Saturday, June 14, 2014

কলকাতায় মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন স্মৃতি ইরানি রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মোদির উদ্যোগ

কলকাতায় মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন স্মৃতি ইরানি
রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মোদির উদ্যোগ
রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দূত হিসেবে মানবসম্পদমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৪ জুলাই কলকাতায় এসে মমতার সঙ্গে বৈঠক করবেন স্মৃতি। এ নিয়ে মমতার সঙ্গে স্মৃতির ফোনালাপ হয়েছে বলেও জানা গেছে। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
ক্ষমতায় আসার পর সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন মোদি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ভার তিনি দিয়েছেন রবিশঙ্কর প্রসাদের হাতে। ভেঙ্কাইয়া নাইডুকে দেয়া হয়েছে অন্ধ্র্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব। মমতার ক্ষেত্রে স্মৃতিকে বেছে নেয়ার একটা কারণ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক। স্মৃতির মা বাঙালী। স্মৃতি নিজেও ঝরঝরে বাংলা বলেন। রাজনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন, এখনও পর্যন্ত যেসব বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে রাজনীতি আর প্রশাসন এ দুটিকে মোদি আলাদা রাখতে চান। বস্তুত, লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে এক সাক্ষাতকারে মোদি বলেছিলেন, রাজনীতি আর প্রশাসনকে এক করে ফেলতে চান না তিনি। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকবে। সেখানে বিজেপি নিজের মতো করে চলবে। কিন্তু প্রশাসক হিসেবে তিনি হবেন নিরপেক্ষ।
বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টাকে সেই নিরপেক্ষ প্রশাসকের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মোদি যদি তাঁর এ অবস্থান বজায় রাখেন, তাহলে রাজ্যেরই লাভ হবে বলেই অনেকে মনে করেন। অতীতে অনেক সময় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনীতি অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দিয়েছিল। এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন বামপন্থীরা দীর্ঘদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলেছে। যে অভিযোগের সবটাই নিছক রাজনীতি বলে উড়িয়ে দেয়ার নয়। জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সল্টলেকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স তৈরির জন্য ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন করেছিলেন কেন্দ্রের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের কাছে। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী অনুমতি দেননি। খাতায় কলমে তাঁর যুক্তি ছিল, সল্টলেকের কাছেই বাংলাদেশ সীমান্ত। অতএব নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা হবে। কিন্তু প্রকল্প আটকে দেয়ার আসল কারণ যে বামপন্থীদের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতবিরোধ, তা মোটেই চাপা ছিল না। গত ইউপিএ সরকারের আমলে বিহারেও পড়েছিল কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার চেয়েছিলেন মোতিহারিতে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী কপিল সিব্বলের পছন্দের জায়গা ছিল গয়া অথবা পটনা। দীর্ঘ বিবাদের পরে শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়, গয়া ও মোতিহারি, দুই জায়গাতেই বিশ্ববিদ্যালয় হবে।
মোদির ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতির এ অনুপ্রবেশ প্রধানমন্ত্রী চান না। গোটা দেশকে নিয়ে এগিয়ে চলার কথা তিনি ইতোমধ্যেই বলেছেন। বলেছেন, পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে উন্নয়ন হবে আর পূর্বের রাজ্যগুলি পিছিয়ে থাকবে, তাতে সামগ্রিকভাবে দেশের বিকাশ হতে পারে না। কিন্তু সহযোগিতার প্রশ্নে নিরপেক্ষ হলেও রাজ্যের সব দাবিদাওয়া মেটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে মোদি প্রশাসনের একাংশের মনেই সংশয় রয়েছে। মমতা প্রশাসনের মূল দাবি, বাম আমলে রাজ্যের ঘাড়ে যে বিপুল ঋণের বোঝা চেপেছে তা কিছুটা লাঘব করা হোক।

No comments:

Post a Comment