Saturday, June 14, 2014

সুন্দরবন থেকে ৭০ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি কুমিল্লায় গ্রামীণফোন কর্মকর্তা উদ্ধার

সুন্দরবন থেকে ৭০ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
কুমিল্লায় গ্রামীণফোন কর্মকর্তা উদ্ধার
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ৭০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে শনিবার ভোরে ৩০ জেলে এবং বাগেরহাটের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী শ্যালানদী ও আড়ুয়াবয়া এলাকা থেকে ৪০ জেলেকে শুক্রবার রাতে অপহরণ করা হয়। জলদস্যুরা প্রায় অর্ধশত জেলের নৌকায় হানা দিয়ে তাদের মারপিটের পর মাছ-জালসহ কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় জলদস্যুদের হামলায় তিন জেলে আহত হয়। মুক্তিপণ না দিলে অপহৃত জেলেদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা। পরে শনিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা থেকে অপহৃত ৩০ জনের মধ্যে ২৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। তবে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে ট্রলার মালিক আমিরুলকে বন্দী করে রেখেছে জলদস্যুরা। কুমিল্লায় মুক্তিপণ দাবিতে গ্রামীণফোন কর্মকর্তাকে অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় শনিবার মামলা হয়েছে। রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থেকে অপহৃত একশিশুকে শনিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মামুন্দা নদীর কানচিখালী এলাকা থেকে শনিবার ভোর ৬টার দিকে ৩০ জেলেকে মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। অপহৃত এসব জেলের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামে। অপহৃতরা হলেন- ওয়াপদা কলোনি এলাকার হাফিজুর রহমান, শাহিনুর, আনারুল, মনিরুল, আব্দুল হামিদ, মইনুদ্দীন, আব্দুল আজিজ, নুরুজ্জামান, রুহুল আমিন, শহীদুল, ইউনুস, ইউসুফ, আনারুল, আমিরুল, আশরাফ, নজরুল, সালাম, কাদের, ফজের, মোশারফ ও আশরাফসহ ৩০ জন। পরে শনিবার সন্ধ্যায় এদের ২৯ জনকে ছেড়ে দেয় জলদস্যুরা। তবে ট্রলার মালিক আমিরুলকে আটকে রাখে এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে দস্যুরা।
রমজান নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর আলী সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন আগে অপহৃত এ সব জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য বনবিভাগ থেকে ‘পাস’ নিয়ে যায়। শনিবার সকালে তারা সুন্দরবনের মামুন্দা নদীর কানচিখালী এলাকায় মাছ ধরার সময় জলদস্যু আলিম ও জুনাব আলী বাহিনীর সদস্যরা ৩৫ জেলেকে অপহরণ করে। মুক্তিপণের টাকা নেয়ার জন্য তাদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আরও ২৯ জনকে ছেড়ে দেয় দস্যুরা।
বাগেরহাটে ৪০ জেলে অপহরণ
পূর্ব সুন্দরবনে একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার রাতে ফের ৪০ জেলেকে সশস্ত্র দস্যুরা মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করেছে। বনদস্যু আব্বাস বাহিনী শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী শ্যালানদী এবং আড়ুয়াবয়া এলাকায় তাদের অপহরণ করে। এ সময় দস্যুরা অর্ধশত মাছ ধরা নৌকায় হানা দিয়ে জেলেদের মারপিটের পর মাছ, জালসহ কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। দস্যুদের হামলায় বেল্লাল মীর, বাদশা হাওলাদার ও হালিম হাওলাদার নামে তিন জেলে আহত হন।
অপহৃতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন- বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের ওবায়দুল (২৪), কামাল (২৮), নূরু হাওলাদার (২০), সাগর (১৮), সজিব (১৭), ফারুক ৩৫), দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের শাহীন (২০) ও ধানসাগর গ্রামের কামাল ফরাজী (৪০)। এই আটজনসহ অপহৃত ৪০ জনই উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী (মহাজন) বাদল ফকির, কবির তালুকদার, পান্না মেম্বার ও জাকির খানের নৌকার জেলে বলে জানা গেছে। আহত তিন জনের বাড়িও উত্তর রাজাপুর গ্রামে।
মৎস্য ব্যবসায়ী কবির তালুকদার ও জাকির খান জানান, তাদের ৪০-৪৫টি নৌকা পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন থেকে পাস নিয়ে শ্যালানদী ও আড়ুয়াবয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে বনদস্যু আব্বাস বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা জেলেদের এলোপাতাড়ি মারধর করে ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। অস্ত্রের মুখে প্রত্যেক নৌকা থেকে একজন করে অন্তত ৪০ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে তুলে নিয়ে যায়। ধানসাগর স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) আঃ বারিক জানান, অপহরণের খবর শোনার পর ওই এলাকায় বনরক্ষীদের পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার কোকিলমনি ও শ্যালানদী এলাকা থেকে অন্তত ১৫ জেলেকে আব্বাস বাহিনীর দস্যুরা অপরহণ করে নিয়ে যায়।
অপহৃত গ্রামীণফোন কর্মকর্তা উদ্ধার
কুমিল্লায় নুরুল আফসার সেন্টু নামে গ্রামীণফোনের এক কর্মকর্তাকে অপহরণের পর ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানের মুখে ৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে অপহৃত সেন্টুকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জুর হোসেন ওরফে বাদল নামে এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে শনিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
অপহৃত গ্রামীণফোন কর্মকর্তা সেন্টু, তার ভাই মানিক, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ একটি অপহরণকারী দল শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে কুমিল্লা মহানগরীর ছোটরা মধ্যপাড়া এলাকা থেকে নুরুল আফসার সেন্টুকে (৩৫) জোর করে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার ৭শ’ টাকা, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে সেন্টুর ভাই মানিকসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রথমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত এক লাখ টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়া হয়। অন্যথায় সেন্টুকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে মোবাইল বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে। বিষয়টি সেন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহৃত সেন্টুসহ অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযানের খবরে সেন্টুকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া করে নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে মঞ্জুর হোসেন বাদল (৪০) নামে এক অপহরণকারীকে আটক এবং সেন্টুকে উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান, এ ঘটনায় অপহৃত গ্রামীণফোন কর্মকর্তা নুরুল আফসার সেন্টু বাদী হয়ে শনিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রামীণফোন কর্মকর্তা নুরুল আফসার সেন্টু ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার পশ্চিম দরবারপুর গ্রামের নুরুল আমিনের পুত্র। তিনি কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া গ্রামীণফোন রিজিওনাল অফিসের টেরিটরি অফিসার পদে কর্মরত।

গফরগাঁওয়ে শিশু উদ্ধার
গত শুক্রবার ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে অপহৃত তিন বছরের শিশুকে শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাগলা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহায়তায় পাঁচবাগ ইউনিয়নের আমাটিয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার বাড়ি থেকে অপহৃত কনা নামে ওই শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় সোহাগ নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশ।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment