উপেক্ষিত আদালতের নির্দেশ, কালীঘাটে অব্যাহত পান্ডারাজ
এই সময়: আদালতের নির্দেশের পর বছর ঘুরে গেলেও কালীঘাট মন্দিরে পান্ডাদের রমরমা এতটুকু কমেনি৷ অথচ, মন্দিরের গর্ভগৃহে পান্ডাদের ঢোকার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ জারি করেছিল আদালত৷ তার পরেও রাস্তা থেকে মন্দিরের ভিতর পর্যন্ত দিব্যি চলছে তাদের দাপাদাপি৷ দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে যে যেমন পারছে হাতিয়ে নিচ্ছে৷ রোজই নতুন নতুন পান্ডার আবির্ভাবে বিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দারাও৷ এদের পিছনে রাজনৈতিক মদতেরও অভিযোগ উঠছে৷
কালীঘাট মন্দিরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দায়ের মামলায় গত বছর মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট এক গুচ্ছ নির্দেশ দেয়৷ তাতে পান্ডাদের বেপরোয়া ভাব নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেয় আদালত৷ বড় রাস্তা থেকে মন্দির পর্যন্ত দলে দলে পান্ডা পুণ্যার্থীদের বগলদাবা করে পুজো দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে৷ গত শুক্রবারই যেমন ধানবাদ থেকে সপরিবার মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন মোহন শর্মা৷ তিনি বলেন, 'দরদাম করে পুজো দিয়ে আসার জন্য চার জনের জন্য দু'শো টাকায় রফা হয় এক পান্ডার সঙ্গে৷ অথচ, বেরিয়েই দাবি করল চারশো টাকা৷' শনিবার মেদিনীপুরের সনাতন বেরা আবার পয়সা দিয়ে পান্ডা নিয়ে পুজো দিতে না চাওয়ায় রীতিমতো শাসানির মুখে পড়েন৷ তাঁর অভিজ্ঞতা, 'বেশি টাকা দাবি করায় যেহেতু পান্ডা ধরিনি, তাই ভিতরে ঢুকলেও সেখানে লোকজন এবং মন্দিরের অন্য কর্মী ও পান্ডাদের (ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ভিতরে যাঁরা ছিলেন তাঁরা পান্ডা কিনা তা বুঝতে পারেননি সনাতনবাবু) ধাক্কাধাক্কিতে এক রকম বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই৷' অন্য পান্ডারা ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ সনাতনবাবুর৷
পান্ডাদের আচরণ নিয়ে বহু অভিযোগই উঠেছে বিভিন্ন সময়ে৷ কিন্ত্ত এদের ঠেকানো যায়নি৷ অভিযোগ ওঠার কথা মানলেও প্রকাশ্যে পান্ডাদের বিষয়ে মন্তব্য করছে না মন্দির কমিটিও৷ কারণ, রাজনৈতিক মদত৷ কমিটির এক সদস্য বলেন, 'এক হাজার থেকে বারোশো সংগঠিত পান্ডা ও তাদের পরিবারের ভোটব্যাঙ্ক যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই সম্পদ৷ অন্য দিকে কোনও মতেই হেনস্থার শিকার পুণ্যার্থীদের এক হয়ে রুখে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই৷' রাজনীতিকদের মদত থাকাতেই আইন করে, নির্দেশ দিয়েও পান্ডাদের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই৷ মন্দির কমিটির অন্যতম এক কর্তার মন্তব্য, 'বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকি৷ পান্ডাদের ব্যাপারে কিছু বলে সমস্যা বাড়াতে চাই না৷'
যদিও পান্ডাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, অতীতে যা ঘটেছে ঘটেছে, ইদানীং তারা এমন কিছু করেননি, যাতে অভিযোগ করা যায়৷ তাঁরা মন্দিরের ভিতরে ঢোকেন না বলেও দাবি বর্ষীয়ান এক পান্ডার৷ তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পেশা যে বন্ধ হবে না, তা-ও জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি৷ দুর্ব্যবহারের বিষয়টিকে 'ব্যতিক্রম' হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি৷ রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে কালীঘাট মন্দির এলাকায় সক্রিয় রাজ্যের শাসকদলের এক নেতার সাফাই, 'আর পাঁচ জন নাগরিকের মতোই পান্ডাদের অনেকে এখানে থাকেন৷ তাদের সমস্যা হলে পাশে থাকাটা তাই স্বাভাবিক৷' স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মঞ্জুশ্রী মজুমদার অবশ্য মানছেন, 'রোজ পান্ডার সংখ্যা বাড়ছে৷ কে কোথা থেকে এসে পান্ডা হয়ে যাচ্ছেন, বুঝে উঠতে পারছি না৷' রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন কাউন্সিলর৷
কিন্ত্ত বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? কালীঘাট থানাও যে স্পিকটি নট!
