চিত্রদীপ চক্রবর্তী
যাত্রী প্রত্যাখ্যান বা অন্য কোনও গুরুতর অভিযোগ নয়৷ হকের টাকা চেয়ে পুলিশের হাতে বেদম মার খেলেন ট্যাক্সিচালক৷ অভিযোগ বাগুইআটি থানার বিরুদ্ধে৷ যদিও পুলিশের দাবি, ওই চালককে মারধর করা হয়নি৷ আইসি দেবব্রত ওঝা বলেছেন, 'অভিযোগ যখন উঠেছে, তখন খোঁজখবর নিয়ে দেখছি৷' সুবিচার চেয়ে চালক চিঠি দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশন এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ ঘটনাচক্রে যে মহিলা যাত্রীকে ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত, সেই কিরণ শরাফও থানায় চালকের নামে কোনও অভিযোগ জানাননি৷
বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কিরণদেবীকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘোরাফেরা করার পর মিটারে যে টাকা উঠেছিল, সেটাই চাইতে থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন চালক ইন্দ্রজিত্ মুখোপাধ্যায়৷ কিন্ত্ত কী এমন ঘটেছিল যে, ইন্দ্রজিত্বাবুকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে যেতে হয়?
গত ৩১ মে দুপুরে ভিআইপি রোডের হলদিরামের কাছে ট্যাক্সি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জের বাসিন্দা ইন্দ্রজিত্বাবু৷ সাড়ে তিনটে নাগাদ কিরণ শরাফ গাড়িতে ওঠেন৷ তাঁর নির্দেশে প্রথমে বারাসতের একটি শপিং মল ও পরে বাঙুর যান তিনি৷ বাঙুর বাস স্ট্যান্ডের সামনে একটি কফি শপে ঢোকেন কিরণদেবী৷ প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর গাড়িতে চেপে ফের হলদিরামের সামনে নেমে পার্কিং লটে দাঁড়াতে বলেন ইন্দ্রজিত্বাবুকে৷ তিনি তখন কিরণদেবীর মোবাইল নম্বরটি চেয়ে রাখেন৷ ইন্দ্রজিত্বাবুকে কিরণ শরাফ বলেছিলেন, তিনি ফিরে বালিগঞ্জ যাবেন৷ কিন্ত্ত আর আসেননি৷
এদিকে রাত আটটা পর্যন্তই মিটার উঠে গিয়েছে প্রায় দু'হাজার টাকা৷ ১০টার পর থেকে কিরণ শরাফের মোবাইলও বন্ধ হয়ে যায়৷ অপেক্ষা করে রাত ১২টার পর ইন্দ্রজিত্বাবু বাড়ি চলে যান৷ পর দিন থেকে একাধিকবার চেষ্টা করে অবশেষে কিরণদেবীকে ফোনে ধরতে পারেন তিনি৷ কিন্ত্ত তার পর দু'দিন ক্রমাগত শহরের বিভিন্ন জায়গায় আসতে বলে ইন্দ্রজিত্বাবুকে ঘোরাতে থাকেন কিরণ শরাফ৷ বালিগঞ্জ, সায়েন্স সিটি-সহ নানা জায়গায় ঘুরে শেষমেশ বাগুইআটি থানায় পুরো বিষয়টি জানান ইন্দ্রজিত্বাবু৷ জমা দেন লিখিত অভিযোগ৷
এর পর কিরণ শরাফকে ফোন করা হলে, তিনি ইন্দ্রজিত্বাবুর পাওনার কথা স্বীকার করে নেন৷ চলে আসেন থানাতেও৷ পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পর দু'পক্ষকেই মুচলেকা দিতে বলে পুলিশ৷ কিন্ত্ত অভিযোগ, কিরণদেবীর থেকে দু'হাজার টাকা নিয়ে ইন্দ্রজিত্বাবুর হাতে মাত্র কয়েকশো টাকা গুঁজে দিয়ে তাঁকে সই করতে বলা হয়৷ ইন্দ্রজিত্বাবুর দাবি, তিনি রাজি না-হলে থানার মধ্যেই তাঁকে চার জন পুলিশকর্মী মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন৷ এমনকি কিরণদেবীর পা ধরে ক্ষমা পর্যন্ত চাওয়ানো হয়৷
এ রকম বেশ কিছুক্ষণ চলার পর কিরণদেবী থানা থেকে চলে যান৷ গুরুতর আহত ইন্দ্রজিত্বাবুকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাট-গোপালপুর মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালে৷ সেখানে তাঁর চিকিত্সা হয়৷ বুধবার নিজের মেডিক্যাল রিপোর্ট-সহ প্রথমে বিধাননগর কমিশনারেট ও পরে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানান তিনি৷ ইন্দ্রজিত্বাবুর বক্তব্য, 'ন্যায্য টাকা পাওয়ার জন্য থানার দ্বারস্থ হয়েছিলাম৷ ওই মহিলা যাত্রী তো কোনও অভিযোগ জানাননি৷ তাই আমাকে কেন মারা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছিলাম না৷ পরে বুঝলাম, ওঁদের ধারণা আমি ওঁদের ঠকাচ্ছি৷ কম টাকা হলে হয়তো এতটা চেষ্টা করতাম না৷ কিন্ত্ত মালিককে তো টাকা দিতে হত, তাই থানায় চলে গেলাম৷' বুধবার কিরণদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি পুলিশের হাতে টাকা দিয়ে চলে আসি৷ কোনও অভিযোগ জানাইনি৷'
যাত্রী প্রত্যাখ্যান বা অন্য কোনও গুরুতর অভিযোগ নয়৷ হকের টাকা চেয়ে পুলিশের হাতে বেদম মার খেলেন ট্যাক্সিচালক৷ অভিযোগ বাগুইআটি থানার বিরুদ্ধে৷ যদিও পুলিশের দাবি, ওই চালককে মারধর করা হয়নি৷ আইসি দেবব্রত ওঝা বলেছেন, 'অভিযোগ যখন উঠেছে, তখন খোঁজখবর নিয়ে দেখছি৷' সুবিচার চেয়ে চালক চিঠি দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশন এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ ঘটনাচক্রে যে মহিলা যাত্রীকে ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত, সেই কিরণ শরাফও থানায় চালকের নামে কোনও অভিযোগ জানাননি৷
বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কিরণদেবীকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘোরাফেরা করার পর মিটারে যে টাকা উঠেছিল, সেটাই চাইতে থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন চালক ইন্দ্রজিত্ মুখোপাধ্যায়৷ কিন্ত্ত কী এমন ঘটেছিল যে, ইন্দ্রজিত্বাবুকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে যেতে হয়?
