Sunday, June 8, 2014

আড়িপাতা বন্ধে ব্যবস্থা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএর গোপন নজরদারি কর্মসূচীর জের

আড়িপাতা বন্ধে ব্যবস্থা
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএর গোপন নজরদারি কর্মসূচীর জের
বৃহৎ ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) প্রায় সবগুলো টেক জায়ান্টে আড়ি পেতে থাকে, সংস্থার সাবেক স্টাফ এডওয়ার্ড স্নোডেন এ বিষয়ে তথ্য ফাঁসের এক বছর পর কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চলেছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।
ইন্টারনেট সার্চ জায়ান্ট গুগল বলেছে, তারা এমন একটি এনক্রিপশন (সংকেতায়িতকরণ) ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে যার ফলে এনএসএ খুব সহজে তাদের তাদের তথ্যভান্ডারে হানা দিতে পারছে না। গুগলের সার্ভারে থাকা জিমেইল,ফেসবুক, মাইক্রোসফট এবং ইয়াহু ব্যবহারকারীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবে। সরকারের সঙ্গে বছরের পর বছর সহযোগিতা করে আসার পর এখন গুগল সরকারকে আড়িপাতা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেজিং ও মস্কোর মতো ওয়াশিংটনকেও এখন একই পর্যায়ে বিবেচনা করছে গুগল। ইন্টারনেট সার্চ জায়ান্টটির সর্বশেষ এই কৌশলের লক্ষ্য হলো ব্রাজিল ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখা। এডওয়ার্ড স্নোডেনের গোপন তথ্য ফাঁসের পর এ দেশগুলো গুগলকে বাদ দিয়ে স্থানীয় ডাটা সার্ভারগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই উদ্দেশে গুগল এখন সমুদ্রের তলদেশে নিজস্ব ফাইবার বসানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীদের অধিকতর সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে। স্নোডেনের গোপন নজরদারির তথ্য ফাঁসের একবছর পর এসে সরকারের সঙ্গে ইন্টারনেট ও টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা অনেকটাই শিথিল হয়ে গেছে। এটিএন্ডটি ও ভেরিজনের মতো টেলিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তারা গ্রাহকদের স্বেচ্ছামূলক তথ্য দিয়ে আর সহযোগিতা করবে না। কারণ বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নাই। তবে সরকারগুলো গ্রাহকদের গোপন তথ্য পেতে পিছিয়ে নেই। ব্রিটেনের বৃহৎ টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানি ভোডাফোন শুক্রবার বলেছে, বিশ্বের খুব অল্প কিছু সরকার এখন গ্রাহকদের ফোনে আড়িপাতার জন্য নিজস্ব উপায় পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে। তাদের এই কর্মকা- ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত অধিকারকর্মীরা ইতোমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কোন কোন দেশের সরকার এটা করছে তা অবশ্য ভোডাফোন প্রকাশ করেনি। আবার অনেক দেশের সরকার আড়িপাতার স্থায়ী ব্যবস্থা করে রেখেছে যে কারণে তাদের টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানিগুলোর কাছে অনুরোধ জানানোর প্রয়োজন হয়নি। অনেকক্ষেত্রে আইনগত হুমকি দিয়ে সরকারগুলো একাজ করছে। গুগলের নিরাপত্তা প্রধান এরিক গ্রসি বলছেন, এনএসএ’র নিজস্ব আচরণই তাদের নতুন প্রকল্প নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। তিনি আরও বলেন যে, তারা সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তার কথায়, ‘এখন আমার কাজ হচ্ছে তাদের (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা) কাজ কঠিন করে দেয়া। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, টেক কোম্পানিগুলোর অবলম্বিত নতুন কৌশলের জন্য তাদের পক্ষে গোপনে আড়ি পাতাকঠিন হয়ে পড়েছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট এস লিট বুধবার ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারে বলেছেন, ‘টেক প্রতিষ্ঠানগুলো আইনগত ও স্বেচ্ছামূলক সহযোগিতা থেকে সরে আসছে এটা দেশের জন্য এক বড় ক্ষতি।’
রবার্ট লিট ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকাণ্ড দেখাশোনা করে থাকেন। তিনি বলছেন, এক্ষেত্রে যেমন প্রযুক্তিগত ঘাটতি আছে তেমনি আছে আইনের অপর্যাপ্ততা। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে। যে কারণে আগে তথ্য সংগ্রহ করতে বড় কোন সমস্যার সম্মুখীন না হলেও এখন প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়তে হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment