Friday, June 6, 2014

সোনিয়া গান্ধীকে নিয়েই কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াবে

সোনিয়া গান্ধীকে নিয়েই কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াবে
মুহম্মদ শফিকুর রহমান
ভারতের সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট (লোকসভা) নির্বাচন বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিক কলাম লিখেছি। জানাশোনা অনুযায়ী বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। অবশ্যই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। আজকাল একটা সুবিধা আছে। তথ্যের জন্য আর সব সময় মোটা মোটা গ্রন্থের পাতা ওল্টাতে হয় না; ইন্টারনেট সার্স করলে প্রায় সব তথ্যই পাওয়া যায়। ভারতের ওপর আমার লেখাগুলো বিষয়ে এক সুহৃদ প্রশ্ন তুলেছেন-ভারতের ওপর এত লিখছেন ক্যানো? বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে এর গুরুত্ব কতখানি? আমি তাকে বোঝাবার চেষ্টা করলাম এই বলে যে, গুরুত্ব আছে। ভারত আমাদের বড় প্রতিবেশী, বাংলাদেশের তিনদিকে ভারতীয় বর্ডার, উত্তর-পশ্চিম-পুবে। দক্ষিণে সমুদ্র এবং সমুদ্রের পরে মিয়ানমার। কাজেই বলা যায় আমরা ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা পরিবেষ্টিত। আমাদের চারদিকের রাজনীতি, সমরনীতি, সামাজিক অবস্থার ওপর নজর রাখতেই হবে। ভারতে যখন সেক্যুলার কংগ্রেস রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তখন এখানকার সেক্যুলার রাজনৈতিক দল নিজেদের নিরাপদ মনে করে। আবার কংগ্রেস বিরোধী হিন্দুত্ববাদীরা ক্ষমতায় এলে তথাকথিত ইসলামিস্ট ও পাকিস্তানপন্থীরা হালে পানি পায়। বিগত নির্বাচন ও নির্বাচনোত্তর বিজেপির মহাবিজয়ে বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে সে রকম উৎসাহ দেখা গেছে। কেবল রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, ঐ সব দলের সমর্থক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের ধান্ধাবাজদের মধ্যে এমন একটা ভাব লক্ষ্য করা গেছে, এবার দেশের সেক্যুলার ফোর্স তথা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী শক্তিকে একহাত নেয়া যাবে। কিন্তু ওই বেকুবরা বোঝে না, এটি বাস্তব অবস্থা নয়। বাস্তব অবস্থা হলো ভারত চলবে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের নীতিতে। ’৯০-এর দশকের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বা পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেন তখন ভারতে কংগ্রেসী সরকার ছিল না এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দেবগৌড়া ও আইকে গুজরাল। তারা কেউ গান্ধী পরিবারের সদস্য নন। এখানে কে ক্ষমতায় এলো, কে গেলো তা কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। বিবেচ্য বিষয় হলো ভারতের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত সমস্যা আছে, তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হয়েও হতে পারল না, রয়েছে মোটা দাগের বাণিজ্য ঘাটতি, এগুলোর সমাধান হতে হবে। যেমন রোহিঙ্গা সমস্যা রয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (কংগ্রেস) মনমোহন সিং ঢাকায় এসেছিলেনও। কথা ছিল ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীগণ আসবেন। কেউ কেউ এসেছিলেনও। কিন্তু যার আসা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল সেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দোপাধ্যায় এলেন না; পরন্তু তিনি বাগড়া ধরলেন তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি বা সীমান্ত চুক্তি কোনটাই করা যাবে না। হলোও না চুক্তিগুলো। এখন চরম হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদী সন্ন্যাসধর্মবাদী শ্রী নরেন্দ্রনাথ দামোদর