গত ৩১ মে দুপুরে ভিআইপি রোডের হলদিরামের কাছে ট্যাক্সি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জের বাসিন্দা ইন্দ্রজিত্বাবু৷ সাড়ে তিনটে নাগাদ কিরণ শরাফ গাড়িতে ওঠেন৷ তাঁর নির্দেশে প্রথমে বারাসতের একটি শপিং মল ও পরে বাঙুর যান তিনি৷ বাঙুর বাস স্ট্যান্ডের সামনে একটি কফি শপে ঢোকেন কিরণদেবী৷ প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর গাড়িতে চেপে ফের হলদিরামের সামনে নেমে পার্কিং লটে দাঁড়াতে বলেন ইন্দ্রজিত্বাবুকে৷ তিনি তখন কিরণদেবীর মোবাইল নম্বরটি চেয়ে রাখেন৷ ইন্দ্রজিত্বাবুকে কিরণ শরাফ বলেছিলেন, তিনি ফিরে বালিগঞ্জ যাবেন৷ কিন্ত্ত আর আসেননি৷
এদিকে রাত আটটা পর্যন্তই মিটার উঠে গিয়েছে প্রায় দু'হাজার টাকা৷ ১০টার পর থেকে কিরণ শরাফের মোবাইলও বন্ধ হয়ে যায়৷ অপেক্ষা করে রাত ১২টার পর ইন্দ্রজিত্বাবু বাড়ি চলে যান৷ পর দিন থেকে একাধিকবার চেষ্টা করে অবশেষে কিরণদেবীকে ফোনে ধরতে পারেন তিনি৷ কিন্ত্ত তার পর দু'দিন ক্রমাগত শহরের বিভিন্ন জায়গায় আসতে বলে ইন্দ্রজিত্বাবুকে ঘোরাতে থাকেন কিরণ শরাফ৷ বালিগঞ্জ, সায়েন্স সিটি-সহ নানা জায়গায় ঘুরে শেষমেশ বাগুইআটি থানায় পুরো বিষয়টি জানান ইন্দ্রজিত্বাবু৷ জমা দেন লিখিত অভিযোগ৷
এর পর কিরণ শরাফকে ফোন করা হলে, তিনি ইন্দ্রজিত্বাবুর পাওনার কথা স্বীকার করে নেন৷ চলে আসেন থানাতেও৷ পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পর দু'পক্ষকেই মুচলেকা দিতে বলে পুলিশ৷ কিন্ত্ত অভিযোগ, কিরণদেবীর থেকে দু'হাজার টাকা নিয়ে ইন্দ্রজিত্বাবুর হাতে মাত্র কয়েকশো টাকা গুঁজে দিয়ে তাঁকে সই করতে বলা হয়৷ ইন্দ্রজিত্বাবুর দাবি, তিনি রাজি না-হলে থানার মধ্যেই তাঁকে চার জন পুলিশকর্মী মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন৷ এমনকি কিরণদেবীর পা ধরে ক্ষমা পর্যন্ত চাওয়ানো হয়৷
এ রকম বেশ কিছুক্ষণ চলার পর কিরণদেবী থানা থেকে চলে যান৷ গুরুতর আহত ইন্দ্রজিত্বাবুকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাট-গোপালপুর মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালে৷ সেখানে তাঁর চিকিত্সা হয়৷ বুধবার নিজের মেডিক্যাল রিপোর্ট-সহ প্রথমে বিধাননগর কমিশনারেট ও পরে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানান তিনি৷ ইন্দ্রজিত্বাবুর বক্তব্য, 'ন্যায্য টাকা পাওয়ার জন্য থানার দ্বারস্থ হয়েছিলাম৷ ওই মহিলা যাত্রী তো কোনও অভিযোগ জানাননি৷ তাই আমাকে কেন মারা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছিলাম না৷ পরে বুঝলাম, ওঁদের ধারণা আমি ওঁদের ঠকাচ্ছি৷ কম টাকা হলে হয়তো এতটা চেষ্টা করতাম না৷ কিন্ত্ত মালিককে তো টাকা দিতে হত, তাই থানায় চলে গেলাম৷' বুধবার কিরণদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি পুলিশের হাতে টাকা দিয়ে চলে আসি৷ কোনও অভিযোগ জানাইনি৷'
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/taxi-driver-has-been-beaten-by-police-for-bribe/articleshow/36114267.cms
No comments:
Post a Comment