Sunday, June 8, 2014

ভারতে বাকস্বাধীনতা হরণ চেষ্টা, সুশীল সমাজের উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে বাকস্বাধীনতা হরণ চেষ্টা, সুশীল সমাজের উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা রবিবার লেখক ও শিক্ষাবিদদের বাকস্বাধীনতার ওপর সম্প্রতি নগ্ন হামলায় প্রধানমন্ত্রী দফতরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণেরও দাবি জানান তাঁরা। খবর দি ফিন্যান্সিয়্যাল এক্সপ্রেস অনলাইনের।
যৌথ এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গত কয়েকটি হামলার ঘটনা বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণœ করেছে। বিশেষ করে যে সব ব্যক্তি সম্প্রতি লোকসভার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আনন্দ, আশা ও আগ্রহ প্রকাশ করেননি তাঁদেরই বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পুনেতে নৃশংস হামলা চালিয়ে নিরপরাধ এক আইটি প্রকৌশলীকে হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে টেক্স পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ধরনের ঘটনা ভীতকর।
এগুলো আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তাই যত শীঘ্র সম্ভব এ ধরনের সহিংস ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতে যে রাজনৈতিক কোন দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, গত দু’দশক ধরে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণœ করার এক ধরনের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরূপ ঘটনার উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, গত মাসে কানাড়া লেখক ইউআর আনন্দমূর্তিকে করাচী যাওয়ার একটি টিকেট পাঠিয়ে দিয়ে তাঁকে ফোন করে ভয় দেখানো হয়। এর কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সে দেশে বসবাস করতে চাই না, যে দেশ মোদি সরকারের শাসনে।’ সুশীল সমাজের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কেবল একটি টেক্সট পাঠানোর দায়ে সৈয়দ বাকেস নামের এক যুবক ও তার চার বন্ধুকে কর্ণাটকের বাটকাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঐ টেক্সটে বিজেপি সরকারের নির্বাচনী সেøাগানকে ব্যঙ্গ করে ‘আব কি বার অন্তিমসংসার (মোদি সরকার)’ বলা হয়েছিল। বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অরুণা রায়, রোমিলা থাপার, বাবা অদ্ধব, বিবান সুন্দরম মৃণাল পাণ্ডে, জাঁ দ্রেজ, জয়তী ঘোষ, আনন্দ পঠবর্ধন, ও মল্লিকা সারাভাই। সংবাদ বিবৃতিতে এ সময় প্রায় দুই শ’ নাগরিক বাকস্বাধীনতার পক্ষে স্বাক্ষর করে।

No comments:

Post a Comment