দাস মোদি বিশাল জয় নিয়ে ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন। মোদির দল বিজেপি ৫৫৪ আসনের লোকসভায় একাই পেয়েছে ২৮২ আসন এবং জোটগতভাবে (NDA) ৩৩২ আসন। প্রতিপক্ষ কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৪৪টি আসন, যা আঞ্চলিক দল তামিলনাডুর শ্রীমতি জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন AIDMK-এর ৩৮ এবং পশ্চিমবঙ্গের শ্রীমতি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস-এর ৩২ আসনের সঙ্গেই কেবল তুলনীয়। এমনকি পার্লামেন্টেও সাংবিধানিক বিরোধী দল হতে হলেও যে ৫৪ আসন দরকার তাও কংগ্রেস পায়নি। অবশ্য এ অবস্থায়ও কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টি (CPP) কংগ্রেস ও UPA জোট সোনিয়া গান্ধীকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। যাকে এতদিন অর্থাৎ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করা হলো তাকে সংসদীয় দলের প্রধান করা হলো না। হয়ত কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াতে চায় শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীকে নিয়েই। কেননা, সোনিয়া গান্ধী এখনও ভারতের সবচে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যদিও ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত হওয়ায় সব সময় দলীয় প্রধান বা জোট প্রধান হয়েই রইলেন। তাছাড়া রাহুল গান্ধীকে সামনে না দেয়ার পেছনে সম্ভবত যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় কিছু কিছু মিডিয়া Mr. Liability বা কংগ্রেসের বোঝা বলে চিহ্নিত করায় কংগ্রেসও কৌশল নিয়েছে। ভারতের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক ইন্ডিয়ান টু ডে পত্রিকায় এ বিষয়ে আরও লিখেছে- To reinvent itself, congress needs to decide if ti exists for the Gandhis or for the India অর্থাৎ বর্তমান প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নিজেকে পুনরায় আবিষ্কার করতে হলে দলটির যে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন তা হলো- কংগ্রেস গান্ধী পরিবারের জন্য বাঁচবে (রাজনীতি করবে), না ভারতের জন্য?
এটি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বহুকাল ধরে তথাকথিত ‘পরিবারতন্ত্র’ বলে কিছু অরাজনৈতিক রাজনীতিক-বাটপাড় মুখের ফেনা তুলছেন, এটি তারই বহির্প্রকাশ। এরা মূলত গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল বা গণমানুষের নেতৃত্ব বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্রীড়নক। এরাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে মিলে ভারতের মহাত্মা গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীর হত্যার সঙ্গে জড়িত, এরাই বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, এরাই পাকিস্তানে বেনজীর ভুট্টো হত্যার সঙ্গে জড়িত। এদের টার্গেট হচ্ছে কোন সাহসী আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক জননেতা যেন দেশে দাঁড়াতে না পারে। কেননা, এ ধরনের নেতারাই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির মোকাবেলা করতে সক্ষম। প্রতিক্রিয়াশীলরা চায় অপেক্ষাকৃত কম মেধাসম্পন্ন দুর্বল নেতৃত্ব। যে কারণে কেউ কেউ সোনিয়া গান্ধীকেও Liability বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এতদিন নেতৃত্ব দিয়েও সোনিয়া গান্ধী ''Mrs G. The bahu Jo saas jaisa” হতে পারেননি।