কালীঘাট মন্দিরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দায়ের মামলায় গত বছর মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট এক গুচ্ছ নির্দেশ দেয়৷ তাতে পান্ডাদের বেপরোয়া ভাব নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেয় আদালত৷ বড় রাস্তা থেকে মন্দির পর্যন্ত দলে দলে পান্ডা পুণ্যার্থীদের বগলদাবা করে পুজো দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে৷ গত শুক্রবারই যেমন ধানবাদ থেকে সপরিবার মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন মোহন শর্মা৷ তিনি বলেন, 'দরদাম করে পুজো দিয়ে আসার জন্য চার জনের জন্য দু'শো টাকায় রফা হয় এক পান্ডার সঙ্গে৷ অথচ, বেরিয়েই দাবি করল চারশো টাকা৷' শনিবার মেদিনীপুরের সনাতন বেরা আবার পয়সা দিয়ে পান্ডা নিয়ে পুজো দিতে না চাওয়ায় রীতিমতো শাসানির মুখে পড়েন৷ তাঁর অভিজ্ঞতা, 'বেশি টাকা দাবি করায় যেহেতু পান্ডা ধরিনি, তাই ভিতরে ঢুকলেও সেখানে লোকজন এবং মন্দিরের অন্য কর্মী ও পান্ডাদের (ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ভিতরে যাঁরা ছিলেন তাঁরা পান্ডা কিনা তা বুঝতে পারেননি সনাতনবাবু) ধাক্কাধাক্কিতে এক রকম বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই৷' অন্য পান্ডারা ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ সনাতনবাবুর৷
পান্ডাদের আচরণ নিয়ে বহু অভিযোগই উঠেছে বিভিন্ন সময়ে৷ কিন্ত্ত এদের ঠেকানো যায়নি৷ অভিযোগ ওঠার কথা মানলেও প্রকাশ্যে পান্ডাদের বিষয়ে মন্তব্য করছে না মন্দির কমিটিও৷ কারণ, রাজনৈতিক মদত৷ কমিটির এক সদস্য বলেন, 'এক হাজার থেকে বারোশো সংগঠিত পান্ডা ও তাদের পরিবারের ভোটব্যাঙ্ক যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই সম্পদ৷ অন্য দিকে কোনও মতেই হেনস্থার শিকার পুণ্যার্থীদের এক হয়ে রুখে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই৷' রাজনীতিকদের মদত থাকাতেই আইন করে, নির্দেশ দিয়েও পান্ডাদের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই৷ মন্দির কমিটির অন্যতম এক কর্তার মন্তব্য, 'বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকি৷ পান্ডাদের ব্যাপারে কিছু বলে সমস্যা বাড়াতে চাই না৷'
যদিও পান্ডাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, অতীতে যা ঘটেছে ঘটেছে, ইদানীং তারা এমন কিছু করেননি, যাতে অভিযোগ করা যায়৷ তাঁরা মন্দিরের ভিতরে ঢোকেন না বলেও দাবি বর্ষীয়ান এক পান্ডার৷ তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পেশা যে বন্ধ হবে না, তা-ও জানিয়ে দিচ্ছেন তিনি৷ দুর্ব্যবহারের বিষয়টিকে 'ব্যতিক্রম' হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি৷ রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে কালীঘাট মন্দির এলাকায় সক্রিয় রাজ্যের শাসকদলের এক নেতার সাফাই, 'আর পাঁচ জন নাগরিকের মতোই পান্ডাদের অনেকে এখানে থাকেন৷ তাদের সমস্যা হলে পাশে থাকাটা তাই স্বাভাবিক৷' স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মঞ্জুশ্রী মজুমদার অবশ্য মানছেন, 'রোজ পান্ডার সংখ্যা বাড়ছে৷ কে কোথা থেকে এসে পান্ডা হয়ে যাচ্ছেন, বুঝে উঠতে পারছি না৷' রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন কাউন্সিলর৷
কিন্ত্ত বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? কালীঘাট থানাও যে স্পিকটি নট!
No comments:
Post a Comment