Friday, June 6, 2014

ভিআইপিদের খাবার পরীক্ষায় মানুষ ‘গিনিপিগ’, বিতর্ক

ভিআইপিদের খাবার পরীক্ষায় মানুষ ‘গিনিপিগ’, বিতর্ক

foodie
ঝিলম করঞ্জাই

মানস চট্টোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের একজন সাধারণ অফিসার৷ তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের ১২ জন ফুড সেফটি অফিসারের একজন৷ বৃহস্পতিবার থেকে দু-দিনের জন্য সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনের পরিবর্তে তাঁকে ছুটতে হচ্ছে রাজভবনে৷ কারণ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পাতে যে কোনও খাবার দেওয়ার আগেই তা চেখে দেখতে হচ্ছে মানসবাবুকে৷ দু'দিনের সফরে বৃহস্পতিবারই কলকাতায় এসেছেন রাষ্ট্রপতি৷ আর এই সুবাদে পুরনো একটি বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্দরে৷ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতকাল মানুষকে গিনিপিগের ভূমিকা পালন করতে হবে? বিষাক্ত কিছু মেশানো আছে কি না রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি-দের পাতে যে কোনও খাবার খেয়ে তা পরীক্ষা করতে হয়ে ফুড সেফটি অফিসারকে৷ অর্থাত্‍ ক্ষতিকর কিছু থাকলে তার শিকার হবেন সেই অফিসার৷ স্বভাবতই এ নিয়ে তীব্র আপত্তিও দীর্ঘদিনের৷ যদিও বহু দেশেই এখন এ জন্য অন স্পট টেস্টিং কিট ব্যবহার করা হয়৷

'অমানবিক' এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর আগেই সরব হয়েছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনার তত্‍কালীন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিরুদ্ধ কর৷ তিনি পরবর্তীকালে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা হন৷ আইন অনুযায়ী খাবার পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হয় জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে৷ অনিরুদ্ধবাবু এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করেন৷ এ দিন তিনি বলেন, 'এখনও সেই মধ্যযুগীয় অমানবিক প্রথা চালু আছে৷ আধুনিক যুগে কী করে এই প্রথা এখনও চালু থাকতে পারে সেটাই আমার প্রশ্ন৷' আর তাই নিয়েই সরব হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস৷ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিত্‍ চক্রবর্তী দাবি করেন, 'এই মধ্যযুগীয় প্রথা অমানবিক৷ মানুষকে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করাটা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত৷'

স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র সুমন বিশ্বাসও দাবি করেন, 'এই ভাবে ফুড সেফটি আধিকারিককে খাবার পরীক্ষা করতে হলে তা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক৷ ফুড টেস্টিং ল্যাব আছে এবং খাবার নিয়ে গিয়ে তা দ্রুত পরীক্ষার করার পরিকাঠামো আছে৷ কিন্ত্ত দীর্ঘদিন এই ব্যবস্থা কেন চালু আছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব৷'

কী এই ফুড টেস্টিং বিধি?

ব্রিটিশ আমলে অতি গুরুত্বপূর্ণ কোন সরকারি অতিথিদের খাবার চেখে দেখা হত তাতে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না৷ দেশ স্বাধীন হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের আইন সেই রীতিই অনুসরণ করা হচ্ছে৷ আইন মোতাবেক ভিআইপিদের খাবার পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বাস্থ্য দপ্তরের৷ কিন্ত্ত আইনে উল্লেখ নেই কী ভাবে খাবার পরীক্ষা হবে৷ যে জেলাতে ভিআইপিরা সফরে যান, সেই জেলাশাসক সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে খাবার পরীক্ষা করতে নির্দেশে দেন৷ পরবর্তী সময়ে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া গঠন হলেও, ভিআইপিদের খাবার পরীক্ষার এই প্রাচীন প্রথা বন্ধ হয়নি৷ স্বাস্থ্য দপ্তরে ফুড সেফটি বিভাগ গঠিত হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী সেই বিভাগের একজন ফুড সেফটি অফিসারের উপর বর্তায় ভিআইপিদের খাবার যাচাই করার কাজ৷ অত্যাধুনিক যন্ত্রের অভাবে সেই আধিকারিকরা 'খাবার খেয়ে খাবার পরীক্ষা' পদ্ধতিই অবলম্বন করে আসছেন৷ যা নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/food-safety-officers-taste-food-for-VIPs/articleshow/36114175.cms

No comments:

Post a Comment