অথচ এদের যদি হেডম থাকত তাহলে বিদেশী বংশোদ্ভূত সোনিয়া গান্ধী এতদিন নেতৃত্ব দিতে পারতেন না। কারণ সোনিয়া গান্ধী পরিবারের প্রতিনিধি, যে পরিবারকে ইংল্যান্ডের রাজপরিবার বা যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। হয়ত বলা হবে এতদিন কোন মোদি ছিল না বলেই। এটা যেমন সত্য তেমনি সত্য হলো দেশে দেশে আজ ধর্মের নামে যে মৌলবাদী, অধর্মাবাদীদের উত্থান ঘটেছে মোদি তাদের প্রতিনিধি অর্থাৎ যতটা না নেতৃত্বের জোরে তারচে বেশি হিন্দুত্ববাদিতার জোরে। মোদি যেভাবে কপালে রক্তলাল তিলক এঁকে রাজনীতি করছেন সেক্যুলার কংগ্রেস নেতা রাহুল হোক আর যেই হোক, তাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়।
তবে এটা ঠিক, মোদি যেভাবে কংগ্রেসকে এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বকে তুলোধুলো করেছেন রাহুল তার ১০% বিজেপি বা মোদিকে আক্রমণ করতে পারেননি। বলা হয় ‘রাহুল অতিমাত্রায়’ ভদ্র। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভাষায় 'Rahul’s style of politics is liberal, but not opaque (জড়বুদ্ধি)।” সে তুলনায় ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকরা বরং শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যেই ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনীর চেহারা, সাহস, বাচনভঙ্গি, ব্যক্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন। বিগত নির্বাচনকালে অল্প ক’দিনের জন্য মা সোনিয়া গান্ধী ও ভাই রাহুল গান্ধীর রায়বেরেলি ও আমেথি আসনে যেভাবে জনসংযোগ করেছেন, প্রচার কার্য চালিয়েছেন এবং যেভাবে মোদির আক্রমণের জবাবে প্রতি আক্রমণ করেছেন ‘ইট কা জবাব পান্থরসে’ তাতে, প্রিয়াঙ্কা সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন। আমাদের মতো দেশে ভোটাররা এটাই পছন্দ করে এখন। কিন্তু তিনি সর্বক্ষণিক রাজনীতিতে আসবেন কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ১৯৯৯ সালের নির্বাচনী প্রচারকালে BBC কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন ' I am very clear in my mind. Politics is not strong pull, the people are. And I can do things for them without being in politics. কিন্তু তারপরও তিনি সব সময় রায়বেরেলি এবং আমেথিতে যেতেন, সেখানকার মানুষের সঙ্গে মিশতেন, সেখানে তাকে ঘিরে মানুষের বিরাট সমাবেশ হতো এবং তিনি সাংঘাতিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। গত কয়েকটি নির্বাচনে তাকে ঘিরে একটি খুব জনপ্রিয় স্লোগান ওঠে ''Amethi ka danka, bitiya Priyanka”.. প্রিয়াংকা দেখতেও দাদি প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরার মতোই প্রিয়দর্শিনী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই অঞ্চলের মানুষ স্বভাবজাতভাবে Anti-establishment (ক্ষমতাসীনদের বিরোধী) এবং দ্রুত পরিবর্তন চায়। যদিও কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম এমন পরিবর্তন হজম করতে হচ্ছে। ক্ষমতার রাজনীতিতে কংগ্রেস এ অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের এবং সবচে প্রাচীন রাজনৈতিক দল-দলটি ১৮৮৪ সালে বাঙালী উমেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে জন্ম লাভ করে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগের জন্ম আরও পরে- মুসলিম লীগ ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহর হাতে ১৯০৫ সালে এবং আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্মলাভ করে। এই তিনটি দল তিনটি দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেয়। কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতা, মুসলিম লীগ পাকিস্তানের এবং বঙ্গবন্ধু মুজিবের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেন। