে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়পক্ষের সৈন্যরা পেছনে সরে গেলে ঐ অবস্থার নিরসন হয়। চীন ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত কখনও আনুষ্ঠাকিভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে দুটি দেশ শান্তি বজায় রাখতে বিভিন্ন চুক্তি সই করে। ভারতভিত্তিক তিব্বতী প্রবাসী সরকার ওয়াং ই সফরকালে মোদির সরকার তিব্বতীদের পক্ষে কথা বলবে বলে আশা করছে।
নির্বাসিত তিব্বতী প্রধানমন্ত্রী লবসাং সাংগে এএফপিকে বলেন, ভারতের স্বার্থেও এটা করা উচিত, কারণ ভারত ও চীনের বাফার জোন হিসেবে তিব্বত সব প্রতিবেশী দেশের কাজে এসেছে। প্রবাসী সরকার বেজিংয়ের কাছ থেকে আরও স্বায়ত্তশাসন লাভের জন্য চলতি সপ্তাহে জোরচেষ্টা চালায়। কিন্তু গত সপ্তাহে চীন তিব্বত নিয়ে কোন আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয় এবং সাংগেকে ‘পূর্ণ মাত্রায় বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে অভিহিত করে। ভারত দালাই লামাকে আশ্রয় দেয়ার পর প্রবাসী তিব্বতীদের সবচেয়ে বড় অংশ ভারতেই বসবাস করছে। ঐ ধর্মীয় নেতা ১৯৫৯ সালে চীনা শাসকের বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর হিমালয় পর্বত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। বেজিং ১৯৫১ সাল থেকেই তিব্বত শাসন করে এসেছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের বিশেষ দূত ওয়াং ভারতের নয়া সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে রবিবার ভোরের দিকে নয়াদিল্লী পৌঁছান। চীনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিচিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত হবে বলে আশা দেখা দেয়ার মধ্যে তিনি এ সফরে এলেন। বৈঠকে ওয়াংই ও সুষমা উভয়কে নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তাঁদের প্রতিনিধিদল সহায়তা করেন। ওয়াং সোমবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ও মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। ওয়াং উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
চীন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার উভয় দিক থেকে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু ভারতের বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার কোটি ডলারও ছাড়িয়ে গেছে অথচ ২০০১-০২ সালে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১শ’ কোটি ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদিকে চীনের বাজারে ভারতের আরও প্রবেশাধিকার চেয়ে সে ঘাটতি পূরণ বা হ্রাস করতে হবে। এতে উভয়পক্ষকে ২০১৫ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার কোটি ডলার বলে স্থির করতে হবে। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সন্দেহবোধের কারণে এখনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য নিয়ে ১৯৬২ সালের এক সংক্ষিপ্ত ও রক্তক্ষয়ী সীমান্তযুদ্ধ থেকে ঐ সন্দেহবোধের সৃষ্টি হয়। হিমালয় পর্বতমালার পূর্ব পাদদেশে অবস্থিত ঐ রাজ্যটিকে চীন তার নিজস্ব ভূখ- বলে দাবি করে থাকে। মোদি চলতি বছরের প্রথম দিকে এক নির্বাচনী সমাবেশে চীনকে এর ‘সম্প্রসারণবাদী মনোভাব’ ত্যাগ করতে সতর্ক করে দেন। চীন পাল্টা জবাবে বলে যে, দেশটি কখনও অন্য দেশের এক ইঞ্চি ভূমি দখল করতেও আগ্রাসী যুদ্ধ চালায়নি। পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত দুটি দেশ ওয়াংয়ের সফরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সীমান্ত সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেবে বলে মনে হয়। এর আগে ২০১৩-এর এপ্রিলে ভূখণ্ড নিয়ে দু’দেশের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) ভেতরে অনুপ্রবেশের দায়ে চীনা সৈন্যদের অভিযুক্ত করে। এর ফলে দু’দেশের সৈন্য তিন সপ্তাহ ধরে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়পক্ষের সৈন্যরা পেছনে সরে গেলে ঐ অবস্থার নিরসন হয়। চীন ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত কখনও আনুষ্ঠাকিভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে দুটি দেশ শান্তি বজায় রাখতে বিভিন্ন চুক্তি সই করে। ভারতভিত্তিক তিব্বতী প্রবাসী সরকার ওয়াং ই সফরকালে মোদির সরকার তিব্বতীদের পক্ষে কথা বলবে বলে আশা করছে।
নির্বাসিত তিব্বতী প্রধানমন্ত্রী লবসাং সাংগে এএফপিকে বলেন, ভারতের স্বার্থেও এটা করা উচিত, কারণ ভারত ও চীনের বাফার জোন হিসেবে তিব্বত সব প্রতিবেশী দেশের কাজে এসেছে। প্রবাসী সরকার বেজিংয়ের কাছ থেকে আরও স্বায়ত্তশাসন লাভের জন্য চলতি সপ্তাহে জোরচেষ্টা চালায়। কিন্তু গত সপ্তাহে চীন তিব্বত নিয়ে কোন আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয় এবং সাংগেকে ‘পূর্ণ মাত্রায় বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে অভিহিত করে। ভারত দালাই লামাকে আশ্রয় দেয়ার পর প্রবাসী তিব্বতীদের সবচেয়ে বড় অংশ ভারতেই বসবাস করছে। ঐ ধর্মীয় নেতা ১৯৫৯ সালে চীনা শাসকের বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর হিমালয় পর্বত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। বেজিং ১৯৫১ সাল থেকেই তিব্বত শাসন করে এসেছে।
No comments:
Post a Comment