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে অন্য দু’টি দেশের সংগ্রামের পার্থক্য আছে- পাকিস্তান ও ভারত জিন্নাহ ও গান্ধীর নেতৃত্বে আলোচনার টেবিলে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করতে হয় এবং যে যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ৬ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি জীবনহানি হয়। আবার কংগ্রেসের সঙ্গে অপর দুটি দলের পার্থক্য হলো কংগ্রেস দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং পাকিস্তানে মুসলিম লীগ দীর্ঘ সময় মিলিটারির মার খেয়ে ক্ষমতার বাইওে থাকতে হয়। যদিও এ মুহূর্তে দুটি দলই দুই দেশের ক্ষমতায়। কংগ্রেস মাঝে এক-দুইবার ক্ষমতাচ্যুত হলেও অতি অল্প দিনেই আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। ১৯৪৭-এর পর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু, তারপর একাধিক হাত ঘুরে প্রধানমন্ত্রী হন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরী অবস্থা ঘোষণা করার পর দলের প্রথম ভরাডুবি হয় এবং সেবার কংগ্রেস ১৫০ আসন লাভ করে এবং ইন্দিরা গান্ধী এবং পুত্র সঞ্জয় গান্ধীও পরাজিত হন। তবে মাত্র ২ বছর। এ সময়টাতে বিজেপি ক্ষমতায় আসলেও সরকার চালাতে ব্যর্থ হয় এবং ২ বছরের মাথায় বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হয়, ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস পুনরায় ক্ষমতায় আসে। তারপর ইন্দিরা গান্ধীর assassination রাজিব গান্ধীর রাজনীতিতে আগমন ও রাজীব গান্ধীর assassination (হত্যা), সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর রাজনীতিতে আগমন, এভাবে উত্থান-পতনের মাধ্যমে ভারতের রাজনীতির বটবৃক্ষ INDIAN NATIONAL CONGRESS (I) এগিয়ে চলে। কিন্তু এবার যা ঘটল তা পরাজয় বা পতন নয়- বিপর্যয়। এ থেকে উঠে দাঁড়ানো একটি চ্যালেঞ্জ বটে। কেননা, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নির্বাচনে যেসব দুর্নীতির অপবাদ মোদি তুলেছেন এবং জনগণ বিশ্বাস করছে তার মধ্যে রয়েছে :
কয়লার খনি ইজারা-১৯৪টি ব্লক ইজারা দেয়া হয়। তাতে অভিযোগ ওঠে পৌনে দুই লাখ কোটি রুপি (ভারতীয় টাকা) লোকসান দিতে হয়েছে।
২০০৮ সালে (২০০১ সালের দামে) যে সব টেলিকম লাইসেন্স দেয়া হয় তাতেও লোকসান ধরা হয় পৌনে দুই লাখ কোটি রুপি। এই দুর্নীতির নাম দেয়া হয়েছে ‘ The king of all scams”.
এভাবে একটার পর একটা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে কংগ্রেস তথা UPA সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু মানুষ মনে করে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দুর্নীতির প্রশ্নে কোন এ্যাকশন না নিয়ে বরং চুপ থেকেছেন। গত নির্বাচনে ভোটাররা প্রধানমন্ত্রীর এই নির্বাক অবস্থানকে ‘নেতৃত্বে দুর্বলতা’ হিসেবে বিচার করেছে। পক্ষান্তরে মানুষ মনে করে মোদি গুজরাটের চীফ মিনিস্টার হিসেবে সে রাজ্যে শিল্প স্থাপনসহ অনেক উন্নয়ন করেছেন। যেমন পশ্চিম বাংলার সিঙ্গুরে টাটার ন্যামো গাড়ির কারখানা করতে দেননি মমতা বন্দোপাধ্যায় কৃষকের জমি যাবে বলে। অথচ মোদি টাটাকে গুজরাট নিয়ে ন্যানো গাড়ির কারখানা স্থাপন করেন। এভাবে মোদি করপোরেট বিজনেস হাউজগুলোকে পক্ষে নিয়েছেন, সেই সঙ্গে মিডিয়াকেও। যেমন বলা হয় Modi has done wonders in Gujrat.
এই অবস্থায় কংগ্রেসকে উঠে দাঁড়াতে সময় লাগবে। অবশ্য এরই মধ্যে কংগ্রেস কমিটিতে করণীয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীকার হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ইন্দর মালহোতা মনে করেন ’The Congress party is not going to disappear. The Party has the vitality to reinvent itself. This could be a temporary set অর্থাৎ কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন হবে না। এর নিজেকে তুলে আনার মতো আত্মশক্তি রয়েছে। যা ঘটে গেল তা সাময়িক। ঢাকা ॥ ৬ জুন ২০১৪
লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment